ক্যাকটাস: ওয়ান টাইম ওয়াচ হিসেবে চলে আবার চলেও না
ক্যাকটাস ভাল লাগে নাই।
ভাল লাগে নাই বলে আমার নিজেরও মন খারাপ। ট্রেলারটা ভাল লাগছিলো। শিহাব শাহীন সেই ‘সিন্ডিকেট’ থেকে একটা ভাল ফ্লো তে এই ইউনিভার্সটা বিল্ড করে চলছেন। ‘মাইশেলফ এলেন স্বপন’ ছিল দারুন একটা স্পিন অফ, যদিও সিজন টু খুব একটা জমে নাই। ট্রেলারে ‘এলেন স্বপন’র নাম আসায় এইটাকে ধরে নেয়া যায় একই ইউনিভার্সের এবং খুব সম্ভব আগামী সিজনে স্বপন আর মানসিবের ফেস অফ হতে পারে।

আচ্ছা, মানসিবরে নিয়া বলি। হ্যাকার, বুয়েট ড্রপআউট। তবে সিরিজের প্রাইম টাইমে সে জেলে আছে সরকারী ওয়েবসাইট হ্যাকের অভিযোগে। ভাল প্লট। আরো জমে গেলো যখন সরকারের একটা মহল তাকে তাদের স্বার্থে একটা কাজ করতে বাধ্য করে। মানসিবের ‘বি* আটকা’ হলে সে কাজটা করতে রাজি হয়। এরপর সেই মিশনের মাঝখানে সরকারের পতন আই মিন ৫ আগস্ট হয়ে যায়। প্ল্যানে ঝামেলা হয়ে যায়। মানসিব শর্ত ভাঙ্গে সরকারের দাপুটে লিডার লাল ভাইয়ের, তার দেখা হয় রেভুলেশন করা বার্মা বর্ডারের নেত্রী অনুরার সাথে। এরপর আরেক জার্নি।
প্রথমত, গল্পের ব্যাকড্রপ যত স্ট্রংলি সেট আপ করা হলো, সেভাবে স্ক্রিনপ্লে আগাইলো না। মানসিব যেন অনেকটা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া জার্নি করতে নামছে। সেখানে মাঝখানে ঢাকার বাড়িতে কিছু সাসপেন্স আর কিছু রিলেশন বিল্ড আপের চেষ্টা ছিলো। কোনটাই জমে নাই। রহস্যময় শুটার মানসিব আর অনুরারে মারতে পিছু নিছে যারে আলাদা কোন ক্যারেক্টারাইজেশন দেয়া হয় নাই। অনুরার ভাষা দিয়ে খুব একটা কনভিন্সিং পয়েন্টে যাওয়া যায় নাই তার কমিউনিটির। মানসিবের ফ্যামিলি খুব প্রো এক্টিভ। তাদের আবেগ বেশি, বেগ কম। ভাল লেগেছে মানসিবের জেলে যাওয়ার কারণটা। একটা জার্নির মধ্যে দিয়ে কিছু গুটি সরিয়ে কারো কারো স্বার্থ হাসিলের যে চেষ্টা, সেইটা উদ্দেশ্যহীন, অর্থহীনভাবে লম্বা সময় ঘুরাঘুরি করে শেষ। শেষপর্বে শেষ বর্ডারে যাওয়া, ক্লাইম্যাক্স জমানোর যে চেষ্টা, সেইটাও আরোপিত টুইস্ট আর এন্টিরোলের দূর্বলতায় পানি হয়ে গেলো।
চেজিং সিনগুলা ভাল ছিল, মিউজিক ভাল। স্ক্রিনপ্লে খুব একটা এঙ্গেজিং না। এমন অনেক সিন আছে, আপনি না দেখে চা খেয়ে আসতে পারেন। এন্টিরোলের ষড়যন্ত্র বা প্ল্যান কোনটাই এক্সপ্লোর করা হয় নাই।
প্রীতম ভাল কোন এক্টর না, সে শিল্পী। তাই তাকে এক্টিংয়ে রাখলে ন্যাচারাল কিছু পাওয়া যায়, যেটা হুমায়ূন আহমেদ প্রায়ই অনেককে দিয়ে করতেন। অনেকসময় ভালও হতো। শিহাব শাহীন প্রীতমকে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’তে ভাল সিঙ্ক করাইতে পারছিলেন। তবে এইখানে একদমই মানায় নাই। অনেক জায়গা এমেচারিশ লাগছে, অনেক জায়গায় একটা ভাল অভিনেতা না থাকার আফসোস ছিল। ট্রেলারে মেহজাবিনের ফাইট দেখে যারা খুব আশাবাদী ছিলেন, তারা হতাশ হবেন। পুরো সিরিজে মেহজাবিন আর কাউরে অমন পাঞ্চ বা কিক দেয় নাই। তার চেয়ে বড় কথা, মেহজাবিনকে খুব অর্ডিনারী লাগছে, এক্টিং স্পেস খুব একটা ছিল না। প্রীতমকে প্রায় সব সিনে রেখে পরিচালক খুব তৃপ্তি পেলেও পার্টটাইম এক্টর এক্সপোজড হয়ে গেলে যেমন ফাপা লাগে, তাই লাগছে। বাকিদের মধ্যে লাভলু, শাহাদাতকে ভাল লাগছিলো, পরে ফ্লো থাকে নাই। জিলানী ভাল করছেন তবে তারে আরেকটু বিল্ড আপ করা যাইতো। বাকিরা দুধভাত, রেডিমেইড টিপক্যাল ফ্যামিলি ও অতি অভিনয়ের ছড়াছড়ি দেখাইছেন।
লজিক্যাল কিছু লুপহোল ছিল। মেহজাবিনের বাবা হিসেবে শিহাব শাহীবের ব্লাস্ট সিনটা খুব হাস্যকর ছিল। ভাল লাগে নাই অনুরা ক্যারেক্টারের ব্যাকড্রপও। কিছুই জমেও জমে নাই আর কী। ওয়ান টাইম ওয়াচ হিসেবে চলে আবার চলেও না। কেউ বোর হলে দায় দেয়া যাবে না। আমি একটাবারের জন্য এলেন স্বপনরে দেখাটা মিস করছি।
রেটিং: ৪/১০






