প্রেমদরদী জাকির হোসেন রাজুর ‘মিলন হবে কত দিনে’
প্রেমদরদী নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু-র ছবি ‘মিলন হবে কত দিনে। ২০০২ সালের এপ্রিলে মুক্তি পেয়েছিল।

জাকির হোসেন রাজু-র কিছু নিজস্ব ভঙ্গি আছে যেগুলো তার ছবিকে আলাদা করার জন্য যথেষ্ট। কিছু সিকোয়েন্সে বলা সম্ভব :
১. একটা সিকোয়েন্সে শাবনূর তার বান্ধবীসহ গ্রামের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। পথের ধারে একা বসে থাকে রিয়াজ। বান্ধবীটি বলে-‘দেখ, ছেলেটা কী সুন্দর। কিন্তু একা একা বসে থাকে কেন?’ শাবনূর বলে-‘হয়তো কোনো কষ্ট আছে।’ হেঁটে যেতে যেতে বান্ধবীটি রিয়াজকে বলে-‘ভাইয়া ভালো আছেন?’ রিয়াজ বলে-‘হ্যাঁ, ভালো আছি।’
২. শাবনূর তার নিঃসঙ্গতা কাটাতে সেতার বাজিয়ে গান করে-‘কার দেখাব মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া।’ রিয়াজ শাবনূরদের বাড়ির পাঁচিল টপকে যায় শাবনূরের সামনে। তারপর বলা সংলাপটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকের নিঃসঙ্গতার প্রমাণ যারা ভালোবাসলে আসে বাধা, যাদের মন বোঝার মতো আপনজনও অনেক সময় থাকে না-‘আর কতকাল আমরা এভাবে কষ্ট বয়ে বেড়াব? আমরা কি পারি না সব বাধা পেরিয়ে একসাথে বাঁচতে, ভালোবাসতে।’ শাবনূর বলে-‘পারি।’ তারপর রিয়াজ দু’হাত বাড়ালে শাবনূর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বুকে।
৩. রিয়াজ-শাবনূরের প্রেম হওয়ার পর তাদের দেখা করার সময়গুলো ছিল ভীষণ রোমান্টিক। কিন্তু সমাজ-সংসারের বাধা তো থাকবেই। রিয়াজকে তাই শাবনূরের বাবা সাদেক বাচ্চু মেরে ফেলার ভয় দেখায় যা শাবনূর মানতে পারে না। তাই অভিনয় করে রিয়াজকে বলে যে তার ভালোবাসা সবটাই মিথ্যা ছিল। রিয়াজ চলে গেলে শাবনূর তবলায় জোরে জোরে আওয়াজ করতে থাকে। মনের যন্ত্রণা তবলার আওয়াজে যেন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে এত চমৎকার ছিল।
৪. রিয়াজ শর্মিলী আহমেদের ঘরে ছিল আশ্রিত। আসল বাবা ছিল আলমগীর। মেলায় হারিয়ে গেলে শর্মিলীর ঘরে আশ্রয় হয়। শাবনূরের কাছে ধোঁকার পর সেও বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং যাবার সময় মাকে চিঠি লিখে যায়-‘তোমার কাছে বিদায় চেয়ে নেয়ার ক্ষমতা আমার নেই, তাই রাতের আঁধারেই চলে গেলাম।’ মা ও ছেলের সূক্ষ্ম এ আবেগ দেখানোর সরল সুন্দর প্রকাশ।
৫. শাবনূরের নাম থাকে পাথর। তার নাম নিয়ে তার দুঃখ হত, অনেকে ব্যঙ্গ করত। কিন্তু রিয়াজকে ভালোবাসার পর তার সে নামের সার্থকতা এসেছে বলে জানায় রিয়াজকে। রিয়াজ বলে’-কিভাবে?’ রিয়াজের নাম ছিল পরশ। তাই দুজনের নাম যোগ করে হয় ‘পরশ-পাথর।’ রোমান্টিকতার দারুণ সমন্বয় নামের মধ্যেও আসে।
৬.. ছবিতে ‘মিলন হবে কত দিনে’ লালনগীতিকে বাণিজ্যিক ছবির উপযোগী করে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা ছিল দারুণ কিছু। একজন পরিচালকের ক্রিয়েটিভিটি এখানে স্পষ্ট।
জাকির হোসেন রাজু প্রেমের ছবিকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেন যার একটা উদাহরণ ‘মিলন হবে কত দিনে’ ছবি। ছবির এ গানটা সবচেয়ে প্রিয়-
‘জীবন জীবন জীবন
শুধু অনন্ত সুখেভরা এ জীবন
বসন্ত মুখরিত এ ভুবন’
জীবন বসন্ত মুখরিত হলে কতই না ভালো হত!!






