Select Page

স্বপ্নের পৃথিবীর সালমান শাহ

স্বপ্নের পৃথিবীর সালমান শাহ

বিলাসের পৃথিবী ছেড়ে মাটির পৃথিবীতে নেমে এসেছিল সালমান শাহ। রাজপ্রাসাদের অগণিত সম্পদ, বিলাসিতা তাকে আটকাতে পারেনি। কারণ সে মানুষের সাথে থাকতে চেয়েছিল।

বাবা রাজিব রাজতন্ত্রের ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিল। প্রজা মানেই তার কাছে ছোটলোক। তাই বড়লোকি মেজাজ দেখিয়ে ছোটলোকদের পায়ের তলায় পিষে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। সালমান ছিল তার একদম উল্টো। প্রজাদের সাথে মিশে তাদের জীবনকে উপলব্ধি করতেই তাদের সাথে বসবাস করতে চায় সে। একসময় তাকে সেখানেই যেতে হয়।

প্রজাদের সাথে মিশে যাবার পর সালমান সেখানেই একটা স্বপ্নের পৃথিবী খুঁজে পায় যেখানে একাধিক সম্পর্কে সে জড়িয়ে পড়ে। আসাদ তার ভাই ববিতা তার ভাবী অমল বোস তার দাদু। আর শাবনূর তার প্রেয়সী। রাখালের মতো বাঁশি বাজিয়ে সে অপেক্ষা করে প্রেয়সীর আর শাবনূর গান ধরে ‘ঐ বাঁশির সুরে বুকের ভিতরে কেমন কেমন জানি করে।’ বৃষ্টিতে বুদ হয়ে সালমান নাচে তার প্রেয়সীর সাথে-‘বৃষ্টি রে বৃষ্টি আয় না জোরে/ফিরে যাবো না আজকে ঘরে।’ বৃষ্টি যেন তাদেরকে বিভোর করে দেয় প্রেমে।

বাবা রাজিবের সাথে খোলা মাঠে প্রজাদের একজন প্রতিনিধি হয়ে কথা বলে সালমান।

  • আমি আমার স্বপ্নের পৃথিবী ছেড়ে কোথাও যাব না, আব্বাজান। এটা আমার কাছে স্বর্গ।
  • এই তোমার স্বপ্নের পৃথিবী? এই দুর্গম এলাকাকে তুমি স্বর্গ বলছ? প্রজা কখনো রাজার বন্ধু হতে পারে না।
  • ভুল বললেন, আব্বাজান। এরা যদি আপনার ঐশ্বর্য আর ক্ষমতার উৎস হয়ে থাকে তাহলে এরাই আপনার প্রকৃত বন্ধু। উঁচুতলা থেকে নিচুতলায় নেমে আসুন। এদেরকে বন্ধু বলে বুকে জড়িয়ে নিন।
  • এদের মতো ছোটলোকদের কি করে শায়েস্তা করতে হয় তা আমি ভালো করে জানি।
  • ভুল করছেন, আব্বাজান। আজকের পর আপনার কোনো লোক এদের ওপর অত্যাচার করে ফিরে যেতে পারবে না এটা আমার চ্যালেঞ্জ।
  • বেশ আমি তোমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম।

প্রাসাদ ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে থাকে না। নিরীহ এক বোনের উপর নির্যাতনের অভিযোগে মেরে প্রজারা আলাদা করে সালমানকে কিন্তু সালমানের মনে কোথাও একটা খটকা থাকে। ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সালমান আবার মিশে যায় প্রজাদের সাথে তখন রাজিব তার চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতা দেখায়। প্রেমের পরীক্ষায় নামে শাবনূর। বন্দী থাকা সালমানকে বাঁচাতে শাবনূর আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যায়। আগুন তাকে টলাতে পারে না প্রেমের অগ্নিপরীক্ষায়। সালমান তাকে জড়িয়ে ধরে বলে-‘তোমার এ ত্যাগ ইতিহাস হবে।’ তারপর রাজিব প্রজাদের পদতলে পিষ্ট হতে থাকে। রাজিবের হাতেই সালমানের মায়ের মৃত্যু হয়, মৃত্যুর আগে সালমানকে বুকে জড়িয়ে মাতৃত্বের ক্ষুধা মেটায়। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় রাজিবের। সালমান বলে ইতিহাসের কোনো খলনায়ক জনতার হাত থেকে রেহাই পায়নি।

যে রাজপোশাকে সালমান শাহকে ছবিতে প্রথমে দেখা যায় সেখান থেকে বেরিয়ে সালমান সেই স্বপ্নের পৃথিবীতে যাত্রা করেছে যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, যেখানে সবার সাথে সবার একজন হয়ে সে থাকতে পারবে। যে কল্যাণ রাষ্ট্রের কথা আমরা বইয়ে পড়ি, ইউটোপিয়ান স্বপ্নের কথা ভাবি সেটার বাস্তবায়ন হয় না সালমান শাহ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ ছবিতে হয়ে উঠেছে ঠিক সেই রাষ্ট্রগঠনের একটা উপাদান।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply