
জংলি : ইমোশনাল জার্নি
:ছবির গল্প আগাগোড়াই ইমোশনাল। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছে পুরোটাই ইমোশন দিয়ে তৈরি। দর্শকের জন্য সহজ বিষয় হচ্ছে পরিচিত আবেগ-অনুভূতির মধ্যে এগুলো পড়ে তাই ছবির গল্পের সাথে তারা নিজেদের ইমোশনালি কানেক্ট করতে পারবে
কমার্শিয়াল ছবিকে এনজয়অ্যাবল করার জন্য খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সাধারণ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে গল্প সাজিয়ে সঠিকভাবে পরিবেশন করতে পারলে একটি মানসম্মত কমার্শিয়াল ছবি উপহার দেয়া সম্ভব। এম রাহিম পরিচালিত ‘জংলি’ সাধারণ গল্পের মাধ্যমেই মানসম্মত একটি কমার্শিয়াল ছবি উপহার দিয়েছেন।
ছবির গল্প আগাগোড়াই ইমোশনাল। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছে পুরোটাই ইমোশন দিয়ে তৈরি। দর্শকের জন্য সহজ বিষয় হচ্ছে পরিচিত আবেগ-অনুভূতির মধ্যে এগুলো পড়ে তাই ছবির গল্পের সাথে তারা নিজেদের ইমোশনালি কানেক্ট করতে পারবে।

ছবির কেন্দ্রবিন্দু হলো সিয়াম। তার জীবনের বেশ কয়েকটি পার্টকে কেন্দ্র করে ছবির গল্প ও গল্পের বাঁক পরিবর্তন হয়েছে। ছবির ট্রেলারে একটি শিশুর উপস্থিতি দেখিয়ে গল্পের ইমোশনকে ইতোমধ্যে দর্শকের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির সাথে সিয়ামের বন্ধন কিভাবে, কোন পরিস্থিতিতে তৈরি হলো, কোন পরিস্থিতিতে সে জংলি হয়ে উঠল এবং এর পেছনের গল্পটাই বা কি ছিল এটাই মূলত ছবির মূল গল্প।
মানুষের সাথে মানুষের বন্ধনের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক, আত্মার সম্পর্ক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক এ ধরনের কিছু উপাদান থাকে। আপনি আমি ইমোশন ফিল করতে গেলেও কোনো না কোনো দিক থেকে সম্পর্কের বিষয়টি চলে আসে। ‘জংলি’-তে সম্পর্কের এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ছবির প্রধান চরিত্র সিয়াম। তার ট্রান্সফরমেশন ছবির গল্প অনুযায়ী হয়েছে। তার ক্যারিয়ারের এ পর্যন্ত যে কয়েকটি ছবি হয়েছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কাজ এবং সেজন্যই আজ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স। এর জন্য কাজ করেছে তার ডেডিকেশন। চরিত্রের শেড অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্নরকম পারফরম্যান্স তাকে করতে হয়েছে। এটা করতে গিয়ে স্মার্ট লুকের পাশাপাশি জংলি লুকের যে হিউজ পরিবর্তন সেখানেই সিয়ামের পরিশ্রমের দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘জংলি’ লুকের মধ্যে কিছু শটে তাকে ভিন্নতায় দেখা গেছে যেমন ‘রক্তাক্ত জিহবা’ বের করে ফাইটিং সিকোয়েন্সে যাওয়া, দক্ষিণী হিরোদের স্টাইলের বডি ল্যাংগুয়েজে নিজেকে প্রেজেন্ট করা। অভিনয়ে নিজেকে নিংড়ে দিয়ে চরিত্রকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। সিয়ামকে জংলি লুকের অ্যাকশন দৃশ্যেও নতুন কিছু মনে হয়েছে কারণ এর আগে এভাবে তাকে দেখা যায়নি।
সিয়ামের পরেই যার কথা আসে সে ছবির শিশুশিল্পী। কিউটনেস তার চরিত্রকে আকর্ষণীয় করেছে। আধো আধো ভঙ্গিতে মিষ্টি করে সংলাপ বলার স্টাইলটি বেশ ভালো লাগে শুনতে। তার অভিনয়ও ন্যাচারাল। ছবির ইমোশনাল জার্নির কেন্দ্রে শিশুশিল্পী ছিল প্রধান উপাদান।
অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় হিরোইজমে ভরা ছবিতে নায়িকার তেমন কিছু করার থাকে না ছবিতে। নায়িকা একটা থাকতে হয় নিয়ম অনুযায়ী তাই থাকে কিন্তু ‘জংলি’-তে সেটা ঘটেনি। এ ছবিতে নায়িকার ভূমিকা গল্পের গতিপথকে পরিবর্তনে ভালো ভূমিকা রেখেছে। প্রথমত দিঘি দ্বিতীয়ত শবনম বুবলী ছবির গল্পে প্রভাব রেখেছে। দিঘি কম বুবলী কিছুটা বেশি। বুবলী ছবির ন্যারেটর হয়ে উঠেছে তাই তার চরিত্র যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলাই যায়। বুবলীর নায়িকার থেকে যেন নারীসুলভ ম্যাচিউর যে দিকটি থাকে সেটাই বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। দিঘি অল্প সময়ে ন্যাচারাল ছিল। ছবির অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে শহীদুজ্জামান সেলিমের চরিত্রটি গুরুত্ব রেখেছে। অন্যান্য চরিত্র প্রয়োজনমাফিক ছিল।
ছবির গানের মধ্যে ইতোমধ্যেই ‘জনম জনম’, ‘বন্ধুগো শোনো’ দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। তবে ‘বাবা’ গানটি ছবির সেরা গান নিঃসন্দেহে। বিজিএম অ্যাকশন দৃৃশ্যে সবচেয়ে ভালো ছিল।
নেগেটিভ দিক বললে ছবির কিছু দৃশ্য লং শটে করা হয়েছে তা ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতে পারে যার মধ্যে কোর্টরুমের দৃশ্যটি একটি। কিছু দৃশ্যে বিজিএমের ব্যবহার একইরকম ছিল যেখানে বৈচিত্র্য দরকার ছিল।
‘জংলি’ এম রাহিমের মানসম্মত ছবি হয়ে উঠেছে ইমোশনাল কনটেন্টে। ঈদের ছবির মধ্যে এটি কনটেন্টে ভেরিয়েশন যোগ করেছে যা অন্য ছবিগুলোর থেকে আলাদা করার জন্য যথেষ্ট।
রেটিং – ৭.৫/১০