যোগাযোগ না করে সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য, পদত্যাগ খিজির হায়াত খানের
কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যপদ করা হয়েছে খিজির হায়াত খাবকে। এতে প্রায় দেড় বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন এ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

চলচ্চিত্রের উন্নয়নে যে ধরনের ভূমিকা রাখতে চান, তার ‘সুযোগ না থাকায়’ পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে গতকাল জানান খিজির। তিনি আরও বলেছেন, সম্মতি না নিয়ে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে তাকে যুক্ত করা ফলে যে ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়েছে তাতে তিনি ‘বিব্রতবোধ করছেন’।
খিজির হায়াত খানের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান।
তিনি বলেন, “খিজির হায়াত খান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন, সেটি আমি পেয়েছি। এখন এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন আছে।”
গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর সেন্সরবোর্ড বিলুপ্ত করে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই দফায়ও সার্টিফিকেশন বোর্ডে খিজির হায়াত খানকে মনোনীত করা হয়েছিল। সেই দায়িত্ব গ্রহণও করেছিলেন তিনি। পরে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
খিজির হায়াত খান বলেন, প্রথমবার যখন তাকে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য করা হয়, তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পরে সেখানে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের যে ভাবনা নিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন, তার পরিবেশ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খিজির হায়াত খানের ভাষ্য, “শুধু বিনামূল্যে সিনেমা দেখা আর সরকার থেকে একটা সম্মানী পাওয়ার জন্য তো আমি সেখানে থাকবো না। সার্টিফিকেশন বোর্ডের অনেক সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু আমার কাজের এখতিয়ারে তা করার সুযোগ নাই। এজন্যই নীতি, আদর্শ ও কাঠামোগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলাম।
“সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত সুবিধা বা অসন্তোষের নয়; বরং চলচ্চিত্র শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আমার সুস্পষ্ট অবস্থানের ফলাফল।”
সার্টিফিকেশন বোর্ডের সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবার নতুন বোর্ড গঠন করে গত ১৪ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে সরকার।
এবারও খিজির হায়াত খানকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিগত বোর্ডের সদস্য থাকা অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, তাসমিয়া আফরিন মৌসহ ১৫জন সদস্যের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে সরকার।
খিজির হায়াত খান বলেন, “এ বিষয়ে আমার সাথে কোনো আলোচনা বা সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি।”
“আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, যে কাঠামো ও বাস্তবতায় আমি পূর্বে পদত্যাগ করেছি, সেই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় পুনরায় একই দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য যেমন অসঙ্গত, তেমনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতিও তা সম্মানজনক হবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
সার্টিফিকেশন বোর্ডে কী ধরণের পরিবর্তনের কথা বলছেন, প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি কেবল তখনই এই দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারি, যখন নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করব যে চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে স্বাধীনভাবে, বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিবেশ সেখানে বিদ্যমান। কারণ বোর্ডে কারা আছেন তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডটি কীভাবে এবং কার স্বার্থে কাজ করছে।”
‘সম্মতি’ না নিয়ে নাম যুক্ত করায়, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে যে বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তা একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে তার জন্য বিষয়টি ‘বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেন খিজির হায়াত খান।
এই নির্মাতা বলেন, “এই পরিস্থিতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। না আমার জন্য, না বোর্ডের জন্য, না বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য।”
স্বাধীন চলচ্চিত্র কর্মী হিসাবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তার ‘যুদ্ধ’ চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন খিজির হায়াত খান।






