Select Page

রিভিউ/ আমার প্রতিজ্ঞা যেন ‘কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না’

রিভিউ/ আমার প্রতিজ্ঞা যেন ‘কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না’

[২০০০ সালের ৬ অক্টোবর মুক্তি পায় সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘আমার প্রতিজ্ঞা’। ব্যানার আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের এমবি প্রডাকশন। প্রধান কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেন মান্না, মৌসুমী, তামান্না, ফেরদৌস ও মিশা সওদাগর। তৎকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত রিভিউর ক্লিপিংটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া। অসমাপ্ত। ওপরে দেয়া শিরোনামটি বিএমডিবির দেয়া।]

কথায় বলে খাসলত বদল মরলেও হয় না, কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না। অর্থাৎ যার যা চরিত্র তার পরিবর্তন সহজে হয় না। সেটা তার কাজে কর্মেই প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমার প্রতিজ্ঞা’ ছবিটি দেখে তাই মনে হয়েছে।

এ ছবির প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। তাকে নিয়ে সমাজে অনেক কিছুই প্রচলিত আছে। এ ছবিতে মৌসুমী ঠাণ্ডা মাথায় যেভাবে মানুষ খুন করে আবার প্রেমিকের সঙ্গে অভিসারে মেতে উঠেছে তা দেখে আজিজ মোহাম্মদ ভাই সম্পর্কিত প্রচলিত নানা বিষয়ের কথাই মনে পড়েছে। আসলেই কি এমন ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করে আবার প্রেমিকের সঙ্গে অভিসারে মেতে উঠা সম্ভব? সোহানুর রহমান সোহান এমন একটি চরিত্রে মৌসুমীকে কিভাবে উপস্থাপন করলেন তা বুঝে আসে না। এমন চরিত্রে মৌসুমীকে বেমানান সেটা কি মৌসুমী বুঝেননি? নাকি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ছবি বলেই তিনি এমন একটি বেমানান চরিত্রে অভিনয় করলেন?

এ ছবিতে পুলিশ অফিসার ফেরদৌসের হাতে নির্বিচারে যেভাবে মানুষ খুনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে সেটা কি প্রচলিত আইনের অবমাননা নয়? আইনের প্রতি এই অবমানাকর দৃশ্য সেন্সর বোর্ড কি করে মুক্তি দিলো? নাকি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ছবি বলেই সব কিছু সম্ভব?

তামান্না এবং ফেরদৌস এ ছবিতে ছাগলের তিন নম্বর ছানার মতোই কেবল লাফালাফি করেছেন। তামান্নার কেরিয়ারে ভাটা পড়ায় ছবি হাতে নেয়ার জন্যেই সে না হয় এমন চরিত্রে অভিনয় করলো কিন্তু গুরুত্বহীন এমন একটি চরিত্রে ফেরদৌস কেনো অভিনয় করলেন তা বুঝে আসেনি। এ ছবিতে মৌসুমী একের পর এক খুন করে যায় কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে ব্যর্থ হয়। অথচ ছবিতে ফেরদৌসকে অন্যরকম এক ডাকসাইটে পুলিশ অফিসার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এমন গোঁজামিলের কাহিনী নিয়ে সোহানুর রহমান সোহান কিভাবে ছবি তৈরি করলেন? নাকি তিনিও পরিমাণে একটু বেশি গাঁজা খেয়ে ফেলেছিলেন? এমন গাঁজাখুড়ি গল্পের ছবিতো গাঁজা না খেয়ে নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এ ছবিতে মান্নাই একমাত্র শিল্পী যে তার স্বভাবসিদ্ধ অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। তবে তামান্নার সঙ্গে তার নাচানাচিটা খুব বেমানান ঠেকেছে।

এ ছবিতে যেভাবে কাপড় খুলে তামান্নাকে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে তামান্নাও মৌ, ময়ূরীর তালিকায় চলে গেছেন বলেই মনে হয়েছে। এ ছবির সঙ্গীত পরিচালককে অবশ্য একটু বাড়তি ধন্যবাদ দিতে হয় এই জন্যে যে, তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হিন্দি গানের নকল সুর চালিয়ে দিয়েছেন। চুরি বিদ্যায় তিনি যে ওস্তাদ এটা তার বিরল কৃতিত্ব।


Leave a reply