Select Page

বরবাদ: প্রথম সিনেমায় ছক্কা মেহেদী হাসান হৃদয়ের

বরবাদ: প্রথম সিনেমায় ছক্কা মেহেদী হাসান হৃদয়ের

[স্পয়লার নেই]

বড়লোকের বখে যাওয়া সন্তান আরিয়ান মির্জা। সবধরনের অপকর্ম করলেও তার উইক পয়েন্ট নিতু। নিতুকে পাওয়ার জন্য সে সব করতে পারে। তবে তাদের জীবনে আসে বেশকিছু জটিলতা। কী সেসব? উত্তর জানতে হলে দেখতে হবে মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এবং শাকিব খান, ইধিকা পাল, যীশু সেনগুপ্ত অভিনীত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘বরবাদ’।

শুরুতেই পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের ভাবনাকে স্যালুট এরকম লার্জার দ্যান লাইফ কিছু একটা বড়পর্দায় উপস্থাপন করবার সাহস করার জন্য। ‘বরবাদ’ একদম শুরুর সিক্যুয়েন্সেই মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। শাকিব খানের ম্যাসি এন্ট্রি সিনটাই সিনেমাহলে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। এরকম এন্ট্রি সিন আমি ‘রাজকুমার’ এবং ‘দরদ’-এ খুবই মিস করেছি। যাইহোক, সিনেমার প্রথমার্ধে মূলত শাকিব-ইধিকার সম্পর্কটাকে বিল্ড আপ করা হয়েছে। এ অংশে শাকিব খান এবং ইধিকা পালের রসায়ন বেশ ভালো ছিল। বেশকিছু অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স দেখা গিয়েছে এই অংশে। সেগুলো বেশ ম্যাসিভাবে উপস্থাপন করা, যা দেখতে বেশ ভালো লেগেছে। তবে বিরতির আগের টুইস্টটা একদম গুজবাম্প মোমেন্ট ছিল। একদম এক্সপেকটেশনের বাইরে কিছু একটা। যা কিনা সেকেন্ড হাফে গিয়ে গল্পকে আরও জটিল করে তোলে। সেকেন্ড হাফের প্রেজেন্টেশন বেশ ভালো। “পছন্দের জিনিস যেকোনো মূল্যে পেতেই হবে”-এই ব্যাপারটা বেশ মজা দিয়েছে। ভায়োলেন্সটা সেকেন্ড হাফেই বেশি ছিল। কিছু সমস্যা ছিল। সেটা নিয়ে পরে আলোচনা করছি। সেকেন্ড হাফের সবকিছুই বেশ ম্যাসিভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং চিত্রনাট্যও বেশ ফাস্ট ছিল এই অংশে। আর ক্লাইমেক্স তো আলাদাই মজা দিয়েছে। ক্লাইমেক্সে দেখা মিললো আলাদা এক শাকিব খানের। যে শাকিব খান অপ্রতিরোধ্য।

অভিনয়ে শাকিব খান দুর্দান্ত। এই শাকিব যতোটা চার্মিং এবং গ্রেসফুল, ততোটাই এগ্রেসিভ এবং রুড। শাকিব খানের এমন ম্যাসি লুক এবং প্রেজেন্টেশন আমি আগে দেখিনি। আরিয়ান মির্জা চরিত্রটা তার মতো করে আর কেউ ক্যারি করতে পারতো কিনা সন্দেহ। সেকেন্ড হাফে ওনার লুকটা ক্যারিয়ার বেস্ট লুক আমি বলবো। পাশাপাশি ক্লাইমেক্সের শাকিব খানকে ভুলে যাওয়া যাবেনা। দারুণ। ইধিকা পালও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। ‘প্রিয়তমা’ দেখার পরই আমি বলেছিলাম যে ইধিকা ঢালিউডে নিয়মিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। ‘বরবাদ’-এ বেশ ভালো ক্যারেক্টার পেয়েছেন তিনি। ক্যারেক্টারে কিছু শেড ছিল এবং সেখানে দারুণ অভিনয় করেছেন ইধিকা। পুরো সিনেমাজুড়েই ইধিকাকে বেশ মিষ্টিও লাগছিলো বটে (সব নায়িকার ক্ষেত্রেই এটা বলি আমি😝)। যীশু সেনগুপ্তের চরিত্রটার প্রেজেন্টেশন বেশ ভালো। যদিও এতো বছর পর যখন যীশুকে পাওয়া গেলো, তখন পর্দায় আরও বেশি উপস্থিতি আশা করেছিলাম। এছাড়াও মিশা সওদাগর বেশ ইমপেক্টফুল একটা চরিত্র প্লে করেছেন। ইন্তেখাব দিনার কিছুটা লাউড ছিলেন, তবে ভালো করেছেন। মানব সাচদেবের নাম আলাদাভাবে ম্যানশন করতে হয়। শ্যাম ভট্টাচার্য ভালো অভিনয় করেছেন। বাকি শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, নাদের চৌধুরী, কাজী হায়াত, ত্রপা মজুমদার নিজেদের জায়গায় ঠিকঠাক।

এই সিনেমায় মোট ৬টি গান আছে। জি এম আশরাফের কণ্ঠে “নিশ্বাস” গানটির প্লেসমেন্ট এবং প্রেজেন্টেশন বেশ ভালো ছিল। গুজবাম্প মোমেন্ট ক্রিয়েট করেছে সিনেমাহলে। নোবেলের কণ্ঠে “মহামায়া” শ্রুতিমধুর ছিল। প্রীতম হাসানের কণ্ঠে রোম্যান্টিক নাম্বার “দ্বিধা” ভালো ছিল। ডান্স নাম্বার “চাঁদ মামা” বেশ মজা দিয়েছে। ক্লাইমেক্সে একটা গান ছিল। সরি, আমি শিল্পীর নাম জানিনা। তবে গানটা ভালো ছিল। ইমরান এবং কোনালের কণ্ঠে “মায়াবী” গানের টিউনটা সুন্দর। টিউনটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে কাজ করেছে প্রথম হাফে। সেকেন্ড হাফের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজও ভালো। রাজু রাজের সিনেমাটোগ্রাফি চোখের প্রশান্তি দিয়েছে। কালার গ্রেডিং যুতসই।

এইবার আসি ‘বরবাদ’-এর নেগেটিভ দিকগুলোতে। ফার্স্ট হাফের চিত্রনাট্য আরেকটু টাইট হলে মন্দ হতোনা। যীশু সেনগুপ্তের এন্ট্রি সিনটা ভালো। তবে তারপর পুলিশ স্টেশনের অংশটুকুর কাটা-ছাট চোখে লেগেছে। ভায়োলেন্স সিনগুলোর প্রেজেন্টেশন ভালো। কিন্তু ব্লার করার কারণে কেমন যেনো খামতি মনে হয়েছে। ফ্যামিলি অডিয়েন্সকে টার্গেট করার জন্য ব্লার করা হলেও সিরিয়াসলি ফ্যামিলি অডিয়েন্স এগুলো দেখলেও ভরকেই যাবে। যীশু সেনগুপ্তকে শুরু থেকেই যতোটা শক্তিশালী দেখানো হয়েছে, শেষে গিয়ে তিনি কেমন যেনো মলিন হয়ে গেলেন। যীশু সেনগুপ্তকে আরেকটু স্ক্রিনটাইম দিলে মন্দ হতোনা।

সবমিলিয়ে, এই ছিল আমার দৃষ্টিতে ‘বরবাদ’। মেহেদী হাসান হৃদয় প্রথম সিনেমা দিয়েই ছক্কা হাকিয়েছেন। তবে একটা প্রশ্ন আসতে পারে-‘তুফান’ নাকি ‘বরবাদ’-কোনটা এগিয়ে? সিনেমাহলে যান, নিজেই খুঁজে বের করুন। 🤫


Leave a reply