Select Page

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো: আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে বাংলা সিনেমার এক দশক

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো: আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে বাংলা সিনেমার এক দশক

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’ আজ ১০ বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১৬ সালের ৩ মে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিদেশের মূলধারার সিনেমা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির পথ তৈরি করে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজিব বলেন, “বিদেশে কমিউনিটির জন্য হল ভাড়া করে শো চালানো আর মূলধারার সিনেমা হলে থিয়েট্রিক্যাল রিলিজ—এই দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বাজার তৈরি করতে হলে অফিসিয়াল রিলিজই একমাত্র পথ।”

মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজিব

০১৬ সালের ২৭ মে কানাডার টরন্টোর সিনেপ্লেক্স অডিয়ন এগলিন্টন টাউন সেন্টার সিনেমাসে ‘অস্তিত্ব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি সিনেমার থিয়েট্রিক্যাল রিলিজ শুরু হয়। প্রথম সপ্তাহেই ২৪টি শো নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগ পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে।

এরপর একই বছর নভেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া ‘আয়নাবাজি’ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মাত্র চারটি হলে মুক্তি পেয়েও ছবিটি আয় করে প্রায় ৫৪ হাজার ডলার, যা পরবর্তী সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০১৭ সালে ‘প্রেমী ও প্রেমী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রিগ্যাল, সিনেমার্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভক্স সিনেমাসে বাংলাদেশি সিনেমা মুক্তির নতুন অধ্যায় শুরু হয়। একই বছরের অক্টোবর মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ তিনটি আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে প্রায় ৬২ হাজার ডলার আয় করে, যার মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ডলার আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর যাত্রায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০২২ সালে। সে বছর উত্তর আমেরিকার ৮৮টি হলে মুক্তি পাওয়া ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রটি আয় করে প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

একই ধারাবাহিকতায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটিও আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ছবিটি উত্তর আমেরিকার হলে মুক্তি পেয়ে ৪ লাখ ডলারের বেশি আয় করে , যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নির্মাতাদের দাঁড় করিয়ে দেয় আরেক মাইল ফলকের সামনে।

অলিউল্লাহ সজিব জানান, শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। আন্তর্জাতিক সিনেমা চেইনের সঙ্গে যোগাযোগ, বাজার বিশ্লেষণ এবং দর্শক চাহিদা বোঝার মতো বিষয়গুলোতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় পথচলাটা সহজ ছিল না। তবে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে আজ একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল উত্তর আমেরিকার বাজারে হলিউড ও ভারতীয় সিনেমার পর বাংলাদেশের সিনেমার একটি অবস্থান তৈরি করা। সে লক্ষ্য পূরণে আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি।”

এক দশকের এই পথচলায় স্বপ্ন স্কয়ারক্রো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বৈশ্বিক পরিসরে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগামী দিনে এই অগ্রযাত্রা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।


Leave a reply