Select Page

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটাক্ষ: শাওন, মাহি ও পিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটাক্ষ: শাওন, মাহি ও পিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ‘অবমাননা’, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ এবং ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও মডেল-আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ থানায় পৃথক দুটি সময়ে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলো দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ।

প্রথম অভিযোগ: মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানা

সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত শুক্রবার প্রথম অভিযোগটি দায়ের করা হয়। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করে সাইবার সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় ডিবি’র সাইবার বিভাগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আ ন ম আয়াস, কেন্দ্রীয় সংগঠক তুহিন ফরাজী ও কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা থানায় গিয়ে এই লিখিত অভিযোগ দেন। আবেদনে বলা হয়:

মেহের আফরোজ শাওন: ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত বা সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্র ও আন্দোলন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন।

মাহিয়া মাহি: আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে কটাক্ষ করে তাদের কার্যক্রমকে ‘অভিনয়’ এর সাথে তুলনা করেছেন, যা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

শান্তা ফারজানা: জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ/আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর।

দ্বিতীয় অভিযোগ: পিয়া, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলামসহ ছয়জন

এর ঠিক পরদিনই (শনিবার) একই সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন বাদী হয়ে মডেল পিয়া ও সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই আশরাফ আলীকে। এই অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে:

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া: সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগী হিসেবে আন্দোলনকারী ও আহতদের কটাক্ষ করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আনিস আলমগীর (সাংবাদিক): অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মিলে আন্দোলনকে ব্যাহত করতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ।

সোমা ইসলাম (উপস্থাপিকা): বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলনকে ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য’ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করার অভিযোগ।

মোমিন মেহেদী (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট): ঢাকা প্রেস ক্লাব এলাকায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ এবং শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ।

মারিয়া কিসপট্টা (মডেল): জুলাই আন্দোলনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করার অভিযোগ।

তুষ্টি (মডেল ও অভিনেত্রী): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলনকে ‘প্রতারণার মাস’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ।

পুলিশের বক্তব্য: শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংক্রান্ত, তাই তদন্তকারী কর্মকর্তারা ডিজিটাল উপাদানগুলো পর্যালোচনা ও খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


Leave a reply