একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা ও আইয়ুব বাচ্চু
২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য ৯ বিশিষ্ট জন ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে সরকার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। এ তালিকায় সংস্কৃতি অঙ্গনের একাধিক নাম রয়েছে। এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন অভিনেত্রী ববিতা, সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), ইসলাম উদ্দিন পালাকার ও ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একুশে পদক দেওয়া হয়।
একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এ ছাড়া ব্যান্ড ওয়ারফেজকে সংগীত দল হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ববিতা বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘খবরটি শুনে ভালো লাগলো। এটুকুই।’
এরপর জানান, একুশে পদকপ্রাপ্তির খবরটি তিনি অফিসিয়ালি এখনও পাননি। এমন কোনও প্রজ্ঞাপনও তার চোখে পড়েনি। শুধু খবরে শুনেছেন তিনি পাচ্ছেন।
ববিতা বলেন, ‘অফিসিয়াল চিঠিটি পেয়ে নিই, তারপর একুশে পদক পেয়ে কেমন লাগছে সেটা জানাবো। তার আগে এ বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে বলে মনে করছি না।’
বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, উপমহাদেশের খ্যাতিমান অভিনেত্রী ববিতা ১৯৫৩ সালে বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘অশনিসংকেত’, ‘অনঙ্গ বউ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাইলি-মজনু’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দহন’, ‘দিপু নাম্বার টু’ উল্লেখযোগ্য।
১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রুপালি পর্দার এই অভিনেত্রী। এছাড়া ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এদিকে প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে ২০২৬ সালে একুশে পদক দিচ্ছে সরকার। খবরটি শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবরটা শুনে খুশি হলাম। বাচ্চু থাকলে বেশি খুশি হতো। পুরস্কারটা নিজে হাতে নিতে পারলে খুশি হতো। বাচ্চুর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আছে। দেরিতে হলেও পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।’
২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মারা গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর মৃত্যুর পর আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা ফেরদৌস আক্তার বলেন, ‘সবার দোয়া চাই। আমরা তার রেখে যাওয়া কাজ যেন শেষ করতে পারি।’
এদিকে একুশে পদক প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে সমকালকে ইসলাম উদ্দিন পালাকার বলেন, এটা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ একটি পুরস্কার। এই সম্মান পেয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।’
জীবদ্দশায় এমন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, অনেক দিন ধরেই একটা আশা ছিল। মনে মনে ভাবতাম, আল্লাহ যদি একটু দয়া করতেন! আমি যদি একুশে পদক পেতাম, তাহলে জীবনটা ধন্য হতো।
প্রতিষ্ঠান হিসেবে একুশে পদক পাচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ। ১৯৮৪ সালের ৬ জুন যাত্রা করে ওয়ারফেজ।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে ওয়ারফেজের প্রধান ভোকালিস্ট পলাশ নূর কালের কণ্ঠকে বলেন,
‘হ্যাঁ, এই খবরটা শোনার পর থেকে আমরা সলে একটা ঘোরের মধ্যে আছি। মানে এই অনুভূতি আমি আসলে ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমরা সবাই এত আনন্দিত যে কী বলব…।’
বাকি সদস্যদের কী অবস্থা, জানতে চাইলে পলাশ নূর বলেন, ‘আমরা সবাই আসলে ঘোরের মধ্যেই আছি বলতে গেলে। যখন টিপু ভাই (দলনেতা ও ড্রামার) শুনলেন আমরা একুশে পদক পাচ্ছি, তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।কান্না করে দিয়েছেন।’






