Select Page

প্রসঙ্গ ‘মার ছক্কা’ : সমালোচকদের জবাব দিল নন্দিতা সিনেমা হল

প্রসঙ্গ ‘মার ছক্কা’ : সমালোচকদের জবাব দিল নন্দিতা সিনেমা হল

শুক্রবার থেকে দেশের ৪৮টি হলে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘মার ছক্কা’। মান বিচারে একে সি গ্রেডের সিনেমা বলা যায়। কিন্তু এত হল পাওয়ায় সমালোচনায় মেতেছেন অনলাইনের প্রথম সারির ক্রিটিকরা! এমনকি সৃজনশীলতা বা দর্শকের উপর শ্রদ্ধাশীল না হয়ে অনেকে সিনেমাটি নিয়ে ফান ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তার মোক্ষম জবাব দিল সিলেটের নন্দিতা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ। সেখানে উঠে এসেছে সিনেমা বাণিজ্যের প্রকৃত অবস্থা! শুধু তাই নয়, হল মালিকরাও এ সিনেমার স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে সচেতন সে কথাও জানিয়েছেন।

আরো বলা হয়, একটা সি গ্রেডের কমার্শিয়াল সিনেমায় শুক্র ও শনিবারে যে সেল হয়, দেখা যায় ভালো মানের একটা অফট্র্যাক সিনেমায় সারা সপ্তাহেও সেই সেল হয় না (৫/১০ বছরে ২/১টা ব্যতিক্রম ছাড়া)।

এবার পুরো লেখাটি পড়ে নিন—

যারা ‘মার ছক্কা’ ছবিটি আনার কারণে আগের পোস্টের কমেন্টে সমালোচনা করছেন তাদের মতামতকে সম্মান জানিয়ে আপনাদের নিকট আমাদের একটি প্রশ্ন। এই ছবিটি চালানো ছাড়া আমাদের হাতে অপশন কী ছিল? ঈদের ৩টি সিনেমা চালানো শেষ, আবার চালাবো সেই উপায় নেই, সবগুলো পাইরেসি হয়ে বসে আছে। ঈদের পর একমাত্র হাইপ জাগানো সিনেমা ‘ভয়ংকর সুন্দর’ চালানোও শেষ। বলার মতো নতুন কোন সিনেমাও রিলিজ হচ্ছে না ঈদের আগে। আমাদের হাতে চালানোর মতো ছবি আছে কি? আগামি ২ সপ্তাহেও চালানোর মতো কোন ছবি নেই। আমরা আগামি ২ সপ্তাহ কি চালাবো সেটাও দয়া করে বলে দিয়ে যাবেন। নাকি আমাদের হল বন্ধ করে বসে থাকা উচিৎ?

দয়া করে অফট্র্যাকের আর্টফিল্ম এর কথা বলবেন না। একটা সি গ্রেডের কমার্শিয়াল সিনেমায় শুক্র ও শনিবারে যে সেল হয়, দেখা যায় ভালো মানের একটা অফট্র্যাক সিনেমায় সারা সপ্তাহেও সেই সেল হয় না (৫/১০ বছরে ২/১টা ব্যতিক্রম ছাড়া)। হলের রেগুলার দর্শকের ৫% লোকও আর্টফিল্ম দেখতে আসে না। আর্টফিল্মের জন্য আমাদের সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় রেগুলার দর্শকের বাইরের দর্শকের উপর, তাও তারা আর্টফিল্মগুলোতেও অনেক যাচাই বাছাই করে আসেন। হল মালিক তাই অফট্র্যাকের সিনেমার ক্ষেত্রে এতো রিস্ক নেওয়ার চেয়ে অন্তত ১ সপ্তাহ অপেক্ষা করে অডিয়েন্স রেসপন্স দেখাটা বেটার মনে করেন।

অারো পড়ুন:   ‌‘মার ছক্কা’র শেষ শো'তে বিক্রি হলো মাত্র ৫ টিকিট

‘মার ছক্কা’ বা ‘মধু হই হই’ টাইপের সিনেমা চালিয়ে হল মালিকেরা যে আহামরি লাভ করেন তা না, কিন্তু অন্তত সাপ্তাহিক হলের মেইনটেইনেন্স খরচটা তোলতে পারেন। ‘মার ছক্কা’ টাইপের সিনেমার ৫০টা হল পাওয়ার পেছনে রাজনীতি বা ষড়যন্ত্র খুজতে যাবেন না। এটা অডিয়েন্স ডিমান্ড। একটি ইন্ডাস্ট্রিতে যে ধরণের সিনেমা ব্যবসাসফল হবে সেই ধরণের সিনেমাই বেশী নির্মাণ হবে। বিশ্বের যে কোন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা সত্য। যখন ‘মার ছক্কা’ টাইপের সিনেমা চালিয়ে হল মালিক লস করা শুরু করবেন তখন এই টাইপের সিনেমাগুলো এমনিতেই হল কম পাবে, এগুলো বানানো বন্ধ হবে। আপনাদের ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে পোস্ট দিতে হবে না। আর যদি এগুলোর দর্শক ডিমান্ড থাকে তবে যতোই সমালোচনা করেন লাভ নেই, এগুলো আরো নির্মাণ হবে, হলও বেশী পাবে।

দিনশেষে সিনেমার আসল ক্ষমতার চাবিটা দর্শকদের হাতেই।


মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

Shares