Select Page

শাকিব খানের অভিনয়, পাগলামি, স্টাইলিশ অ্যাকশন ও ইনটেন্স প্রেমের গল্প ‘বরবাদ’

শাকিব খানের অভিনয়, পাগলামি, স্টাইলিশ অ্যাকশন ও ইনটেন্স প্রেমের গল্প ‘বরবাদ’

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের প্রথম চলচ্চিত্র ‘বরবাদ’, ঈদের বাজার মাতানো এক মাস এন্টারটেইনার। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেগাস্টার শাকিব খান, তার বিপরীতে ইধিকা পাল। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন যীশু সেনগুপ্ত, মিশা সওদাগর, ইন্তেখাব দিনার, মানব সাচদেব এবং শহীদুজ্জামান সেলিম।

গল্প আবর্তিত হয়েছে আরিয়ান মির্জা (শাকিব খান) নামের এক ক্ষমতাবান ধনী পরিবারের সন্তানকে ঘিরে, যার একমাত্র উইক পয়েন্ট নিতু (ইধিকা পাল)। নিতুকে পাওয়ার জন্য সে সব করতে পারে, কিন্তু একটা পর্যায়ে এমন কিছু ঘটিয়ে ফেলে, যা পুরো দেশকে তার বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেয়।

সিনেমাটি স্টারডম আর স্টাইলের মিশেলে একদম মাস অ্যাকশনের ফরম্যাটে তৈরি করা হয়েছে। গল্পটা মূলত ক্ষমতা, প্রতিশোধ আর এক্সট্রিম লাভ অবসেশনের মিশেলে তৈরি। প্রথমার্ধে শাকিব-ইধিকার প্রেমের গল্প আর শাকিব খানের ক্যারিশম্যাটিক প্রেজেন্টেশন বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বিরতির আগে একটা বিশাল টুইস্ট আসে, যা পুরো গল্পকে নতুন রূপ দেয়। দ্বিতীয়ার্ধ অনেক বেশি ইনটেন্স, যেখানে আরিয়ান মির্জার আসল রূপ দেখা যায়।

গল্পে ভায়োলেন্স, ইমোশন আর স্টাইলিশ অ্যাকশনের দারুণ মিশ্রণ আছে। বিশেষ করে ‘যে জিনিস চাই, তা যেকোনো মূল্যে আদায় করতে হবে’- এই মনোভাবের প্রেজেন্টেশন দর্শকদের হুকড করে রাখবে। তবে কিছু জায়গায় চিত্রনাট্য আরও টাইট করা যেত।

শাকিব খান এই মুভির প্রাণভোমরা। তার চরিত্রের দুই দিক- একদিকে চার্মিং লাভার, অন্যদিকে উগ্র, পাগলাটে, নিষ্ঠুর প্রতিপক্ষ। এই দুই সত্ত্বার মিশেলে শাকিব খান যে ভয়ংকর লুক এনেছেন, তা ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলা যায়। ক্লাইম্যাক্সে তার ক্যারিশমা একদম নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইধিকা পাল ‘প্রিয়তমা’র পর আরও বেশি স্ক্রিনটাইম পেয়েছেন এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরেছেন। তার চরিত্রে মিষ্টি-গ্ল্যামারাস লুকের পাশাপাশি কিছু ইমোশনাল ডেপথ আছে। যীশু সেনগুপ্তের দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্স, তবে তার চরিত্রটা শেষের দিকে কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়। আরও স্ক্রিনটাইম দিলে ভালো লাগতো। সাপোর্টিং কাস্টে মিশা সওদাগর, মানব সাচদেব, ইন্তেখাব দিনার, শহীদুজ্জামান সেলিম সবাই নিজেদের জায়গায় ঠিকঠাক ছিলেন। তবে কিছু চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট আরও ভালো করা যেত।

নতুন পরিচালক হিসেবে মেহেদী হাসান হৃদয়ের আত্মপ্রকাশ সত্যিই চমকে দিয়েছে। তার স্টাইলাইজড প্রেজেন্টেশন, মাস অ্যাপিল বোঝার ক্ষমতা এবং ফ্যান সার্ভিস দেওয়ার দক্ষতা প্রশংসনীয়। সিনেমাটোগ্রাফি, কালার গ্রেডিং এবং ক্যামেরার কাজ যথেষ্ট ভালো।

ছবির জি এম আশরাফের গাওয়া ‘নিশ্বাস’ দারুণ একটা সময়ে প্লেসমেন্ট করা হয়েছে, হলে গুজবাম্প সৃষ্টি করেছে দর্শকদের। নোবেলের মহামায়া মেলোডিয়াস ছিলো। প্রিতম হাসানের ‘দ্বিধা’ শুরুতে রোম্যান্টিক টাচ দিয়েছে। ‘চাঁদ মামা’ ডান্স নাম্বার হিসেবে দারুণ। ক্লাইম্যাক্সে একটা দারুণ গান ছিলো, সেই গানটার সময় ভরপুর সিনেমাহল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও বেশ স্টাইলিশ ছিল। বিশেষ করে শাকিব খানের এন্ট্রি সিনে ব্যবহার করা থিম মিউজিক বেশ ভালো লেগেছে। এমনকি আলাদা আলাদা চরিত্রের জন্য আলাদা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহারের বিষয়টা দারুণ লেগেছে।

ছবির অ্যাকশন দৃশ্যগুলো খুবই মাস অ্যাপিলিং, বেশ কিছু দারুণ শট আছে যা দর্শকদের তালি ও চিৎকারে মাতিয়ে তুলেছে। তবে কিছু ভায়োলেন্ট সিন ব্লার করা হয়েছে, যা ভিজ্যুয়াল ইম্প্যাক্ট কিছুটা কমিয়ে দেয়।

এখন যদি কিছু নেগেটিভ দিক বলি, যীশু সেনগুপ্তের চরিত্রটা প্রথমদিকে শক্তিশালী থাকলেও শেষে এসে কেমন যেনো মলিন হয়ে গেছে। তাকে আরও ভয়ঙ্করভাবে উপস্থাপন করা যেত। ক্লাইম্যাক্স আরও ভালো হতে পারতো, একদম শেষের শটটা অনেক বেশি স্টাইলাইজড হলেও স্টোরিটেলিংয়ে আরেকটু ভালো ক্লোজার প্রয়োজন ছিল। প্রথমার্ধে কিছু সিন টেনে লম্বা করা হয়েছে, সেগুলো আরেকটু টাইট করা যেত।

পরিশেষে বলতে চাই, ‘বরবাদ’ নিঃসন্দেহে বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশন জনরার সিনেমায় অন্যতম সেরা কমার্শিয়াল সিনেমা। এমনকি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের বেস্ট সিনেমা বললেও ভুল হবে না। শাকিব খানের অভিনয়, পাগলামি, স্টাইলিশ অ্যাকশন আর ইন্টেন্স প্রেমের গল্প একে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।


About The Author

Leave a reply