২০০০ সালের ৯ জানুয়ারিশাবনূর-মান্নার বক্স অফিস লড়াইয়ে জিতেছিল কে?
২০০০ সালের ৯ জানুয়ারি। আজ থেকে ২৬ বছর আগের একটি ঈদের দিন। একসঙ্গে মুক্তি পায় ৮টি ছবি। এবং সবগুলো ছবিই তারকায় ঠাসা, বড় বাজেটে তৈরি। টিভি প্রিমিয়ার মার্কা সস্তা বাজেটের টাইম পাস ছবি নেই একটিও।

সেই ঈদে টক্কর হয় মূলত দুই তারকার মধ্যে—মান্না ও শাবনূর।
সেলুলয়েডে সচরাচর যুদ্ধ হতো দুই নায়ক কিংবা দুই নায়িকার মধ্যে। কিন্তু সেই সময় শাবনূর তারকা হিসেবে ‘নায়ক’-এর মর্যাদা উপভোগ করছিলেন। নায়িকাদের তিনি টপকে গিয়েছিলেন আরো আগেই!
ঈদে মান্নারও ছবি আসে ৩টা, শাবনূরেরও ৩টা। মান্নার ছবিগুলো হচ্ছে—’গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ‘রাজা নাম্বার ওয়ান’ এবং ‘চিটার নাম্বার ওয়ান’ (নায়ক হিসেবে যে মান্না ১ নাম্বার—তার খুল্লামখুল্লা প্রদর্শনী যেন ছবির নামগুলো!)
শাবনূরের ছবিগুলো হচ্ছে—’এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে’, ‘নারীর মন’ এবং ‘আশা আমার আশা’। তিনটি ছবিতেই তার নায়ক রিয়াজ। এই নায়কের আরো একটা ছবি আসে ঈদে—’বিদ্রোহ চারিদিকে। সেই ছবিতে তার নায়িকা পপি।
হিসেবে রিয়াজের সঙ্গে মান্নার লড়াই হওয়ার কথা। তার তো ছবির সংখ্যাও বেশি। বাস্তবে, রিয়াজকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির মাথাব্যথা ছিল না। ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’ ছবিতে পপির সঙ্গে ছবি হিট করিয়ে শাবনূরনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন কি না রিয়াজ, সেটা দেখার একটা আগ্রহ ছিল ইন্ডাস্ট্রির। কিন্তু ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’ হিট না হওয়ায় আলোচনার পুরোভাগে চলে আসেন শাবনূর।

মান্নার অ্যাকশন সিনেমা নাকি শাবনূরের রোমান্টিক সিনেমা—কোনটার জয় হবে? ভালগার ছবির সঙ্গে কি পেরে উঠবে পরিচ্ছন্ন সিনেমা? তরুণ-যুবাদের ওপর ভর করে মান্না তো টিকে যাবেন, শাবনূর কি পারবেন ঘর থেকে মহিলা দর্শকদেরকে ছবিঘরে টেনে আনতে? এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর খুঁজছিল ইন্ডাস্ট্রি।
ঈদের পরে দেখা গেল, মান্নার ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’ বাম্পারহিট, ‘রাজা নাম্বার ওয়ান’ সুপারহিট আর ‘চিটার নাম্বার ওয়ান’ ফ্লপ। অন্যদিকে শাবনূরের ‘এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে’ সুপারহিট, ‘নারীর মন’ হিট আর ‘আশা আমার আশা’ ফ্লপ (বলিউডের নায়িকা আয়শা জুলকা থাকার পরও!)।
মান্না কিছুটা এগিয়ে রইলেন বটে (ওটুকু এগিয়ে না থাকলে শীর্ষ নায়কের সম্মান থাকে নাকি!)। কিন্তু নায়িকা হয়েও যেভাবে নায়কের সঙ্গে লড়ে গেলেন শাবনূর, তা এক নজির তৈরি করল। গল্প, গান, গ্ল্যামার দিয়ে সেবারের ঈদ তিনি একদম মাতিয়ে দিলেন। পারিবারিক দর্শকদের বাঁধভাঙা উল্লাস তিনি সৃষ্টি করলেন সারাদেশের সিনেমা হলগুলোতে।

শাবনূর আগের বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘বিয়ের ফুল’-এর পুনরাবৃত্তি করলেন ‘নারীর মন’-এ। একই পরিচালক মতিন রহমান, একই নায়কযুগল রিয়াজ-শাকিল, একই ব্যানার আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড। তবে সাফল্যটা আগের চেয়ে কম হল। আর সেটা তিনি পুষিয়ে দিলেন ‘এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে’ দিয়ে। এই ছবি যে এমন বিরাট সাফল্য পাবে, এটা কারও চিন্তায় ছিল না। এই ছবি দিয়ে প্রত্যাবর্তন হলো এফ আই মানিকের। শুরু হলো মানিক-শাবনূর অধ্যায়।
সেই ঈদে আরো একটি ছবি ছিল যার কথা এখন পর্যন্ত বলা হয়নি। ‘জিদ্দি সন্তান’ নামের সেই ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চন, রুবেল, মুনমুনের মতো তারকারা ছিলেন; ছবিটিও মন্দ চলেনি। কিন্তু মান্না-শাবনূর দ্বৈরথের কারণে ছবিটি তেমন আলোচনায় আসতে পারেনি।
দেখতে-দেখতে ২০০০ সালের প্রথম ঈদুল ফিতরের ২৬ বছর হয়ে গেল। দর্শক হিসেবে আমাদের স্মৃতির ভারও আর একটু বাড়ল। বড় মধুর এই ভার!






