Select Page

শাকিব ভক্তদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা, নতুন পেজে ফিরল রেমন্যান্ট গ্লিম্পস

শাকিব ভক্তদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা, নতুন পেজে ফিরল রেমন্যান্ট গ্লিম্পস

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও বিনোদনভিত্তিক ফেসবুক পেজ রেমন্যান্ট গ্লিম্পস সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন নামে ফিরে এসেছে। ‘রেমন্যান্ট গ্লিম্পস ২.০’। নতুন যাত্রার শুরুতেই শাকিব খানের ভক্তদের উদ্দেশে ক্ষমাপ্রার্থনামূলক একটি পোস্ট করেছে পেজটির কর্তৃপক্ষ। এ পোস্টের পর অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, শাকিব খানের ভক্তদের গণহারে রিপোর্টের কারণেই মেটা কর্তৃপক্ষ আগের পেজটি বন্ধ করে দেয়।

ক্ষমাপ্রার্থনার পোস্টে রেমন্যান্ট গ্লিম্পস লিখেছে, ‘যদিও আমি চেষ্টা করে গেছি আমার জার্নিতে অনেস্ট থাকার, আমি জানি ভুলবশত হোক বা রাগের মাথায় আমি মেগাস্টারের ফ্যানবেজকে হার্ট করেছি। আমার ফল্ট যতটা না রিভিউতে ছিল, তার চেয়ে বেশি হয়তো কমেন্টসে অ্যাগ্রেসিভভাবে আক্রমণ করা বা কষ্ট দিয়ে কথা বলায়।

‘কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আমিও আমার ফল্টের জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। দেশের সবচেয়ে বড় ও লয়াল ফ্যানবেজকে হার্ট করে কোনো পথচলা সুন্দর হতে পারে না। আমি আমার ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। আশা করি আগামীর পথচলা রেষারেষির বাইরে গিয়ে সুন্দর ও নন-টক্সিক হবে। সরি এগেইন।’

তবে এই ক্ষমাপ্রার্থনায় সন্তুষ্ট নন শাকিব খানের ভক্তদের একটি অংশ। যেমন তানিম ইউনিভার্স নামের একটি ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘যখন তাদের পেজ বড় ছিল, তখন দিন-রাত শাকিব খানকে নিয়ে নোংরামি করেছে। কিন্তু পেজ হারানোর পর এখন শাকিবিয়ানদের কাছে সহানুভূতি চাইতে এসেছে। এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য? ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যা ইচ্ছা তাই করবে, আর পরে ক্ষমা চাইলেই সব শেষ—এ ধরনের চালাকি শাকিবিয়ানরা বোঝে।’

রেমন্যান্ট গ্লিম্পসের ক্ষমাপ্রার্থনার পোস্টের মন্তব্যেও দেখা গেছে, অনেক শাকিব ভক্তের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।

এদিকে চলচ্চিত্রবিষয়ক লেখক, অভিনেতা ও শিক্ষক সৈয়দ নাজমুস সাকিব, যিনি একসময় রেমন্যান্ট গ্লিম্পসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পেজটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, অনলাইনে বাংলাদেশের নাটক-সিনেমা নিয়ে আলোচনা করা পেজগুলোর মধ্যে রেমন্যান্ট গ্লিম্পস অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয়। সম্প্রতি সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে পেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর অ্যাডমিনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিও ডিজেবল করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য, পেজটির সব কনটেন্টের সঙ্গে তিনি সবসময় একমত ছিলেন না। কিন্তু মতভিন্নতা থাকলেও আলোচনা করার সুযোগ ছিল। শিল্পের মূল্যায়ন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই একটি পেজের মতামত অপছন্দ হলেই সেটিকে গণহারে রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।

সৈয়দ নাজমুস সাকিব আরও বলেন, দেশের চলচ্চিত্র পাইরেসি, সিনেমা হলের সংকটসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব থাকলেও একটি ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে অনেকের আগ্রহ দেখা যায়। এতে ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মতে, আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমেই শিল্প এগিয়ে যায় এবং গত কয়েক বছরে দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের অগ্রগতিতে এ ধরনের পেজেরও কিছু অবদান রয়েছে।

তিনি নতুন রেমন্যান্ট গ্লিম্পস ২.০ পেজের সফলতা কামনা করে আগের অনুসারীদের নতুন পেজেও যুক্ত থাকার আহ্বান জানান।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ বাংলা চলচ্চিত্র-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তানভীর খালিদ।

তিনি বলেন, দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করা পেজগুলোর মধ্যে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে স্মার্ট জেন-জি দর্শকদের কাছে রেমন্যান্ট গ্লিম্পস ও সিনেগল্প বেশ জনপ্রিয়। সব মতামত সবার ভালো লাগবে না, সেটাই স্বাভাবিক। তবে অধিকাংশ পোস্টই ছিল গ্রহণযোগ্য এবং চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে তারা মিডিয়ার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে সব মতের সঙ্গে একমত না হলেও এজন্য কোনো পেজ বন্ধ করে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, দেশের সিনেমা একের পর এক পাইরেসির শিকার হচ্ছে, সিনেমা হল কমে যাচ্ছে—এসব বড় সংকটের সমাধানে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। অথচ চলচ্চিত্রের যৌক্তিক সমালোচনা করার কারণে একটি পেজ বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তানভীর খালিদের ভাষায়, দেশের চলচ্চিত্রশিল্প নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করা মানুষ খুবই কম। এভাবে সাইবার আক্রমণ চলতে থাকলে স্বাধীনভাবে কাজ করা বাকি পেজ ও গ্রুপগুলোও নিরুৎসাহিত হবে। তিনি বলেন, আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমেই একটি শিল্প এগিয়ে যায় এবং মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতির বিস্তার ও নতুন দর্শক তৈরির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন স্বাধীন গ্রুপ ও পেজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের সাইবার আক্রমণের তারা সম্পূর্ণ বিরোধী এবং রেমন্যান্ট গ্লিম্পস ২.০-এর সফলতা কামনা করেন।

বাংলাদেশি সাইবার স্পেসের বিনোদন সংক্রান্ত আলোচনায় নির্দিষ্ট তারকার ভক্তদের রোষের পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিভিন্ন এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে। তবে বরাবরই বিষয়গুলো নিয়ে ‘ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে’ তারকাদের নীরবতা লক্ষণীয়।


Leave a reply