Select Page

নায়ক হারিয়ে যায়, বেঁচে থাকে সুর রয়ে যায় ছবি

নায়ক হারিয়ে যায়, বেঁচে থাকে সুর রয়ে যায় ছবি

চুপিচুপি’র ২৫ বছর পূরণ হলো। ২০০০ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিটিভিতে প্রিমিয়ার হয় সিনেমাটির। বলার প্রয়োজন নেই, টিভি সেটের সামনে বসে ছবিটি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। এই ছবিটির জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় দুই বছর।

ফেরদৌস আর প্রিয়াংকা ত্রিবেদাী ‘হঠাৎ বৃষ্টি’তে আমাদেরকে ভিজিয়ে দিয়ে একদম হাওয়া। আমরা তৃষ্ণার্ত পথিকের মতো অপেক্ষা করে ছিলাম, কবে আসবে বাসু চ্যাটার্জীর ছবি। কবে আবার শুনব নচিকেতার সুর।

অবশেষে ২০০০ সালের দ্বিতীয় ঈদুল ফিতরে আসে ‘চুপিচুপি’। এই ছবিটি নয়, বরং ‘হঠাৎ বৃষ্টি’-ই এসেছিল নীরবে। যে ছবির পায়ের শব্দও মুক্তির আগে কেউ পায়নি, মুক্তির পর সেই ছবিই দর্শকদের বুকে চিরকালের জন্য দাগ রেখে গেছে, সিনেমায় রেখে গেছে স্থায়ী পদচিহ্ন।

‘হঠাৎ বৃষ্টি’র পর ফেরদৌস এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যান যে, ‘চুপিচুপি’ যখন মুক্তি পায় তখন তিনি ঢালিউডের ব্যস্ত তারকা বনে গেছেন। ‘চুপিচুপি’র সঙ্গে মুক্তি পায় তার আরো একটি ছবি- ‘এই মন চায় যে…। তাও যেনতেন পরিচালক-প্রযোজকের ছবি নয়। ওই ছবির পরিচালক ছিলেন মতিন রহমান, আর প্রডাকশন হাউজ ছিল আনন্দমেলা সিনেমা।

এই তো গত সপ্তাহে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘এই মন চায় যে’র প্রযোজক সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। বাসু চ্যাটার্জীও ২০২০ সালে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। আর ফেরদৌস? তিনি তো বেঁচে থেকেও নেই!

কী বুঝে যে ফেরদৌস রাজনীতিতে নামলেন। ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র পর মনে হয়েছিল, আরেকজন সালমান শাহকে আমরা পেয়ে গিয়েছি। এই তো সেই তরুণ, সালমানের ফেলে যাওয়া জুতা যার পায়ে খাপে খাপ বসে যাবে।

কিন্তু হায়, ফেরদৌস!

২৫ বছর পরও আমরা ‘চুপিচুপি’র কথা বলছি। কলেজদিনের কথা মনে করে সুখের ব্যথায় ছটফট করে উঠছি। আমরাও তো বলে উঠেছিলাম–’বিকেলের শেষ আলো একটু থাকো, গোধূলীর ছায়া ফেলে যেও নাকো…।

‘সে’ চলে গেছে। রয়ে গেছে ‘চুপিচুপি’। রয়ে গেছে কুমার শানু আর কবিতা কৃষ্ণমূর্তির অমৃতকণ্ঠ।

এভাবেই নায়ক হারিয়ে যায়, মানুষ হারিয়ে যায়, মানসী হারিয়ে যায়। বেঁচে থাকে সুর। রয়ে যায় ছবি।


About The Author

মাহফুজুর রহমান

চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক

Leave a reply