শক্তিশালী পলিটিক্যাল স্যাটায়ার ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাঁনখারপুল’
আকাশ হক নামের উদীয়মান পরিচালকের ছবি ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাঁনখারপুল’। ছবির স্টোরি ও প্রেজেন্টেশনের যে দক্ষতা তাতে এ নির্মাতাকে চিন্তার দিক থেকে যথেষ্ট ম্যাচিউর মনে হয়।

ছবির থিম এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেটি যে-কোনো সময়ের পলটিক্যাল সিচুয়েশনের সাথে মানানসই। পলিটিক্স কিভাবে গ্রাউন্ড লেভেল থেকে সেন্ট্রাল পর্যন্ত চলে, তার বেজমেন্ট কিভাবে তৈরি হয় এটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরার জন্য যে ফর্মটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি স্যাটায়ার। স্যাটায়ার যেনতেন ভাবে দেখানো হয়নি বরং স্ট্রংলি দেখানো হয়েছে।
ছবির প্রধান চরিত্র দেবদ্যুতি আইচকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে গল্প। পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার গড়া তার স্বপ্ন কিন্তু উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছিল না। একদিন হঠাৎ একটা ঘোড়া তার সামনে আসে এই ঘোড়াই কিভাবে তার পলেটিক্যাল ক্যারিয়ারকে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করল সেটাই গল্পের সিঁড়ি এ ছবির।
একজন ছাত্রনেতাকে ঘিরে বাকি যারা থাকে তাকে সমর্থন দেয়ার জন্য তাদের প্রধান অস্ত্র হয় তোষামোদি। সেই তোষামোদির যে চিরাচরিত অ্যাঙ্গেল ‘ভাই, আপনার জন্য করব না তো কার জন্য করব, আপনার জন্য জান হাজির, আপনাকে নিজের মনে করি’ এরকম ল্যাংগুয়েজ প্যাটার্ন কমন। এই বলয়টি কত স্ট্রংলি কাজ করে ছবিতে তা উঠে এসেছে।

স্যাটায়ারে সংলাপের গুরুত্ব প্রধান। সংলাপের মাধ্যমে উঠে আসবে ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা কাজ করছে ছবিতে। এ ছবির প্রায় ৯৫% সংলাপের মধ্যেই টিপিক্যাল পলিটিক্যাল কালচারকে স্যাটায়ার করা হয়েছে। দর্শকের হাততালি আর দৃশ্য ও সংলাপের সাথে চিরপরিচিত পলিটিক্সকে কানেক্ট করতে পারার পরিবেশ দেখলেই সেটি স্পষ্ট হয়। স্যাটায়ারের দিকটি ‘সহমত ভাই’ গানের মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিভার্সাল পলিটিক্যাল অ্যাঙ্গেলকে আমাদের চোখে দাঁড় করিয়েছে স্যাটায়ারের মাধ্যমে।
ছবির শেষ দৃশ্যটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। পলেটিক্সে কিভাবে একজনের জায়গায় অন্যজন প্রয়োজনমাফিক ও স্বার্থকেন্দ্রিক দরকারি বস্তু হয়ে ওঠে এটা ছিল খুবই সূক্ষ্ম একটি পয়েন্ট।
সব চরিত্রের ন্যাচারাল অভিনয় ছবিটিকে দারুণ জায়গায় দাঁড় করিয়েছে।
একজন সচেতন দর্শক যখনই ছবিটি দেখবেন তিনি পরতে পরতে বুঝতে পারবেন পলিটিক্স তো এভাবেই দানা বাঁধে। এই যে দর্শকের সাথে কানেক্ট করার সূক্ষ্ম দিকটি এখানেই ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাঁনখারপুল’ রিলিভেন্ট হয়ে থাকবে।
রেটিং – ৮/১০






