শ্রীলঙ্কায় ‘প্রিন্স’ টিমকে ১৬ দিন বেকার বসিয়ে রেখেছিলেন শাকিব খান?
ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুটিং ও ডাবিং নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যে এবার উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কায় শুটিং বিলম্বের বিষয়টি। অভিযোগ—পুরো ইউনিট ১৬ দিন সেখানে অবস্থান করলেও শুটিং হয়নি। আর এ বিষয়ে অভিযোগের তীর গেল খোদ শাকিব খানের দিকে।

শুটিং ও ডাবিং নিয়ে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল—বাড়তি পারিশ্রমিক দাবির কারণে ডাবিং বন্ধ রেখেছিলেন শাকিব খান। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক সেমিনারে তিনি বলেন, ‘প্রিন্স মুক্তির পর সবাই মিলে প্রযোজককে দোষ দেওয়া হলো। কিন্তু ঠিক সময়ে সিনেমা শেষ করতে কেন পারল না, অসম্পূর্ণ সিনেমা কেন রিলিজ দিল—সবাই মিলে নতুন প্রযোজককে চেপে ধরা হলো। ভেতরের কাহিনি কি জানার চেষ্টা করেছে কেউ? একটি ইউনিট যদি ১৬ দিন শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বসে থাকে, অথচ শুটিং হয় না। সেখানে একজন প্রযোজকের কী করার আছে। ভারতে গিয়ে বাড়তি টাকার জন্য ডাবিং বন্ধ থাকে। যেখানে কন্ট্রাকের বেশির ভাগ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন,‘প্রযোজক সমিতি কার্যকর থাকলে কেন ১৬ দিন শুটিং হলো না, সে বিষয়ে তদারকি করত। সবার সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যেত। ১৬ দিনে অন্তত ১০ দিন হয়তো শুটিং করতে পারত প্রযোজক। সে সময় হয়তো প্রযোজক সমিতি গ্যারান্টার হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ডাবিং শেষ করার উদ্যোগ নিত। এমন ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে।’
খসরু আরও মন্তব্য করেন,‘সিনেমার শেষ দিকে এসে প্রযোজকের টাকায় টান পড়তেই পারে। তাই বলে সিনেমাটি শেষ হবে না? আমরা কোথায় এসে পড়েছি, কোথায় গেল আমাদের মানবিকতা। বেশির ভাগ পারিশ্রমিক পাওয়ার পরেও আমি সিনেমার ডাবিং করছি না। শ্রীলঙ্কা গেলাম, কিন্তু শুটিং করলাম না। পুরো ইউনিট বসে থাকল। এগুলো বার্নিং ইস্যু। এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’
যদিও কয়েক সপ্তাহ আগে রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টের স্টার সিনেপ্লেক্সে বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রিন্স’-এর বিপত্তি নিয়ে ভিন্ন কথা বলেছিলেন শাকিব খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ, প্রযোজক শিরিন সুলতানা, অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, অভিনেতা ডা. এজাজ, ইন্তেখাব দিনারসহ অনেকে।

বিশেষ প্রদর্শনীতে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও শাকিব খান
এসময় শাকিব খান বলেন, ‘আমি যখন প্রিন্স সিনেমার গল্প শুনেছি তখন মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হতে যাচ্ছে। হয়তো সময় স্বল্পতার কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি। এজন্য নির্মাতাসহ সবার পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকার করছি। আমরা কিছু চেষ্টা করেছি। আমি আমার পরবর্তী সিনেমাতে ত্রুটিগুলো খেয়াল করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৩০টির বেশি গল্প শুনে একটি গল্প পছন্দ করি। বলতে গেলে, সারা বছরই গল্প শুনি। এরপর একটি গল্প পছন্দ করি। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে সেটা সেটা ভিন্ন। আমরা তিন মাস ভারতে কাজের অনুমতি পাইনি। এরপর যা হয়েছে সেটা আরও ভয়াবহ। যেখানে আমাদের সিনেমার সেট ফেলা হয়েছিল সেটা ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেও অনেক সময় চলে গেছে। ফলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়েছে। যার কারণে সময়ের অভাবে অনেক ত্রুটি থেকে গেছে। হায়াত মাহমুদ অনেক ভালো ও মেধাবী একজন নির্মাতা। আমরা যদি উপযুক্ত সময় পেতাম তাহলে ভালো কিছু হতো।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ শ্রীলঙ্কায় শুটিং না হওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেননি, তবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘প্রিন্স সিনেমা নিয়ে এমনিতে অনেক কাদা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। এ নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলতে চাই না। সামনে যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সবাইকে ডেকে নিজে থেকে বলব।’
মুক্তির পর থেকেই ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি নানা সমালোচনার মুখে পড়ে। অভিযোগ ওঠে পোস্ট-প্রোডাকশনে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার কারণে সাউন্ড, কালার, ভিএফএক্সসহ নানা কারিগরি ত্রুটি ছিল। গল্পের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দর্শকরা। এমনকি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রথম চার দিন সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়নি। ঈদের দিন বহু সিঙ্গেল স্ক্রিনেও দেখানো যায়নি সিনেমাটি, যা নিয়ে কিছু হলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।






