রেকর্ড প্রেক্ষাগৃহে ‘প্রিন্স’ মুক্তি দিয়েও হ-য-ব-র-ল অবস্থা
দেশে নিয়মিত সিনেমা হলের সংখ্যা নেমে এসেছে ১০০-এর নিচে। তবে মাল্টিপ্লেক্সসহ ঈদের মৌসুমে সেই সংখ্যা ১৫০-এ গিয়ে ঠেকে। এবার ঈদে মোটামুটি সব সিঙ্গেল স্ক্রিন দখল করে রেখেছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ও শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আ টাইম ইন ঢাকা’। মনোপলির এ বাজারে বাকি চার সিনেমাও গুণমান সমৃদ্ধ হলেও গুটিকয়েক মাল্টিপ্লেক্স স্ক্রিন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

অন্য সিনেমাকে কোনঠাসা করা অবস্থায়ও প্রথম দিন হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েছে প্রিন্স। সময়মত ডিসিপি জমা দিতে না পারায় প্রথম দিনে কোন শো রাখেনি স্টার সিনেপ্লেক্স। আবার সার্ভারের ছবি না দেয়ায় অনেক সিঙ্গেল স্ক্রিন দুপুর পর্যন্ত ছবি প্রদর্শন করতে পারেনি। আবার কিছু প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা চলেছে, সেখানে বেশ লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে দর্শকদের। কিন্তু সাউন্ড নেই।
‘প্রিন্স: ওয়ান্স আ টাইম ইন ঢাকা’র শুরু থেকেই দেখা গেছে পরিকল্পনার অভাব। এর বদলে প্রি প্রোডাকশন নিয়ে নির্মাতারা নিজেদের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। পত্রিকা নিয়মিত খবর হয়েছে বলিউডে গিয়ে কোন কোন তারকার সাথে তাদের দেখা হয়েছে।
এছাড়া কূটনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রোডাকশনের সবকিছু ছিল ভারতককেন্দ্রিক। ফলে একাধিকবার সময় পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় হয়েছে কিছু অংশের শুটিং। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ভিসার জটিলতা কাটে, তখন তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন হয় বাকি শুটিং।
কিন্তু গোল বাদ চূড়ান্ত প্রিন্টে। পোষ্ট প্রডাকশন বিলম্বিত হওয়ায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আ টাইম ইন ঢাকা’ ঈদের তিনদিন আগে কোনোমতে জমা দিয়ে সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পায়। কিন্তু তখনো বাকি ছিল সিনেমার আইটেম গান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হল মালিক টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, অধিকাংশ সিনেমা হলে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে এক যুগের বেশি সময় ধরে। সম্প্রতি তারা আগের সার্ভার বদলে নতুন সার্ভার দিয়েছেন। কিন্তু নতুন সার্ভারে ছবি চালাতে গিয়ে হল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। অধিকাংশ হলে ছবি চলছে না। যেখানে চলছে সেখানে শব্দ আসছে না। আবার অনেক হল মালিক ফাইল পেয়েছেন কিন্তু ছবি চালানোর জন্য পাসওয়ার্ড পাননি। এমনকি অনেক হলের সার্ভারে ২১ মার্চ দুপুর পর্যন্ত ছবিই আপলোড হয়নি।
টেকের হাট সোনালী সিনেমা হলের মালিক রাহুল খান জানান, তিনি কয়েক লাখ টাকা দিয়ে ‘প্রিন্স’ নিয়েছেন ঈদে চালানোর জন্য। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত সার্ভারে ছবিই লোড হয়নি। তিনি দুপুরের শোয়ের ১৫ হাজার টাকার টিকেট বিক্রি করেছিলেন। তা ফেরত দিয়েছেন দর্শকদের। এর আগে সকালের শো চালাতে না পারায় বিক্ষুদ্ধ দর্শকরা তার হলের চেয়ার ভেঙেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও ‘প্রিন্স’-র কোনো ডিসিপি (ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন) ফাইল পায়নি। ২১ মার্চ দুপুর ২টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় হলটির মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ঈদের পাঁচটি ছবিই তারা চালাতে চেয়েছেন। দুঃখজনকভাবে দুপুর পর্যন্ত তাদের হাতে ৪টি ছবির ফাইল আসলেও ‘প্রিন্স’র আসেনি।
তিনি বলেন, “ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে হল মালিকরা আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়। কারণ এ সময়ে প্রচুর দর্শক সিনেমা দেখতে হলে যায়। কিন্তু আমরা গতকাল (২০ মার্চ) রাতে পেয়েছি তিনটি ছবির ফাইল। সকালে পেয়েছি ‘প্রেশার কুকার’-র ফাইল। এখন পর্যন্ত ‘প্রিন্স’ আমাদের কোনো ফাইল দিতে পারেনি।”
মেসবাহ আরও বলেন, ‘প্রযোজকরা ঈদে ছবি মুক্তি দিতে চান। কিন্তু তারা ঈদের দিনেও ছবির ফাইল দিতে পারেন না। ব্যাপারটা দুঃখজনক। এতে করে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।’
‘প্রিন্স’-র পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে পরিচালক অনন্য মামুনের প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। হল মালিকরা, এ পরিস্থিতির জন্য অনন্য মামুনকে দোষারোপ করছেন। তারা ৩-৪ দিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করে তার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবেন বলে টাইমস অব বাংলাদেশের কাছে জানান।
এমন তাড়াহুড়ার মধ্যে নির্মিত সিনেমাটি প্রথম দিনে মিস করবেন ট্রেন। এখন দেখার যারা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আ টাইম ইন ঢাকা’ দেখলেন তারা আসলে কী দেখলেন!






