এন্টারটেইনিং রিমেক ‘স্বজন’
হিন্দি ‘সাজন’ মুভির অফিসিয়াল রিমেক ‘স্বজন’ ছবি। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।

হিন্দির মতোই বাংলাতেও ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। সঞ্জয় দত্ত-মাধুরী দীক্ষিত-সালমান খান তাদের জায়গায় বাংলাটিতে ছিল ইলিয়াস কাঞ্চন-মৌসুমী-রুবেল। রুবেলের জায়গায় পরিচালকের পছন্দ ছিল সালমান শাহ কিন্তু সালমানের অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে ছবিটি করতে পারেনি।
গল্পে দেখা যায় কবিসাগর ইলিয়াস কাঞ্চন গীতিকার যার একজন ভক্ত মৌসুমী। একসময় কাঞ্চনই তাকে ভালোবেসে ফেলে কিন্তু পরিচয় লুকিয়ে। নিজের জায়গায় বন্ধু রুবেলকে নিয়ে আসে নকল হিসেবে এবং মৌসুমী তাকেই ভালোবাসতে থাকে। একসময় আবার মৌসুমী জানতে পারে রুবেল তার ভালোবাসার মানুষ নয়। দুই বন্ধুর দূরত্বের মাঝে আবার মৌসুমী আসে শেষে রুবেল নিজে মৌসুমীকে কাঞ্চনের হাতে তুলে দেয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের গেটাপ ছিল দারুণ আকর্ষণীয়। লম্বা চুলে আর স্মার্ট ড্রেসআপে কাঞ্চনকে অসাধারণ লেগেছে। গ্ল্যামারে, অভিনয়ে মৌসুমী ছিল অতুলনীয়া। ছবির নায়িকার সিলেকশনে মৌসুমী শতভাগ পারফেক্ট। রুবেল এ দুজনের থেকে কিছুটা হলেও পিছিয়ে ছিল তবে অভিনয় ভালো করেছে। সালমান শাহ রুবেলের জায়গায় ছবিটা করতে পারলে অবশ্যই অসাধারণ কিছু হত।

হিন্দির সুরে বাংলা গানগুলোর মধ্যে মৌসুমীর লিপে ‘অনেক ভালোবেসে হয়েছি তোমার’ অসাধারণ, গ্ল্যামার ফুটে উঠেছে দারুণভাবে। ‘তুমি কবি আমি তোমার কবিতা’ এ গানেও মৌসুমীর স্টেজ পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। ‘অনেক ভালোবেসে হয়েছি তোমার’ এটার মেল ভার্সনে কাঞ্চন, মৌসুমী, রুবেল তিনজনই ছিল। ‘আমার মন এত পাগল যে’ এ গানটি খুবই সুরেলা ও রোমান্টিক; এ গানে কাঞ্চন ও মৌসুমী ছিল। দুজনের রসায়ন চমৎকার। রুবেলের লিপে ‘আমার ইচ্ছে করে কাছে যাই’ এবং ‘এইতো প্রথম দেখলাম’ ভালো গান। শুধু ‘দেখেছি প্রথম বার’ গানে রুবেলের উল্টোপাল্টা নাচ ছিল হাস্যকর।
হিন্দির সাথে কোনো তুলনা নয়, বাংলা ছবির নব্বই দশকীয় স্বর্ণসময়ের প্রেক্ষাপটে ‘স্বজন’ ছিল উল্লেখযোগ্য সুন্দর এন্টারটেইনিং ছবি।






