Select Page

দিলদার কেন স্পেশাল

দিলদার কেন স্পেশাল

নায়ক-নায়িকার উপস্থিতির পরেও ছোটবেলায় টিভিতে বাংলা ছবি দেখার সময় দিলদারের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশেষ কিছু হয়ে উঠত। দেখা যেত নায়কের নায়িকা আছে তো দিলদারেরও নায়িকা আছে নাসরিন, মর্জিনা থেকে শুরু করে আরও কয়েকজন। তাদের সাথেও দিলদারের গান থাকত যেমনটা থাকত নায়কদের। নায়কের আধিপত্যের পাশাপাশি দিলদারেরও আধিপত্য থাকত। দিলদার যেন হয়ে উঠেছিল নায়কোচিত কমেডিয়ান।

দিলদার সেই সাদাকালো থেকে শুরু করে শাকিব খানের ছবি পর্যন্ত রাজত্ব করে কমেডি করে গেছেন। অনেক বড় জার্নি। বিরল এ জার্নি।

তারকাকে আমরা তখনই ব্র্যান্ড বলব যখন তাঁর কাজ এতটাই প্রভাবশালী হবে যে সেটার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে এবং আলোচিত হতে থাকবে, যখন তাঁর নামটাই একটা প্রভাব ফেলবে দর্শকের মনে, একটা সুপারস্টার ইমেজের ভাইব দেবে। জনশ্রুতিতে যেমন কিংবদন্তি হয় বিভিন্ন গান, ছড়া তেমনি তারকার ক্ষেত্রেও জনশ্রুতিটা প্রভাবের পর্যায়ে যায় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেটা আলোচনা পায়। দিলদার ঠিক এখানেই ব্র্যান্ড কমেডিয়ান আমাদের চলচ্চিত্রে। আমাদের চলচ্চিত্রে কমেডিয়ান অনেক আছে, দিলদার ছাড়াও আছে; খান জয়নুল, টেলি সামাদ, আনিস, রবিউল, মতি-সহ আরো কিন্তু দিলদারের মতো সব প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি এটা তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাসহ বলা। দিলদার সব প্রজন্মের মনে স্থান করে নিয়েছে যার জন্য ব্রান্ড কমেডিয়ান হয়ে উঠেছেন।

দেখা যেত ছবির শেষ দৃশ্যে যখন নায়ক-নায়িকাসহ অন্য সবার সংলাপ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু দিলদারের সংলাপ তখনও বাকি আছে। শেষ দৃশ্যে দিলদার কিছু একটা বলবেন আর সেটা শোনার জন্যও দর্শক অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে থাকত। দিলদারের সংলাপ দিয়েই ছবির ইতি ঘটত। এটা অন্য কমেডিয়ানদের ক্ষেত্রে কম ঘটেছে এবং ঘটলেও তা দিলদারের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

দিলদার তাঁর ক্যারিয়ারের পিকটাইমে নায়ক হওয়ার মতো সাহস দেখিয়েছিলেন এবং সেই ছবি ‘আবদুল্লাহ’। দর্শক তাকে নায়ক হিসেবেও গ্রহণ করেছিল। তাই ছবি হয়েছিল ব্লকবাস্টার।

আজকের দিনে যখন কমেডিয়ানের অভাব কমার্শিয়াল ছবিতে মহামারি রূপ নিয়েছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে একজন দিলদারকে আমরা কী পরিমাণ মিস করি তা তো বলাই বাহুল্য। এই যে আরেকজন দিলদারকে না পাওয়ার আফসোস আমাদের রয়ে যাবে এই আফসোসের জন্য দিলদার ব্র্যান্ড হয়ে আছে ও থাকবে। এসব কারণেই দিলদার স্পেশাল বাংলা ছবিতে।


Leave a reply