Select Page

পাঁচ নায়ক : পাঁচ রকম আফসোস

পাঁচ নায়ক : পাঁচ রকম আফসোস

সালমান শাহ
আমাদের ঢালিউডি ছবির জগতে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল সালমান শাহ। বেসিক স্মার্টনেস, অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনয়দক্ষতা, ফ্যাশন অাইকন হয়ে ওঠা এ গুণগুলো তাঁর মধ্যে ছিল বিরলভাবে। লিজেন্ডারি এ তারকা মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে সিনেমাজগতকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৮ টি ছবিতে সমৃদ্ধ করে অবশেষে ১৯৯৬ সালে আমাদের কাঁদিয়ে চলে যায়।

সালমান হতে পারত আমাদের বিশ থেকে একুশ শতকে উত্থানের সবচেয়ে বড় বিপ্লবী নাম যার হাত ধরে অভিনয়সমৃদ্ধ ছবির চর্চা, ফ্যাশনেবল স্টাইল চালু থাকত। নতুন নায়ক এলে সালমানের থেকে আপডেটেড হবার চিন্তা করত সেখানেই আর একটা প্রতিযোগিতার আভাস মিলত। সালমান আমাদের নতুনত্ব শেখানোর একটা বিরল উদাহরণ হতে পারত।

জসিম
জসিম অনেক দিয়েছে আমাদের। লিজেন্ড। তার আরো দেয়ার ছিল অ্যাকশন ছবির জগতে তাঁর দরকার অঅরো কিছুদিন ছিল। তাঁকে দেখে ভবিষ্যতের অ্যাকশন হিরোরা নিজেদের তৈরি করার বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকত। প্রথমদিকে খলনায়ক তারপর নায়ক দুই মাধ্যমেই নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিভা দেখিয়েছেন। তাঁর মতো কেউ হতে চাইলে বা তাঁকে অনুসরণ করতে চাইলে অবশ্যই এ দুটি গুণের চর্চা তারা করত।

জাফর ইকবাল
জাফর ইকবাল অসময়ে চলে যাওয়া চিরসবুজ নায়ক। খাঁটি অভিনয়গুণে রোমান্টিক, স্যাড দুই ভার্সনের অভিনয়ে জাত অভিনেতা। তাঁকে অামরা অকালে হারিয়েছি। নিজের বোহেমিয়ান জগৎটা যদি বাদ দিয়ে সিরিয়াসলি ক্যারিয়ার নিয়ে আরো ভাবত তবে তাঁর কাছ থেকে আমরা আরো অনেক স্মরণীয় কাজ পেতে পারতাম। নায়ক হলে সিরিয়াসলি নায়কের ইমেজ নিয়েই ভাবতে হয় জাফর তা করেনি। ব্যক্তিগত জীবনের না পাওয়াকে নায়কের সাথে মিলিয়ে ফেলেছিল। এটা অার কেউ করুক তা চাই না।

মান্না
মান্না-ও জসিমের মতো অনেক দিয়েছে অথচ অাফসোসটা দীর্ঘ। কেন মান্না অারো অনেকদিন থাকবে না! সালমানের অকালমৃত্যুর পর ঢালিউডি নেতৃত্বে নিজের ও সহকর্মীদের ক্যারিয়ার সমানতালে এগিয়ে নেয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল সে। মান্না থাকলে অ্যাকশন ছবির জগৎটা আজও তখনকার মতো থাকত। এফডিসিভিত্তিক নেতৃত্বের শূন্যতা অাজ এত খারাপ অবস্থায় অাসত না। একনায়কতন্ত্রও প্রতিষ্ঠিত হত না। মান্নার অকালমৃত্যু অনেকগুলো ক্ষতি একসাথে করেছে। তাঁর অভাবটা গভীর।

সোহেল চৌধুরী
সুদর্শন, সুঅভিনেতা সোহেল চৌধুরী সব ধরনের ছবিতে মানিয়ে যেত। রোমান্টিকে, ফ্যামিলি ড্রামায়, অ্যাকশনে মানিয়ে যেত। ‘প্রেমের প্রতিদান, হিংসার আগুন, খুনের বদলা’ এগুলো তার উদাহরণ। সোহেল থাকলে ফ্যাশন আইকন হিশাবে আর একজন নায়ককে আমরা পেতাম। তাঁর প্রতিভা আরো অনেক দিতে পারত ঢালিউডকে অন্তত সোহেল-দিতি জুটি আরো অনেক স্মরণীয় ছবি দিতে পারত।

এই পাঁচ নায়কের ভিন্ন ভিন্ন আবেদন এবং অকালে তাঁদেরকে হারানোটা ঢালিউডকে আফসোসের মধ্যে রাখবে।


লেখক সম্পর্কে বিস্তারিত

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

মন্তব্য করুন

Shares