ঈদের দুই সিনেমার প্রযোজককে সার্টিফিকেশন বোর্ডের নোটিশ, জেনে নিন অভিযোগগুলো
ঈদুল ফিতরের মুক্তি পাওয়া দুই সিনেমাকে নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ও ‘রাক্ষস’। সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক চিঠিতে সিনেমা দুটি বিরুদ্ধে সার্টিফিকেশন বোর্ডের কতনকৃত দৃশ্য ও সেন্সরবিহীন দৃশ্য প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২ এপ্রিল দুই সিনেমার প্রয়োজক বরাবর চিঠি পাঠায় চিঠি সার্টিফিকেশন বোর্ড।
প্রিন্স প্রযোজক শিরিন সুলতানাকে লেখা চিঠির বিষয়, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা” চলচ্চিত্রের সাথে সার্টিফিকেশনবিহীন গান ও দৃশ্য এবং সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক কর্তনকৃত দৃশ্য সংযোজন করে প্রদর্শন করার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান প্রসংগে।
সেখানে লেখা হয়, ২২ এপ্রিল রংপুরের ‘শাপদা টকিজ’; কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর খানাধীন ‘রাজ’ ও ভৈরব থানাধীন ‘মরশন’, গাইবান্ধা জেলায় সদর থানাধীন ‘তাজ’ হলে চলচ্চিত্রটি দেখে এ দপ্তরের কর্মকর্তাটা। ২৪ এপ্রিল দেখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন ‘তামান্না’, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা আনাধীন ‘রুমা’, বগুড়া জেলার আদমদীঘি আনাধীন ‘পূর্বাশা’ ও সদর থানাধীন ‘সোনিয়া’। ২৫ এপ্রিল দেখে যশোর জেলার সদর থানাধীন ‘মনিহার’। ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরীর ‘সুগন্ধা’ ও সিনেমা প্যালেস, ২৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগরীর ‘মধুমিতা’ এবং ২৮ এপ্রিল দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানাধীন ‘সোনালী টকিজ’ ও বিরামপুর থানাধীন ‘অবসর’; শেরপুর জেলার সদর থানাধীন ‘সত্যবর্তী’ ও ‘রূপকথা’ সিনেমা হলগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপঅন এ টাইম ইন ঢাকা’ চলচ্চিত্রের সাথে সার্টিফিকেশনবিহীন গান ও দৃশ্য (‘একা একা লাগে তোমারে ছাড়া’ শিরোনামের গান এবং প্রিন্স কর্তৃক ভারতের একটি মরুভূমিতে রামদা দিয়ে নির্বিচারে বীভৎসভাবে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য) এবং সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক কর্তনকৃত দৃশ্য (পাঠান কর্তৃক চাপাতি দিয়ে একজনের বাহু কর্তন ও চাপাতি দিয়ে একজনের গলাকাটার বীভৎস দৃশ্য। মেয়েদের অন্তর্বাসের দীর্ঘক্ষণ যাবত অশালীন দৃশ্য) সংযোজন করে প্রদর্শন করা হয়েছে। একইসাথে সার্টিফিকেশন প্রাপ্ত কপিতে ধুমপান ও মাদক সেবনের সর্তকবাণী বেশ বড় ফন্টে দৃশ্যমান থাকলেও সিনেমা হলে চলা কপিতে টেম্পারিং করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফন্টে প্রদর্শন করা হয়েছে।
এছাড়া চলচ্চিত্রটির সাথে মোজো, কোকা কোলা, ক্লেমন, ফ্রুটিকা, স্প্রীং, পোলার আইসক্রিম, রাধুনী বিরিয়ানীর মসলা, রাঁধুনী রোস্টের মসলা, রীধুনী কালা ভুনার মসলা, রাঁধুনী ফালুদা মিক্স, চাধী সুগন্ধী চিনিগুড়া চাউল, মায়া হার্বাল কোকোনাট অয়েল, হোয়াইট প্লাস টুথপেস্ট, রিন, বাংলালিংক, মেরিল সিরাম যোগবার বিজ্ঞাপনচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।
আরো বলা হয়, সার্টিফিকেশন সনদপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সাথে সার্টিফিকেশনবিহীন গান ও দৃশ্য, সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক কর্তনকৃত দৃশ্য এবং সার্টিফিকেশনবিহীন বিজ্ঞাপনচিত্র সংযোজন করে প্রদর্শন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন-২০২৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
‘এমতাবস্থায়, দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে বিদ্যমান আইন ও বিধি লঙ্গন করে “প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা” প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কেন আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা এ পত্র প্রাপ্তির তিনকার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এদিকে ‘রাক্ষস’ সিনেমার প্রযোজক শেহেরিন আক্তার সুমী বরাবর পাঠানো চিঠির বিষয় ‘রাক্ষস: চলচ্চিত্রের সাথে সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক কর্তনকৃত দৃশ্য সংযোজন করে প্রদর্শন করার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান প্রসঙ্গে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাক্ষস’ চলচ্চিত্রটি সার্টিফিকেশন বোর্ডের কর্মকর্তারা ২৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগরীর স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখেন। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, উক্ত সিনেপ্লেক্সে ‘রাক্ষস’ চলচ্চিত্রের সাথে সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক কর্তনকৃত সংলাপ (নারী আটকায় লোভে, খাওয়া মাল খাইনা, চাচাকে ভরে দিমু ইত্যাদি অশালীন সংলাপ) সংযোজন করে প্রদর্শন করা হয়েছে।
এছাড়া ফ্রুটিকা, ক্লেমন, মোজো, চাষী সুগন্ধি চাউল, সেভয় ডিসকোন, গ্রামীণ ফোন, স্কয়ার পণ্য, রাঁধুনী মসলা, পোলার আইসক্রিম, স্প্রীড ইত্যাদি বিজ্ঞাপনচিত্র প্রদর্শন রয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, সার্টিফিকেশন সনদপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সাথে সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক কর্তনকৃত দৃশ্য এবং সার্টিফিকেশনবিহীন বিজ্ঞাপনচিত্র সংযোজন করে প্রদর্শন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন-২০২৩ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এমতাবস্থায়, দেশের বিভিন্ন গ্রেক্ষাগৃহে বিদ্যমান আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ‘রাক্ষস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কেন আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা এ পত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।






