Select Page

এক ছবিতে কালজয়ী ফারহানা মিলি

এক ছবিতে কালজয়ী ফারহানা মিলি

রাইতভর দু’চোখের পাতা এক হয়নি পরী নামের মেয়েটির। অচিন মানুষ তাকে জাদু করেছিল। তারপর সমাজ-সংসারের ভয় কাটিয়ে সে নৌকা বেয়ে একাই চলে গিয়েছিল অচিন মানুষ সোনাইর কাছে। নিজের মনের কথা বলেছিল আর তার নাম জানতে চেয়েছিল। সেই অচিন মানুষ সোনাইর প্রেমে পড়ে পরীর জীবন অন্যরকম হয়েছিল। তারপর সে তার স্বপ্নেই বিভোর ছিল। গানে গানে বলেছিল-‘যাও পাখি যারে উড়ে/তারে কইও আমার হয়ে/চোখ জ্বলে যায় দেখব তারে।’ নিষ্পাপ প্রেম পূর্ণতা পায়নি। মশাল হাতে তার জন্য নদীর এপারে অপেক্ষা করেছিল কিন্তু সোনাই আসেনি। তার অব্যক্ত কথা গানে গানে প্রকাশ হয়েছিল-“উজানে ভাসাইলাম নাও /ভাটি কোথাও নাই/আমি আমার ছিলাম নাকি/তুমি কোথাও নাই।”

সেই পরী, সোনাইর পরী-র নাম ফারহানা মিলি।
এক ছবিতেই কালজয়ী হয়ে যাওয়ার ভাগ্য ক’জনের হয়? ফারহানা মিলির হয়েছিল। ‘মনপুরা’ ছবির নায়িকা। ছবি মুক্তির পর তার সরল সুন্দর ইমেজ সর্বস্তরের দর্শককে মুগ্ধ করেছিল।

‘মনপুরা’-র নায়িকা ফারহানা মিলি প্রথমত গিয়াস উদ্দিন সেলিম-এর ছবিতে অভিনয়ের জন্য রাজি ছিল না। প্রথমত ‘না’ করে দিয়েছিল। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘রমিজের আয়না’ নাটকের সেটে গিয়াস উদ্দিন সেলিম মিলিকে প্রস্তাব করেন ‘মনপুরা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। কিন্তু টিভি নাটকের নির্মাতার ছবিতে কাজ করতে চায়নি মিলি।

মিলির আগে আফসানা মিমি ও প্রভাকে প্রস্তাব করা হয়। মিলি ‘সোহাগ ক্লাসিক’-এর একটি বিজ্ঞাপন করেছিল তখন। কিছুদিন পরে আবারও তাকে গল্পটা শোনানো হয় ছবির। গল্প শুনে মিলি পছন্দ করে এবং হ্যাঁ বলে দেয়। স্ক্রিনটেস্ট নেয়া হয় তার। ছবি মুক্তির পর ব্লকবাস্টার হলে মিলির নাম পড়ে যায় সারাদেশে। তার পরিবার খুব খুশি ছিল। তার পরিবার ছবিটি একসাথে দেখেছিল সিনেমাহলে।

‘মনপুরা’-র সাথে মুক্তি পেয়েছিল শাকিব খানের ‘মিয়া বাড়ির চাকর’ ছবিটি। মিলিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল পুরোদস্তুর নাচ-গান-ড্রামার বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করার আগ্রহ তার আছে কিনা। উত্তরে বলেছিল-‘আমার কাছে ছবি দুই রকমের ভালো ও খারাপ ছবি। আমি ভালো ছবিতে কাজ করতে চাই।’ কিন্তু না, এত ভালো প্রতিভা থাকার পরেও মিলিকে আর চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি।

‘মনপুরা’-তে অনবদ্য অভিনয় করা মিলি চলচ্চিত্রে পরে আর নিয়মিত হয়নি কিংবা তাকে পরে আর কোনো পরিচালক সেভাবে তুলে ধরার চেষ্টাও হয়তো করেনি। আবার মিলির মনের মতো চরিত্রও হতে সে পায়নি।

তারপরেও ‘মনপুরা’-র ক্লাসিক ‘পরী’ চরিত্রটিতে মিলি সযতনে থেকে যাবে মানুষের মনে।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply