Select Page

‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মৌসুমী-ওমর সানী ও হাসান জাহাঙ্গীরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মৌসুমী-ওমর সানী ও হাসান জাহাঙ্গীরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মৌসুমী অভিনীত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ শিরোনামের কনটেন্টটি মুক্তির আগেই তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর এটি আগামী ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরই আপত্তি তুলেছেন মৌসুমী ও তার স্বামী ওমর সানী। ফলে ছবিটির মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

হাসান জাহাঙ্গীর ও মৌসুমী

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী দাবি করেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ কোনো সিনেমা নয়; এটি মূলত একটি নাটক, যা যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা হয়েছিল। তার মতে, দর্শক যেভাবে মৌসুমীকে বড় পর্দায় দেখতে অভ্যস্ত, এই কাজটি সেই মান বা প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তিনি ছবিটি মুক্তি না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।

একই ভিডিওতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মৌসুমী। তিনি বলেন, নির্মাতার অনুরোধে তিনি একটি এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করতে সম্মত হন। শুটিং শেষে তাকে জানানো হয়, ফুটেজ বড় হওয়ায় এটি টেলিছবি হিসেবে প্রকাশ করা হবে এবং সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, সেটিই পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেন্সর সনদও পেয়েছে।

বিষয়টি ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করে মৌসুমী অভিযোগ করেন, তার অজান্তেই কনটেন্টের ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তাকে ‘কাটপিসের মতো ব্যবহার’ করা হয়েছে, যা অনৈতিক মনে করেন।

ওমর সানী ও মৌসুমী

এ ঘটনায় চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর—পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতির—হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৌসুমী। অন্যদিকে ওমর সানী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি লড়াইয়ে যাবেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, মৌসুমীকে সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়েই কাজ করানো হয়েছে এবং নায়িকাকে ‘চাপ দিয়ে’ এ ধরনের বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই প্রজেক্টের সঙ্গে ওমর সানীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তাই এ বিষয়ে তার হস্তক্ষেপের সুযোগও নেই।

এছাড়া পাল্টা অভিযোগ তুলে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, ওমর সানী তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন—যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান এবং প্রয়োজনে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রজেক্ট বাধাগ্রস্ত হলে তিনি ৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন।

সব মিলিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ ঘিরে নির্মাতা ও শিল্পীদের এই দ্বন্দ্ব এখন চরমে পৌঁছেছে। দেখা যাকে ১৫ মে সিনেমাটি মুক্তি পায় কি-না।


Leave a reply