
মনে দাগ কাটা ‘দাগি’
[স্পয়লার নেই]
নিশান এবং জেরিন একে অপরকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু ঘটনাচক্রে নিশানকে যেতে হয় জেলখানায়। লম্বা সময়ের সাজা খেটে জেলখানা থেকে ফিরে এসে নিশান দেখে যে তার রেখে যাওয়া পৃথিবীটা একদম বদলে গেছে। সেই বদলে যাওয়া পৃথিবীটা নিশানের জন্য এক বিস্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার নিশান কী করবে? কোনদিকে অগ্রসর হবে তার জীবনযাত্রা?-এসবকিছুর উত্তর মিলবে শিহাব শাহীন পরিচালিত এবং আফরান নিশো, তমা মির্জা, সুনেরাহ বিনতে কামাল (বিশেষ ভূমিকায়) অভিনীত ‘দাগি’ সিনেমায়।

পরিচালক শিহাব শাহীন অলমোস্ট ১০ বছর পর বড়পর্দায় ফিরলেন। ফেরার জন্য তিনি বাছাই করলেন ‘দাগি’কে। কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক আবেগের মিশ্রণে কমার্শিয়াল স্টাইলে নির্মিত সিনেমা ‘দাগি’। ‘দাগি’র গল্পে সমাজকে বানানো হয়েছে প্যারামিটার। “ভালো কিছু নয়, সমাজের লোকজন খারাপটাকেই মনে রাখে”-‘দাগি’র অন্যতম হাইলাইটেড পয়েন্ট এটাই। প্রথমার্ধের প্রত্যেকটি সিক্যুয়েন্সকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন নির্মাতা, যার দরুন আমরা গল্পের সাথে বেশ কানেক্টেড ফিল করতে পারি। আফরান নিশো-তমা মির্জা কিংবা আফরান নিশো-সুনেরাহ দুই জুটির মধ্যকার সিক্যুয়েন্সগুলো ভীষণ রকমের মিষ্টি লেগেছে। এর ফলে পরবর্তীতে ছোট ছোট মোমেন্টগুলোতেও ইমোশন কাজ করেছে। ছিল বেশ ভালো কিছু সংলাপ। “আল্লাহর দুনিয়ায় সবই সুন্দর, আকাশ সুন্দর, বাতাস সুন্দর”, “আদালতের শাস্তি ভোগ করছে সে, সমাজের শাস্তি এখনও বাকি” কিংবা “আপনি নিশান না? দেখতে তো মানুষের মতোই!”-এই সমস্ত সংলাপগুলো যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে পুরো সিনেমাজুড়ে। তবে সেকেন্ড হাফে গিয়ে গল্প কিছুটা রাস্তা বদল করে। প্রথম হাফের তুলনায় সেকেন্ড হাফ একটু বেশিই কমার্শিয়ালাইজ করার চেষ্টা ছিল নির্মাতার মধ্যে। তবে এই অংশের কিছু কিছু সিক্যুয়েন্স তুলনামূলক কম সময় ডিমান্ড করে। কিন্তু অভিনয় এবং উপস্থাপনা ভালো হওয়ায় খুব একটা চোখে লাগেনি। বেশকিছু মিষ্টি মোমেন্ট সেকেন্ড হাফেও ছিল। ছিল প্রায়শ্চিত্তের গল্প। এবং আমাদেরকে অনেকটা ভাবনায় (পজিটিভ অর্থে) ফেলেই ‘দাগি’ শেষ হয় একটা সুন্দর নোটে।
অভিনয়ে আফরান নিশো এগিয়ে থাকবেন। নিশান চরিত্রটার জন্য আফরান নিশো কতোটা খেটেছেন সেটা পর্দায় বেশ ভালোভাবেই বুঝা যাচ্ছিলো। দুই রকমের লুক এবং দুই রকমের ব্যাক্তিত্ব পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নিশো। নিশো বেশ মিনিংফুল ওয়েতে ডায়লগ ডেলিভারি করেছেন। এক্সপ্রেশনও ছিল যথাযথ। গাজী রাকায়েত বেশ ইমপ্রেসিভ কাজ করেছেন। তমা মির্জা আরও একবার নিজের অভিনেত্রী সত্ত্বাকে সামনে আনলেন। নিশোর সাথে ওনার রসায়নও বেশ ভালো ছিল। সুনেরাহ যতোগুলো সিক্যুয়েন্সে ছিলেন সবগুলোই বেশ মিষ্টি লেগেছে। নিশোর সাথে সুনেরাহ’র এজ গ্যাপটা পর্দায় ভিজিবল হলেও গল্পের সাথে সেটা ভালোভাবেই মানিয়ে গেছে। শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপুও দারুণ কাজ করেছেন। বাকি মনিরা মিঠু, মনোজ কুমার প্রামাণিক’সহ সবার অভিনয়ই যথাযথ ছিল।
এই সিনেমায় মোট গান ছিল ৩টি। তাহসান খান এবং মাশা ইসলামের কণ্ঠে “একটুখানি মন” আমার ব্যাক্তিগত পছন্দের। জেফারের গাওয়া গানটিও সুন্দর। গানটির প্লেসমেন্টও যথাযথ। এছাড়াও ট্রেইলারে যে গানটার কিছু অংশ শোনা গিয়েছে, সেটা বেশ শ্রুতিমধুর ছিল। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ বেশ ভালো হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি চোখের আরাম দিয়েছে। কিছু কিছু ভিজ্যুয়ালস্ বেশ ভালো ছিল। কালার গ্রেডিং যুতসই।
এবার নেগেটিভ দিকগুলোতে আসি। ফার্স্ট হাফে গল্প কিছুটা প্রেডিক্টেবল ছিল। যদিও সেটার উপস্থাপন ভালো। সেকেন্ড হাফ বোধহয় আরেকটু ছোট করা যেতো। কিছু সিক্যুয়েন্সে সময় কমানো যেতো।
সবমিলিয়ে এই ছিল আমার দৃষ্টিতে ‘দাগি’। শিহাব শাহীন এবং আফরান নিশোর ফেরাটা কতোটা ইমপ্যাক্টফুল-সেটা জানতেই ‘দাগি’ দেখুন সিনেমাহলে।