Select Page

বাংলাদেশে সিনে বাজার নিয়ে অশোক ধানুকার অভিযোগ কী?

বাংলাদেশে সিনে বাজার নিয়ে অশোক ধানুকার অভিযোগ কী?

# আব্দুল আজিজ কলকাতার সবার সঙ্গে একাই কাজ করতে চান।
# শাকিব খান ৬০ লাখ টাকা ছাড়া ছবি করবে না।
# ভারতে এক কোটি ব্যবসা করলে ৭০ লাখ পায় প্রযোজক। বাংলাদেশ উল্টা।
# বাংলাদেশে পরচর্চাই বেশি হয়। নিয়মের বেড়াজাল।

যৌথ বা একক বাংলাদেশে যে কোনো ধরনের সিনেমা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে কলকাতার এসকে মুভিজ। যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে একাধিক গণমাধ্যমে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি কর্ণধার অশোক ধানুকা একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।

এস কে মুভিজ কয়েক বছর ধরে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে কাজ করছিল। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কারণ কী? এ প্রশ্নে  প্রথম আলোকে তিনি বলেন, লোভ। জাজ মাল্টিমিডিয়ার আব্দুল আজিজ সাহেবের লোভ বেড়ে গেছে। তাঁর কথা হচ্ছে, কলকাতার যত প্রযোজক আছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে আজিজ একাই কাজ করবেন, অন্য কেউ কাজ করতে পারবেন না। এই লোভের কারণে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে।

অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে কী ধরনের অসহযোগিতা পেয়েছেন?     উত্তরে বলেন, বাংলাদেশে শাকিব খান যখন ছবিপ্রতি ১৫ লাখ টাকা সম্মানী পেয়েছেন, তখন ওকে দিয়ে ভালো ভালো ছবি বানিয়েছি। এখন সে আমাকে বলছে, তাঁকে ৬০ লাখ টাকা না দিলে সিনেমা করবে না! আমার তো বাংলাদেশ দিয়ে শুধু চলে না, টাকাটা তো তুলে আনতে হবে।

অন্য এক প্রশ্নে যদিও অশোক স্বীকার করেন, শাকিব এখনো আমার ছেলে। সে খুব ভালো অভিনেতা, তাতে যেমন দ্বিমত নেই। তাকে ভালোবাসি, তার প্রতি ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি নেই, এটাও সত্য। সে আমার সঙ্গে চারটা ছবি করেছে। আমি দেখেছি, শাকিব খান বাংলাদেশে সকাল ৮টা কিংবা ১০টায় শিডিউল দিয়ে বেলা ২টা, ৩টায়, আবার কখনো ৪টায় আসে। কোনো দিন আবার বলে আজ আসবে না। অথচ আমার এখানে সকাল সাড়ে ৬টার সময় যদি শিডিউল থাকে, তাহলে ও ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এভাবে কাজ করেছে।

মুম্বাই আর দক্ষিণের ছবির দাপটে কলকাতার বাংলা ছবি এখন কোণঠাসা। অনেকে বলছেন, কলকাতার বাংলা ছবি কোমায় চলে গেছে। ওখানে অনেকেই বলছেন, বাংলা ছবি যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আপনাদের বাংলাদেশের বাজার বেশি দরকার।– এমন মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত না করেই বলেন, এখানে (কলকাতায়) বাণিজ্যিক ধারায় যেসব বাংলা ছবি তৈরি হয়, সেগুলোর বাজার খারাপ হয়ে গেছে। এখানে আর কপি ছবিতে চলছে না। মৌলিক গল্প নিয়ে, সাহিত্য নিয়ে ছবি বানালে খুব চলে। কোটি কোটি রুপি ব্যবসাও করছে। বাণিজ্যিক ছবির বাজার এখান থেকে বাংলাদেশে ভালো, এটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু ভালো বললে তো কিছু হবে না। ওখানে যদি একটা ছবি এক কোটি টাকা ব্যবসা করে, কোনো প্রযোজকই বাসায় ৩০ কিংবা ৩৫ লাখ টাকা নিতে পারবে না। ব্যবসা হবে, কিন্তু প্রযোজক পাবে না। প্রযোজককে অন্তত ফিফটি পার্সেন্ট তো পাওয়া উচিত। আমাদের এখানে এক কোটি রুপি ব্যবসা করলে ৭০ লাখ রুপি প্রযোজক পায়।

ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, শাকিব খানকে দিয়ে তারা বাংলাদেশের সিনেমার বাজার দখল করতে চেয়েছে। সেটা সম্ভব হয়নি বলেই তারা এখন সরে যাচ্ছে।– এর উত্তর বলেন, ওখানে মানুষদের খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই। পরচর্চাই যেন কাজ। কোনো কাজ নেই, বসে আড্ডা মারা আর অন্যের বিরুদ্ধে কিছু একটা বলা! আমাকে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। ভারতের বাজার কখনো নিয়ন্ত্রণ করতে চাইনি। আমি মনে করি, সিনেমার বাজারে যত বেশি প্রযোজক থাকে, দেখবেন বাজার ততই ভালো হবে। প্রযোজক কমে গেলে বাজার ভালো হবে না। ওখানে মানুষজন যদি বাজে কিছু চর্চা করতে থাকে, আমি তো কিছু করতে পারব না।

অভিনেত্রী শাবানার সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘স্বামী কেন আসামি’ দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বাজারে প্রবেশ করে ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস কে মুভিজ। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত যৌথ প্রযোজনায় চারটি ছবি নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০১৪ সালে ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ দিয়ে ‘যৌথ প্রযোজনা’য় অনন্য মামুনের মাধ্যমে আবারো বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ভারতীয় পক্ষের প্রাধান্যের কারণে সমালোচিত হয় জনপ্রিয় সিনেমাটি। এরপর জাজের সঙ্গে জোড় বাঁধে ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’ সিনেমাটির মাধ্যমে। এরপর তারা পরপর ছবি করে। জাজের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর অনন্য মামুনের মাধ্যমে এসকে মুভিজের একক প্রযোজনার কিছু ছবি বাংলাদেশে মুক্তি পায়।


অামাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

Coming Soon
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?

[wordpress_social_login]

Shares