Select Page

চলচ্চিত্রের জাহিদ হাসান

চলচ্চিত্রের জাহিদ হাসান

কিছু কিছু অভিনেতার জন্য নামটাই যথেষ্ট। জাহিদ হাসান দেশে একটাই আছে। অসাধারণ অভিনেতা। অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন নাটক, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে। তাঁর স্ত্রী নব্বই দশকের নাম্বার ওয়ান মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ।

জাহিদ হাসান প্রথম চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন যৌথ প্রযোজনায়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত আব্দুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘বলবান’ ছবিতে প্রথমবার নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিটি সেসময় আলোচিত ছিল। অন্যান্য ছবি – জীবনসঙ্গী, শ্রাবণ মেঘের দিন, শঙ্খনাদ, মেড ইন বাংলাদেশ, ঝন্টু মন্টু দুই ভাই, আমার আছে জল, প্রজাপতি, হালদা, বিজলী, সাপলুডু। মুক্তি প্রতীক্ষিত – শনিবার বিকেল, সিতারা।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ নিঃসন্দেহে জাহিদ হাসানের ক্যারিয়ারের সেরা ছবি। হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় একজন গায়েনের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন। বিপরীতে শাওন। এ ছবিতে তাঁর লিপে ‘পূবালী বাতাসে, ওলো ভাবীজান নাও বাওয়া মদ্দ লোকের কাম’ গানগুলো তুমুল জনপ্রিয় ছিল।

হুমায়ূনের পরিচালনায় তাঁর আরেকটি ছবি ‘আমার আছে জল।’

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ জাহিদের উল্লেখযোগ্য ছবি। রাষ্ট্রের ঘটমান বিভিন্ন প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছবিটিতে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে। জনপ্রতিনিধি চরিত্রেই জাহিদ হাসান স্যাটায়ার ক্যারেক্টারে অনবদ্য ছিলেন।

আবু সাইয়ীদের ‘শঙ্খনাদ’ ছবিতেও জাহিদ অসাধারণ অভিনয় করেছেন। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ ছবিতে আঞ্চলিক ভাষায় চমৎকার একটি চরিত্রে ছিলেন। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাপলুডু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।

‘জীবনসঙ্গী’ ছবিতে অকালপ্রয়াত নায়িকা শামার সাথে অভিনয় করেছেন। এ ছবির গানগুলো জনপ্রিয়। এছাড়া কমেডি ছবি ছিল ‘ঝন্টু মন্টু দুই ভাই।’

মুক্তি প্রতীক্ষিত তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি ‘শনিবার বিকেল’ এবং ‘সিতারা।’ প্রথমটি মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর এবং পরেরটিতে তার বিপরীতে আছে টলিউডি অভিনেত্রী রাইমা সেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে।

চলচ্চিত্রে জাহিদ হাসানের সম্ভাবনা অনেক এখনো। তাঁকে মূল চরিত্রে রেখে শক্তিশালী গল্পের ছবি করানো সম্ভব। জাহিদ হাসানের অভিনয়শক্তিকে ব্যবহার করে তাঁকে আরো অনেকটা সময় চলচ্চিত্রে দরকার।


লেখক সম্পর্কে বিস্তারিত

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

মন্তব্য করুন