কন্যারা হোক বাঘিনী
‘কন্যা’ শব্দটির মধ্যে অনেক দরদ আছে। অনেক বাবা আছেন যারা তাঁদের মেয়েকে আদর করে ‘কন্যা’ বলেন। বাবার কাছে মেয়েরা ‘রাজকন্যা’-ও হয়। সেই রাজকন্যাসম মেয়েরা যখন ঘরের বাইরে গেলে পরিবেশ-পরিস্থিতির শিকার হয় তখন তারা অনেকে সবার আগে নিজেকে শেষ করার কথা ভাবে। সমাজ কি বলবে, কাছের মানুষেরা পাশে থাকবে কিনা এমন অনেক চিন্তা কাজ করে তাদের কিন্তু তাদের হওয়া উচিত এক একটি বাঘিনী কন্যা। মনোবল ও সাহসিকতা রেখে বাধা টপকে সামনে এগিয়ে যাওয়া বাঘিনীর মতো। সমাজের সেই মেয়েদের বাঘিনী কন্যা হবার প্রেরণা দেয়া ছবি ‘বাঘিনী কন্যা’ যার প্রতিনিধি মৌসুমী।

ধরা যাক একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিংবা ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হয়েছে সে কি করবে? সব মেনে নিয়ে হাসিমুখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে নিজেকে হারিয়ে সমাজকে জিতিয়ে দেবে? তার চেয়ে যদি এমন হয় তার ভেতরের বাঘিনী রূপটা জেগে উঠবে তাহলে কেমন হয়? সেইসব নরপশু, নপুংসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে তাহলে তার মাধ্যমে সমাজের আরো দশটি মেয়ে নিজেদের বাঘিনী মনে করবে এবং রুখে দাঁড়াবে যে যার জায়গা থেকে। হোক তা বাসে কন্ট্রাকটর গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করা বা পেছনের সিটে বসা লোকের ব্যাডটাচ করার চেষ্টা সবগুলোকে রুখে দিতে হবে।
নায়কের হিরোইজম দিয়েই তো আমাদের ছবি প্রতিষ্ঠিত হয় বেশি নায়িকার অবস্থান কমই থাকে বেশিরভাগ। মৌসুমী নায়ক ছাপিয়ে নিজেই প্রধান এখানে। প্রথম দৃশ্যেই রাতে মৌসুমীকে একা পেয়ে অসৎ পুলিশ মিজু আহমেদ যে বাহাস শুরু করে সেখানে মৌসুমীর কড়া জবাব-“আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে চোর উল্টো কোতোয়ালকে শাসন করছে।” মিজু আহমেদ তখনও জানে না মৌসুমী তার উপরের র্যাঙ্কের পুলিশ। পরিচয় জানতে পেরে তার চোখ ছানাবড়া। আপনজন সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব মৌসুমী রাজিবের হত্যাচেষ্টার শিকার হয়ে নিজে হয়ে ওঠে বাঘিনী। তারপর দায়ীদেরকে একের পর এক শেষ হতে থাকে মৌসুমীর হাতে।

‘সারা দুনিয়া জানে সারা দুনিয়া মানে /আমি যে আগুন পানি’ এই গানই বলে কন্যারা যখন আগুন হয়ে ওঠে তখন সে জ্বালিয়ে দেবেই।
মৌসুমীরূপী কন্যারা বাঘিনী হয়ে উঠুক।






