Select Page

প্রিয় মডেল রিয়ার কথা

প্রিয় মডেল রিয়ার কথা

নব্বই দশকে যে মডেলদের বিজ্ঞাপনে পরিচিত মুখ হিসেবে দেখতাম রিয়া তাদের অন্যতম। প্রিয় মডেল। আধুনিক মডেল। ফটোজেনিক ফেস আর মনকাড়া হাসি ছিল। গ্ল্যামারে নায়িকাদের চেয়ে কম কিছু ছিল না। বাংলা ছবির ফাঁকে বিজ্ঞাপন বিরতিতে রিয়ার বিজ্ঞাপনও আমরা দেখতাম।

কোকোলা বিস্কুটের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে ১৯৯২ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিল। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে নাচ শিখেছিল। পেশাদার নৃত্যশিল্পী হিসেবে তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নাচ করতে দেখা গেছে। নৃত্যপটিয়সী ছিল।

কী মিষ্টি মিষ্টি অপলক দৃষ্টি
অপরূপ সুন্দর লাগছে,
এ মনের গভীরে যার ছবি আঁকা আছে
তুমি সেই সুন্দর চোখে ভাসছে…♥
‘হেনোলাক্স’-এর জনপ্রিয় জ্ঞাপনে রিয়া ছিল সুপরিচিত।

‘অ্যারোমেটিক বিউটি সোপ’-এর বিজ্ঞাপনে দেখা যেত একটা পার্টিতে রিয়া একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেলে দেখে তার গলার হারের মতোই ছেলেটির গলায় দেখতে পায়। তারপর ‘স্বপ্ন আসে সত্যি হয়ে’ ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েসে বলে।

মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলির বিজ্ঞাপনে রিয়ার ড্রেসআপ আর লুক এত আধুনিক ছিল যে তাকিয়ে থাকতে হয়। শুকনো পাতা হাতে নিয়ে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয় শীতের শুষ্কতাকে তুলে ধরতে। রিয়ার ওয়ান অফ দ্য বেস্ট বিজ্ঞাপন।

কুড়কুড়ে মুড়মুড়ে কন্টস স্ল্যাকস
মচমচে মজাদার কন্টস স্ন্যাকস..♥♪
‘কন্টস স্ন্যাকস’-এর বিজ্ঞাপনে রিয়ার জিঙ্গেল ছিল এটা।

লালবাগ হাঁসমার্কা নারিকেল তেলের বিজ্ঞাপনে রিয়া ছিল ডাবল রোলে। দাদী আর নাতনীর রোলে। দাদী বলত লালবাগ তেলের গুণাগুণ।

এছাড়া পেইলাক রং, সুইস লাইন নেইল পলিশ, ভেনাস জুয়েলার্স, প্রিন্স সাইকেল, মোস্তফা টি-সহ আরো অনেক প্রোডাক্টের মডেল হয়েছিল।

রিয়াজের বিপরীতে ‘মনের মধ্যে আকাশ’ টেলিফিল্মটি জনপ্রিয় হয়েছিল। এসডি রুবেলের জনপ্রিয় গান ‘পাখিদের নীড়ে ফেরা গোধূলিবেলায়’ গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। রিয়ার সুন্দর কিছু অভিব্যক্তি গানটিতে আছে। ফারিয়া হোসেন, মোহন খান-সহ সেই সময়ের ব্যস্ত পরিচালকদের সাথে কিছু নাটকে কাজ করেছিল রিয়া।

এখনকার দিনে বিজ্ঞাপনও সস্তা হয়ে গেছে। ভালো লাগা কাজ করে না। তখনকার সময় বিজ্ঞাপন দেখতেও ভালো লাগত আর রিয়ার মতো মডেলদের দিকে আমরা তাকিয়ে থাকতাম। রিয়া আমাদের সুন্দর স্মৃতির অংশ হয়ে থাকুক।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply