
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ওটিটিশুধু সিনেমা নির্মাণ ও দেখানোর মাধ্যম হয়ে উঠছে চরকি?
সম্প্রতি ৪ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ওটিটি প্লাটফর্ম চরকি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি এ সময়ের মাঝে ১০০ কোটির বেশি ঘণ্টা কনটেন্ট দেখছেন দর্শকরা। ওটিটি কনটেন্টের পাশাপাশি প্লাটফর্মটি চলচ্চিত্র নির্মাণে বেশ কিছু মাইলফলক তৈরি করায় আলাদা সমীহ আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি যেন ওটিটি হিসেবে চরকির চমক, দর্শকগ্রহণযোগ্য কনটেন্ট ও বৈচিত্র্যকে কোনঠাসা করে দিয়েছে।

বিশেষ করে চলতি বছরে চরকির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে দুই ঈদে রিলিজ হওয়া সিনেমাগুলো। নিজেদের প্রযোজনায় নির্মিত দাগি, তাণ্ডব বা উৎসব তো রয়েছেই। এর সঙ্গে আলোচিত ছবিগুলো স্ট্রিমিং করছে চরকি। একই সময়ে অরিজিনাল সিরিজ ও ছবির সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। যার মধ্যে জাহিদ প্রীতম পরিচালিত ‘ঘুমপরী’ ছাড়া কোনো কনটেন্টই তেমন আলোচনা জাগাতে পারেনি। এর তুলনায় ঈদের সিনেমাগুলোর প্রায় একচেটিয়া ওটিটি স্বত্ব নিয়ে বেশি আলোচনায় ছিল।
এবার ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় এসভিএফ-আলফা আইয়ের সঙ্গে চরকি প্রযোজিত ও শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘দাগি’। একই ঈদের বাকি তিন সিনেমা বরবাদ, জংলি ও চক্কর ৩০২ পরে চরকিতে স্ট্রিমিং হয়। ঈদুল আজহায় চরকির আকর্ষণ বলতেছিল এ চার সিনেমা।
অন্যদিকে ঈদুল আজহায় আলোচিত রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’ ও তানিম নূরের ‘উৎসব’-এর সহপ্রযোজক ছিল চরকি। সিনেমা হলে মুক্তির মাস দু-এক পর এগুলো চরকিতে রিলিজ হয়। এছাড়া সম্প্রতি স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে আলোচিত ‘দেয়ালের দেশ’ সিনেমার। এখন কোরবানির আগের সিনেমা ‘ইনসাফ’ রিলিজের অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি চার বছর পূর্তি উপলক্ষে চরকি বলেছিল, “দর্শকদের মধ্যে এই চাহিদা চরকি তৈরি করেছে নানা পন্থায়। অরিজিনাল সিরিজ, মুভি, ফ্লিক, ট্র্যাভেল, কুকিং ও কমেডি শো, বিদেশি কনটেন্ট নিয়মিতই মুক্তি দিচ্ছে চরকি।” তবে বাস্তবে এ ধরনের কনটেন্ট দিয়ে চরকি চলতি বছরে তেমন সাড়া পায়নি, যতটা সিনেমার সূত্রে পেয়েছে।
চরকি ওই সময় আরো বলে, “শুধু জনপ্রিয় ঘরানার সিনেমাই নয়, বিভিন্ন ধরনের দর্শকের কথা ভেবে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বা ফ্যামিল অডিয়েন্স, যাঁরা প্রেক্ষাগৃহে গল্পনির্ভর সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্যও কাজ করেছে চরকি। ‘৩৬-২৪-৩৬’, ‘প্রিয় মালতী’র মতো সিনেমা প্রযোজনায়ও যুক্ত হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।”
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বেশ কয়েকটি সিরিজ স্ট্রিমিং করেছে চরকি। এর মধ্যে রয়েছে ফেউ, অ্যালেন স্বপন ২ ও গুলমোহর। এর মধ্যে ‘অ্যালেন স্বপন’ প্রথম কিস্তিতে যতটা আলোচনায় ছিল দ্বিতীয় কিস্তিতে ততটা নিষ্প্রভ। সিরিজটি মুক্তি পায় ঈদুল ফিতরে, একই সময়ে সিনেমা হলে চরকির প্রযোজনায় মুক্তি পায় একই পরিচালকের দাগি। অন্যদিকে ফেউ ও গুলমোহর কনটেন্ট হিসেবে চমকে দেয়ার মতো হলেও এর গল্পের সঙ্গে যে রাজনৈতিক টানাপড়ন যা দর্শকদের সঙ্গে ততটা সংযোগ তৈরি করতে পারেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। তারা এখন সংস্কৃতির আড়ালে রাজনৈতিক প্রচারণাকে সন্দেহের চোখেই দেখে। এছাড়া বছরের শুরুর দিকে এসেছে রায়হান রাফীর সিনেমা ‘আমলনামা’। যা সম্ভবত রাফীর সবচেয়ে নিষ্প্রভ কাজ ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক তৈরি করেছে।
এখন এসভিএফ-আলফা আইয়ের যেকোনো কাজে অবধারিতভাবে চরকির নাম চলে আসে। প্রতিষ্ঠানটি এখন ডিসেম্বর ও আগামী বছরের ঈদকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। সে হিসেবে এগুলো এ অর্থে চরকির জন্যও চমক।