Select Page

ক্ষমতার এ লড়াই শুভ লক্ষণ নয়

ক্ষমতার এ লড়াই শুভ লক্ষণ নয়

ভূমিকা : বাংলা চলচ্চিত্র যে এফডিসি, কাকরাইল সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি সেটা অনেক আগে থেকেই পরিষ্কার।তাদের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ কারোরই ছিল না। তবে এর খপ্পরে যে তাদের বরপুত্র ‌‘মিস্টার সুপারস্টার’ পড়বেন সেটা একদমই অনুমেয় ছিল না। চলুন দেখা যাক এই সার্কাসের প্রত্যেকটা ক্লাউনকে।

শাকিব খান : এমন একটা মানুষ যিনি আপনার পছন্দের লিস্টে থাকুক কিংবা অপছন্দের লিস্টে, আপনি তাকে ইগনোর করতে পারবেন না।তবে এই মহীরুহ হয়ে ওঠার পেছনে ছিল অন্য কিছু। চলুন একটু পেছনে যাই।

তখন সদ্য মান্না মারা গেছে। এফডিসি-কাকরাইল সার্কিট তো অনেক আগে থেকেই ছিল। সাথে এখন গাবতলীর মাস্তানও আছে। অশ্লীলতার মহাসমারোহের মাধ্যমে রুচিশীলদের তাড়িয়ে দেয়া গেছে। তাই এবার আরো ভালোভাবে জেঁকে বসল এফডিসি-কাকরাইল-বুকিং এজেন্ট-গাবতলীর মাস্তানদের সিন্ডিকেটটা। কিন্তু একজন নায়ক তো লাগবে। রিয়াজ, ফেরদৌসরা অশ্লীলতার জোয়ারে গা ভাসানো মানুষ নন। তাহলে? সমাধান একটাই, একজন অশ্লীল যুগের বরপুত্রকে টেনে আনতে হবে। প্রথমে দু-চারটা সুস্থ ছবি করে একটা প্রাইমারি ইমেজ তৈরি করো, তারপর বছরের বারো মাসই দুই-চারটা করে ছবি বানাও ওকে দিয়ে। এটা প্রাইমারি ইনভেস্টমেন্ট। কয়েকটাতো এমনিতেই ব্যবসা করবে, আসল টার্গেট দর্শকের চোখ সওয়া হয়ে যাওয়া। এইভাবে গাছকে বড় করে তোলো তারপর সেখান থেকে ফল খাও।

এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কারণ একজন হিরোকে তৈরি করতে যেকোন ইন্ডাস্ট্রিতেই কোন একটা প্রোডাকশন হাউজ প্রাইমারি ইনভেস্ট করে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের পাশের দেশের রাজ্য কলকাতার উদাহরণই টানতে পারি। এসকে মুভিজ একের পর এক ইনভেস্ট করেছে  অঙ্কুশের পেছনে, ও সরে যাবার পর এখন করছে ওমের পেছনে। কিংবা এসভিএফও একইভাবে করছে অঙ্কুশ, ইয়াশের পেছনে। যাই হোক, এরপর এই স্বাভাবিক জিনিসটাই অস্বাভাবিক হতে শুরু করল। এরপর তাদের তৈরি করা এই হিরোকে ক্ষমতা দিয়ে বোয়াল মাছ হিসেবে তৈরি করল। তারপর একে একে গিলে খেল ইন্ডাস্ট্রির সকল সম্ভবনাময়ী নতুনকে। সেটা কোন সুস্থ উপায়ে নয়। নিউ ওয়েভ পরিচালকদের পরিচালক সমিতিই কোনঠাসা করে ফেলল। বাকি কাজটা করল কাকরাইল আর বুকিং এজেন্টরা। হল না দিয়ে একের পর এক ছবি প্রযোজককে করেছেন সর্বস্বান্ত। জাজকে যদিও বিভিন্ন কর্মকান্ডে গালি দেই, তবুও এটা অস্বীকার করতে পারব না যে এই দুষ্টু চক্রের হাত ভেঙেছে এই জাজই। টোটালি বাইরে থেকে এসে তাদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

যার বেড়ে ওঠা এই নোংরামিতে তিনি তো সেটা উপভোগ করবেনই। তিনিও ক্ষমতা পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করা শুরু করেন। আসলে বুঝতেই পারেননি যে তার এই ক্ষমতা আসলেই কোন ভিতের উপর দাঁড়িয়ে নেই। সিন্ডিকেটের এজেন্ডা বাস্তবায়নেরর পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন শিল্পী সমিতির সভাপতি পদ। হিরোদের মাইনাস করতে করতে নোংরা খেলায় পেয়েছেন এক ঠুনকো স্টারডম।

সত্যি বলতে আজকের ঘটনা আমাকে একবিন্দুও অবাক করেনি। এটা হওয়ারই ছিল। শাকিব খান কখনোই চাননি ওই নোংরামো থেকে বেরিয়ে আসতে। অনেকেই বলেন তিনি বাধ্য হয়ে তাদের সাথে ছিলেন। আসল ঘটনা আমার মনে হয় পুরো উল্টো। তাদের এই নোংরামিটাই তিনি এনজয় করছিলেন। স্বল্পশিক্ষিত হলে যা হয় আরকি। যদি সরে আসার ইচ্ছে থাকতো তাহলে চুপচাপই সরে আসতেন। কিন্তু তিনি তাদের সাথে ক্ষমতা দেখাতে গেলেন। আসলে যেই ক্ষমতার মূলেই রয়েছে তারা, যেই ক্ষমতা পেয়েছেনই তাদের জন্য, সেটা আপনি আর কীভাবে ব্যবহার করবেন। শাকিব নিজেই এই নোংরামির অংশ। না হলে সে তফসিল হওয়া ‘শিল্পী সমিতির’ নির্বাচন বাতিল করতে পারে কোন সাহসে? আমি আজকের নিষিদ্ধ বা বয়কটের ঘোষণাকে একবারও অন্যভাবে দেখছি না। এটা জাস্ট কাঁধের উপর থেকে হাত সরিয়ে নেবার মতো। পায়ের নিচে যে মাটিটা তারা দিয়েছিল জাস্ট সেটা সরিয়ে নিয়েছে। অথবা একটা ক্ষমতার খেলা মাত্র। যেখানে শাকিব শিল্পী সমিতির স্বাভাবিক নির্বাচন বাতিল করে ক্ষমতার খেলার প্রথম চালটা দেয়, কিন্তু পরের চালটায় ধরাশায়ী হয়ে যায়। আসলে খিজির হায়াত খানের সেই শব্দটাই ব্যবহার করতে হয় ‘আমাদের রং সুপারস্টার’।

অারো পড়ুন:   ‘রাজনীতি’র দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩ ঘণ্টা!

বদিউল আলম খোকন : পরিচালক সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জাকির হোসেন রাজু সাহেব জিতুক এটাই চাইছিলাম। রাজু সাহেব নিজেকে অনেক স্মার্ট ডিরেক্টর মনে করলেও আসলে তিনি সেভাবে কিছুই দেখাতে পারেননি। তারপরও মানুষটাকে আমার ভালোই মনে হয় কারণ তার কাছে নোংরামো থেকে মুক্তির একটা ইচ্ছে আছে, নিউওয়েভ ফিল্মমেকারদের একটা জায়গা আছে। কিন্তু হলো উল্টোটা। গো হারা হারলেন তিনি। উল্টোভাবে বললে সকল পদের দিক দিয়েই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ভোট পান বদি সাহেব। এটাই ওনার পাওয়ার। এই শক্তিশালী মানুষটিই ২২টা ছবি করেছেন শাকিবকে দিয়ে। তার ছায়াতে স্টার বানিয়েছেন শাকিবকে, আবার ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার সময়ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে। ক্ষমতার এই খেলায় তাই সবচেয়ে বড় দানটি দিয়েছেন বহু ‘অস্কার নমিনেটেড’ ছবি নির্মাণের এই পরিচালক। কতটুকু ব্যক্তিগত আক্রোশ আর কতটা নীতির জায়গা থেকে এটা করেছেন তা মাপতে পারব না। তবে ক্ষমতার এই খেলায় সবচেয়ে ক্ষমতাবান এবং সাহসী হিসেবে জয়ী বলা যায় বদি সাহেবকেই। কিন্তু এভাবে বিশাল বাড়ন্ত ক্ষমতা পাওয়াটা ক্ষতিকর। আসলে বদি সাহেবরা যে আবারো বাংলা ছবিতে বড় রকমের থাবা বসাতে যাচ্ছেন তার শুরু শাকিবকে নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে।

শামীম আহমেদ রনি : একজন স্টারের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হতে পারে ক্ষতি নেই, কিন্তু রুচি আর বিবেচনাবোধও নিচে নেমে গেলে ধ্বংস অনিবার্য। তখন চারপাশ ঘিরে ধরে তৈলমর্দনকারী আগাছারা, তেমনই একজন শামীম আহমেদ রনি। কোন যুক্তির ধার না ধরেই বলছি,আমার ক্ষমতা থাকলে একে আমিই নিষিদ্ধ করতাম। আসলে মেধাশূন্য, চাপাসর্বস্ব এই নির্মাতা শাকিবের চারপাশে আগাছার মতো বেড়ে উঠে রসটাই শুষে খেয়ে নিচ্ছেন। বলা হয়, শাকিবকে এখন উনিই চালান। এই মানুষের কথায় যদি শাকিব চলেন তবে ধ্বংস অনিবার্য। আসলে এই মগজবিহীন মানুষের ছবি না আসলে ইন্ডাস্ট্রির আদতে কোন ক্ষতি হবে বলে আমার মনে হয় না।

মিশা সওদাগর : উনি এখানে পার্শ্বচরিত্র। তবে কয়দিন পরপর তর্জন গর্জনে মনে হয় নিজেকে অনেক কিছৃ ভাবেন এই মানুষটা। আদতে আমার কাছে তাকে একটা হিপোক্রেট মনে হয়। মিডিয়ায় নেচে নেচে নিজেকে ধার্মিক প্রচার করা মানুষটাই ছিলেন অশ্লীল যুগে গাবতলীর মাস্তানের সাথে নিয়মিত মুখ। আমার ধর্ম-চলচ্চিত্র নিয়ে কোন মোরাল কনফ্লিক্টের জায়গা নেই। কিন্তু তাই বলে অশ্লীল যুগকে সাপোর্ট করারও কোন কারণ দেখি না। যৌথ প্রযোজনার প্রথম ছবি করে এখন আবার তার বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি নাকি নাকে খত দিয়ে যৌথ থেকে সরে এসেছেন, এই অজুহাতে শাকিবকে তুলোধুনাও করছেন। একটা ঘটনা তাহলে আপনাদের মনে করিয়ে দেই। ‘অঙ্গার’ ছবি থেকে বাদ পড়ার পর কে কাঁদতে কাঁদতে পত্রিকাগুলোতে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল? ‘অঙ্গার’ কি যৌথ ছিল না? তিনি আশীষ বিদ্যার্থী আর রজতাভকে হেয় করেন, আফসোস তাদের এক শতাংশ যোগ্যতাও যদি পেতেন। এই মানুষটা মাহি-শুভর বিয়ে নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। যদি শাকিবেরটা নিয়ে কিছু বলতেন তাহলে সত্যি বলছি, আমি ধুয়ে দিতাম। তিনিও আসলে শাকিব বিরোধীতা করছেন ক্ষমতার লড়াইয়ে।

উপসংহার : পুরো ঘটনাটা আমার কাছে একটা ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ বলেই মনে হয়। শাকিব আগে যে খাদে অন্যকে ফেলতো তাতে আজ নিজে পড়েছে। যে পাওয়ারে রাতের আঁধারে ছবি সেন্সর করাতো সেটাই তাকে গিলে খাচ্ছে। তবে ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা কোন শুভ লক্ষণ নয়। সিন্ডিকেটের এই ক্ষমতা প্রদর্শন একটা কালো সময়ের লক্ষণ। এদের হাতকে প্রতিরোধ করতে হবে।


Leave a reply

সাপ্তাহিক জরিপ

ঈদে কতগুলো ছবি মুক্তি দেয়া উচিত?
সর্বোচ্চ পাঁচটি
পাঁচটির বেশি
Poll Maker

Pin It on Pinterest

Shares
Share This