Select Page

আমাদের দোলা, আমাদের অশ্রু

আমাদের দোলা, আমাদের অশ্রু

আমি একটা ছোট্ট মেয়ে
অনেক খুশি অল্প পেয়ে
মনে আমার কত খেয়াল খুশি..♥♪

দোলা অল্প পেয়েই খুশি ছিল। অল্প পেয়েই তাকে জীবন পার করতে হয়েছে ভালোবেসে, বিরহে আর মৃত্যুতে।

উত্তরে ভয়ঙ্কর জঙ্গল আর দক্ষিণে না যাওয়াই যার জন্য মঙ্গল ছিল সেই দোলার কথাই বলছি। আমাদের দোলা, আমাদের নায়িকা। যে দোলা মনে দোলা দেয় তার দারুণ চঞ্চলতায় আর মন ভারাক্রান্ত করে দেয় তার না পাওয়ার যন্ত্রণায়।

‘মাথায় বুদ্ধি নাই এক তোলা, আমি দোলা আত্মভোলা’ নিজেকেই গানে গানে বলে সে। বুদ্ধি না থাকার কারণেই এলোমেলো কথা বলে, চপলতা তার স্বভাবে। শ্যাওড়া গাছের পেত্নী হয়ে চোখমুখ উল্টে নায়ককে ভয় দেখায় দোলা তারপর গীতিকার নায়কের লেখা গানের কাগজ আড়াল থেকে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে কারণ ঐ যে ‘মাথায় বুদ্ধি নাই এক তোলা’ ওটার জন্যই। নায়ক তার নাম দেয় ‘দুষ্টু মেয়ে’।

দুষ্টু দোলাকে একদিন সাপে কাটে। তারপর মায়ের আর্তচিৎকার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নায়ক। নায়ক কোনো উপায় না দেখে বিষ চুষে বের করে তারপর জ্ঞান ফিরলে আমাদের সেই দুষ্টু দোলাই বুঝতে পারে কে তাকে বাঁচিয়েছে তারপর নায়ককে বুকে জড়িয়ে নেয়। এ পর্যন্ত গল্পটা দারুণ রোমান্টিক। কিন্তু….

কিন্তু যখনই নায়ককে দোলা বুকে জড়িয়ে নিয়োছিল তখনই তার প্রেমের বাধা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নিকট দূরত্বে ছিল তার প্রেমের বাধা দেওয়ানগঞ্জের দেওয়ান। নিচু জাতের দোলার সাথে উঁচু জাতের দেওয়ান বংশের নায়কের প্রেম যে হতে পারে না। পাগল বানানোর আয়োজন চলে নায়ককে তারপর শহরের পথে নেয়া হয়। দোলা জানতে পেরে ছুটে যায় নদীর পারে কিন্তু ধরে রাখতে পারে না নায়ককে। তার ভালোবাসার কোনো অধিকার কেন নেই সে গানে গানে বলতে থাকে প্রেমের আদালতে যেখানে উকিল বারিস্টার নেই তার ফরিয়াদ শোনার জন্য।

তারপর নায়ককে মনে মনে ভালোবাসা আরেক নায়িকা ভাবনা পাগল নায়কের দায়িত্ব দোলার হাতেই দেয় কারণ ততদিনে সে সেবিকা। এও যে নিয়তি। গাছের আড়াল থেকে বদ্ধ পাগল হয়ে যাওয়া নায়কের পাগলামি দেখতে দেখতে একা অশ্রু বিসর্জন করতে থাকে যেখানে সে তার কথা আর কাউকে বলতে পারে না।

দোলা কি শেষ অব্দি পেরেছিল নায়ককে তার কথা বলতে? গানে গানে পেরেছিল বলতে ‘নিজেকে আমি ভুলতে পারি তোমাকে যাবে না ভোলা।’ নায়কের জ্ঞান যখনই ফিরবে ফিরবে ভাব তখনই ঘাতক দেওয়ানের হাতে তাকে জীবন দিতে হয় তারপর দোলাকেও। রক্ত রঞ্জিত দোলা শুয়ে থাকে নায়কের বুকে।

দোলার শেষ পরিচয় হয় ‘হতভাগী’ কারণ ভাবনা তাকে সর্বশেষ এই নামে ডেকেছিল। নিচু জাতের সামাজিক বাধায় যারা ভালোবেসে শেষ হয় তারা হতভাগী আর কি?

দোলা নায়ককে পেয়েছিল অন্য ভুবনে, স্বর্গে। ছবির শেষে তাদেরকে সেখানে দেখা যায় কল্পনায়, দর্শকের মনকে শান্তি দেয়ার জন্য।

আমাদের দোলা তাই ছবি শেষ করার পর আমাদের চোখের একফোঁটা অশ্রু হয়ে ওঠে। আর সে অশ্রুকে পর্দায় জীবন্ত করেছিল যে সেই শাবনূর আমাদের জন্য আনন্দ হয়ে ওঠে তার অসাধারণ অভিনয়ে।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply