Select Page

সত্যিই কি ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়’

সত্যিই কি ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়’

‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়’ এমন একটি ফটোকার্ডে গতকাল সরগরম ছিল স্যোশাল মিডিয়া। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে শুনতে হয় বাক্যবাণ। পরে জানা যায়, মাদক ও ধুমপানবিরোধী সংগঠন মানসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তাদের কেউ কেউ এমন প্রস্তাব তোলেন। কিন্তু সংবাদের ফটোকার্ডে বিষয়টি উহ্য থাকায় তৈরি হয় ক্ষোভ। পরে একই বিষয়ে মন্তব্য করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

উল্লেখ্য যে বরাবরই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে সচেতনতামূলক আয়োজন করে আসছে মানস।

গত বৃহস্পতিবার তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন : সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সদস্য ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, চলচ্চিত্র পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌ, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন রোর্ডের উপপরিচালক মো. মঈনউদ্দিন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. ফরহাদুর রেজা, বঙ্গ ওটিটির হেড অব কন্টেন্ট হায়দার আলী প্রমুখ।

মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য অল্পবয়সীদের প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শক জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘তাণ্ডব’ চলচ্চিত্রে ১০২ বার ধূমপানের দৃশ্য প্রচার হয়েছে।

‘আলী’ সিনেমায় ৫৫ এবং ‘বরবাদ’ এ ১২১ বার ধূমপানের দৃশ্য ফোকাস করে দেখানো হয়েছে। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য প্রচারের সুযোগ নেই। চলচ্চিত্রের সেন্সর সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের এ আইন সচেতনভাবে প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান ও কার্যকর


সকলের প্রচেষ্টায় পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান অনেকাংশে কমেছে বলে মন্তব্য করেন এস. এম আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র, ওটিটি কন্টেন্টগুলোতে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য প্রদর্শন যুক্তিযুক্ত নয়। এসব দৃশ্য দেখে শিশুরা প্রভাবিত হয়। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো সচেতন হতে হবে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের তরফ থেকে সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেননা, চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য বোর্ড নিরলসভাবে কাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো তাদের প্রচারের কৌশল পরিবতন করছে। একইভাবে ধূমপানের পরিবর্তে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ই-সিগারেট। এর বড় কারণ বিনোদন মাধ্যমে প্রধান চরিত্রগুলো দ্বারা সিগারেট ও ই-সিগারেটের প্রচারণা। চলচ্চিত্র শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বিনোদন সহজলভ্য করেছে। তাই ওটিটি কন্টেন্ট সেন্সরশিপের আওতায় আনতে হবে। ধূমপান দিয়ে মাদকাসক্তির শুরু হয়, এটা প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ সবাই তামাকের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কাজ করলে সচেতনতা ছড়িয়ে যাবে এবং ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ফারুকী এক ফেসবুক পোস্টে আজ লিখেন, সিনেমায় সিগারেট দেখালে জাতীয় পুরস্কার দেয়া হবে না, এই ফটোকার্ড দেখেই আমি নিশ্চিত ছিলাম এটা আরেকটা গাঁজাকান্ড। কারণ এই সরকার এখনো চেয়ারে বসতেই পারলো না আর এরকম দ্রুততার সাথে এই রকম ছোট একটা কাজ করে ফেলবে? সরকার যন্ত্রের গতি ভেতর থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানতাম এটা অসম্ভব। তথ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম এরকম কোনো সিদ্ধান্ত দুরের কথা আলোচনাও হয় নাই। তাহলে ঘটনা কী? ধুমপান বিরোধী একটা প্রতিষ্ঠান এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই দাবী জানিয়েছে। আর তৈরি হয়ে গেলো এমন এক কায়দা করা ফটোকার্ড যেটা দেখলে মনে হবে ঘটনাটা ঘটেই গেছে।

একইভাবে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়- এমন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান।


আব্দুর রহমান আজ ফেসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড এর পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে, “চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়” শিরোনামের একটি সংবাদ ও ফটোকার্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাখ্যা প্রদান প্রয়োজন মনে করছি।’


তিনি জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড আয়োজিত‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন: সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অংশগ্রহণকারী কোন একজন বক্তা তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। সভায় মূলত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন, চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন নিরুৎসাহিতকরণ এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় হয়।


আব্দুর রহমান লেখেন, ‘স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, “ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে না” এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সভায় গৃহীত হয়নি। এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ারও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের নেই।’


‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নির্দিষ্ট আইন ও বিধি দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়। এ সংস্থা তার গাইডলাইনের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা বা সুযোগ রাখে না।’


Leave a reply