Select Page

‘প্রিন্স’ শিক্ষা হয়ে থাকলে শাকিব খানের জন্য ভালো

‘প্রিন্স’  শিক্ষা হয়ে থাকলে শাকিব খানের জন্য ভালো

নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস প্রিন্স। তার বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান’সহ বেশকিছু অভিযোগ। ঢাকার পুলিশ তাকে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই প্রিন্সের উত্থান কীভাবে? কীভাবে সে এতোবড় সন্ত্রাসীতে পরিণত হলো—সেসবের উত্তর মিলবে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এবং শাকিব খান, তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায়।

সিনেমায় মোট দুটি চ্যাপ্টার দেখা যায়। পুরো সিনেমাই চলে নন-লিনিয়ার ওয়েতে। কিছুটা মিস্ট্রিয়াস নোটে সিনেমা শুরু হলেও প্রিন্সের স্টাইলিশ এন্ট্রির মাধ্যমে সেই মিস্ট্রি মিলিয়ে যায়। এরপর গল্প চলতে থাকে নিজস্ব গতিতে। প্রথমার্ধে প্রিন্সের উত্থানের গল্পটা এক্সপ্লোর করা হয়। এক্ষেত্রে খুবই স্লোলি স্টোরি বিল্ড করা হয়েছে, যা আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। স্লো হলেও এখানে আরেকটা ব্যাপার আছে। পর্দায় প্রিন্সের উত্থানের যে গল্প দেখানো হচ্ছে—তা থেকে কিছু এলিমেন্ট বাদ দেওয়া গেলে এটা আপনাকে খুব বেশি না, প্রায় দুই বছর আগে রিলিজ হওয়া একটা সিনেমার কথা মনে করিয়ে দিবে। গ্যাংস্টারদের উত্থানের গল্পগুলো বোধহয় একইরকম হয়। যাইহোক, স্টোরি বিল্ড করতে এই সিনেমা যথেষ্ট সময় নেয়। কোনো হাই মোমেন্টও তৈরি করতে পারেনা কোনো দৃশ্যই। তবে কিছুক্ষণ পরপর গোলাগুলি মাস্ট। আর কিছু হলেই মেশিনগান বের করার ক্যারিশমা তো আছেই। হ্যাঁ, বিরতির আগে একটা হাই মোমেন্ট আসে, কিন্তু সেটা বিরতির পরেই ঝিমিয়ে যায়। গল্প সেকেন্ড হাফে গিয়ে প্রিন্সের সাম্রাজ্য পরিচালনায় গুরুত্ব দেয়। এখানেও সেই দুই বছর পুরোনো সিনেমাটার ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়। কী মুশকিল! অবশ্য, সেকেন্ড হাফে চিত্রনাট্য খুবই খাপছাড়া মনে হয়। সেটা ক্লাইমেক্সে গিয়ে কিছুটা বেটার হলেও কোনোভাবেই সিক্যুয়েলের জন্য আশাবাদী করে তুলতে পারেনা। যদিও, আজ রিলিজ হওয়া টিজারটাই সিনেমার অন্যতম সারপ্রাইজ হিসেবে ছিলো। সেটা যেহেতু মেকার্সরা রিভিল করেই দিয়েছে, তাই আমি জানিনা থিয়েটারে দর্শকেরা আদৌও আর সারপ্রাইজড হবে কিনা!

সিনেমায় শাকিব খানের কাজ যথেষ্ট ইফেক্টিভ। পর্দায় উনি বরাবরই আলাদা চার্ম নিয়ে আসেন। ফারজানা সানের করা কস্টিউমে শাকিব খানকে পুরোটা সময় বেশ স্টাইলিশ লেগেছে। তবে সে তুলনায় পিছিয়ে আছে সিনেমার দুই নায়িকা। এই দুইটা চরিত্র সিনেমা থেকে বাদ দিলে যে খুব বেশি ক্ষতি হতো—এমন না। বরং তখন স্ক্রিনপ্লে আরও টানটান হওয়ার সুযোগ পেতো। যেহেতু দুটি চরিত্রই আছে সেহেতু তাদের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলি। তাসনিয়া ফারিণ খুবই কম স্ক্রিনটাইম পেয়েছেন। যেটুকু সময় পর্দায় ছিলেন, ঠিকঠাক কাজ করেছেন। শাকিব খানের সাথে ওনার রসায়ন বোঝার মতো সময় এখানে দেওয়া হয়নি। যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি কলকাতার নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু। জ্যোতির্ময়ীকে পর্দায় বেশ মিষ্টি লাগছিলো। উনিও নিজের চরিত্রে ঠিকঠাক ছিলেন। শাকিব খানের সাথে রসায়নও মন্দ লাগেনি, তবে ওনাদের লাভ অ্যাঙ্গেলটা বোধহয় আরেকটু ভালোভাবে দেখানো যেতো। সিনেমায় আরেকটা মেজর নারী চরিত্র প্লে করেছেন কলকাতার পিয়ান সরকার। উনি সাবলীল থাকলেও মাঝেমধ্যেই ওনি কলকাতার অ্যাকসেন্ট ব্যবহার করছিলেন। এদিক থেকে দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের কাজ বেশ ভালো ছিল। যদিও ওনার স্ক্রিনটাইমও খুব বেশি না। বাকী—রাশেদ মামুন অপু, ড. এজাজ, ইন্তেখাব দিনার, শরীফ সিরাজ, লোকনাথ দে সাবলীল ছিলেন।

সিনেমায় মোট পাঁচটি গান রয়েছে। দুইটা অলরেডি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। সেগুলো শুনতে খারাপ লাগেনি। দিলরুবা চরিত্রের একটা ডান্স নাম্বার আছে, সেটা মনে রাখার মতো না। টাইটেল ট্র্যাকে পরে আসছি, তবে জি. এম. আশরাফের কণ্ঠে একটা স্যাড সং রয়েছে, যেটা বেশ এনার্জেটিক এবং শ্রুতিমধুর লেগেছে। আরাফাত মোহসীন নিধির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর অনেকটা ওকে ওকে লেগেছে।

এই সিনেমায় যথেষ্ট টেকনিক্যাল ব্লান্ডার লক্ষ করা যায়। এই যেমন: ঢাকা বলে ভারত দেখানো, ৯০ দশকে রাউটারের ব্যবহার, গাড়ি কিংবা বাইক রাইডিং সিনগুলোতে গ্রীন স্ক্রিনের ব্যবহার, পুউর ভিএফএক্স ইত্যাদি। যদিও টিজারে মেশিন গান নিয়ে যে সমালোচনাটা ছিল, সেটা ঠিক করা হয়েছে। তবে টাইটেল ট্র্যাক এমন উদ্ভটভাবে ডিজাইন করার আইডিয়া কার ছিল কে জানে। ভিএফএক্স একদমই ভালো ছিলোনা (কে যেনো বললো রেড চিলিস থেকে ভিএফএক্স করানো হয়েছে)। অন্যদিকে, এই সিনেমার ডিওপি হিসেবে ‘অ্যানিমেল’ খ্যাত অমিত রায় ছাড়াও সম্ভবত আরও ৪ জন ছিলেন। তারপরও মনে রাখার মতো সিনেমাটোগ্রাফি এই সিনেমায় খুঁজে পাইনি। আবার, প্রোডাকশন হাউজ মিলি চরিত্রের জন্য অডিশনের যে নাটকটা করলো—সেই চরিত্রটি যে শুধু মুখে মুখেই নিঃশেষ হয়ে যাবে-সেটা ভাবতে পারিনি।

সবমিলিয়ে—এই ছিল আমার দৃষ্টিতে ‘প্রিন্স’। শাকিব খান না থাকলে এই সিনেমার যে কী হতো—তা সহজেই অনুমেয়। এই সিনেমা শাকিব খানের জন্য একটা শিক্ষা হয়ে থাকলে ওনার জন্য ভালো।


Leave a reply