Select Page

শাবনূর: তার লিজেন্ডারি ইমেজ

শাবনূর: তার লিজেন্ডারি ইমেজ

(১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর ‘চাঁদনী রাতে’ ছবি দিয়ে লিজেন্ড শাবনূরের ঢালিউড অভিষেক ঘটে। আজ ঢালিউডে তাঁর ৩২ বছর পূর্ণ হলো। শাবনূরকে অভিনন্দন। শাবনূরের সম্মানে আজকের এ লেখা।)

যে কোনো দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য একজন শাবনূর থাকাটা গর্বের। নিজের সক্ষমতা দিয়েই কেবল একজন শাবনূর হওয়া সম্ভব। শাবনূরকে শাবনূর হয়ে ওঠার পেছনে সহজাত প্রতিভার পাশাপাশি অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এহতেশাম দাদু প্রতিভা অন্বেষণে পটু ছিলেন। সে যাত্রায় তাঁর অন্যতম সেরা আবিষ্কার এই শাবনূর।

‘কথা যদি শুরু করি
শেষ তো হবে না,
আগুন যদি জ্বালি
নেভানো যাবে না
সেই ভালো দুজনায়
হয়ে যাই এবার অচেনা’
‘চাঁদনী রাতে’ ছবির এই জনপ্রিয় গানে স্টেজ পারফরম্যান্সে দেখা যায় শাবনূরকে। প্রথম ছবিতে বেশিরভাগ তারকাই আড়ষ্ট, জড়তা নিয়ে থাকে কিন্তু শাবনূরের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। দ্বিতীয় ছবি ‘প্রেম’-এও শাবনূর উজ্জ্বল ছিল। নায়কের দুর্বলতার বিপরীতে ছবিকে প্রাণবন্ত করতে নায়িকার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। আমিন খানের সাথে ‘দুনিয়ার বাদশা’ ছবি যখন হয় তখনও শাবনূর পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে ব্যস্ত কারণ আমিন খান তার প্রথম ছবি সুপারহিট দিয়ে শাবনূরের থেকে এগিয়ে ছিল প্রাথমিকভাবে। শাবনূরের ভালো বা রঙিন সময় শুরু হলো অমর নায়ক সালমান শাহ-র বিপরীতে ছবি শুরু করার পর। দর্শকনন্দিত অমর এ জুটির বদৌলতে শাবনূর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রভাববিস্তারকারী হয়ে ওঠে। সালমানের সাথে ১৪ টি ছবি শাবনূরের জন্য বিশেষ কিছু ছিল। তাদের প্রথম ছবি ‘তুমি আমার’ সুপারহিট ছিল, শেষ ছবি ‘বুকের ভিতর আগুন’।

সালমানের অকালমৃত্যুর পরে শাবনূরের কিছুটা সময় খারাপ গিয়েছিল। পরবর্তী উত্তরণ ঘটে ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পৃথিবী তোমার আমার’ ছবির মাধ্যমে। এ ছবির বড় সাফল্যের পর শাবনূর তার প্রভাব আবারও শুরু করে। রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিল খান, শাকিব খান, মান্না তাদের বিপরীতে ছবি মুক্তি পেতে থাকে। বাণিজ্যিক ছবিতে চরিত্রের গুরুত্ব অনুযায়ী পারফরম্যান্স করার ধারাবাহিকতা ছিল তাঁর তাই নিজস্ব পরিচয়ে দর্শকের মনে জায়গা করতে পেরেছিল অনায়াসে। বাণিজ্যিক ছবিতে নিজের সচেতনতায় চরিত্রায়ণের গুরুত্ব থেকে কাজ করেছিল। ‘দুই নয়নের আলো, চার সতীনের ঘর, কাল সকালে, মোল্লাবাড়ির বউ” এ ধরনের বাণিজ্যিক ছবিগুলো দশটা অফট্র্যাক ছবির থেকে কোনো অংশে কম নয়। এগুলোতে গল্পের ক্ষেত্রে শাবনূরের চরিত্রের প্রভাব থাকাতে ছবিগুলো বিশেষত্ব পেয়েছে। শাবনূর বাণিজ্যিক ছবিতেই এ ইমেজ দেখাতে পেরেছিল। তাছাড়া ফুল প্যাকেজ কমার্শিয়াল ছবি যেমন – আনন্দ অশ্রু, স্বপ্নের পৃথিবী, বিক্ষোভ, কে অপরাধী, অধিকার চাই, মধুর মিলন, শেষ ঠিকানা, নারীর মন, বিয়ের ফুল, ভালোবাসি তোমাকে, বস্তির মেয়ে, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ এগুলোতে অভিনয়ের ডেডিকেশনও অফট্র্যাক ছবির পরিমিত অভিনয়ের থেকে কম নয়। এক্সপেরিমেন্ট করতে ‘নিরন্তর’ বা ‘বাঙলা’-র মতো ছবি অতুলনীয়। একটা ‘নিরন্তর’ ছবিই কালজয়ী করে তোলার জন্য যথেষ্ট। ছবিতে নিজের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে ডেডিকেশন লেভেল ফুলফিল করার মতো অভিনয় করে গেছে শাবনূর সেটা হোক বাণিজ্যিক বা অফট্র্যাক ছবি। এভাবে বিন্দু থেকে সিন্ধু একজন শাবনূর নায়িকা থেকে পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হবার পথে সার্থকভাবে এগিয়েছে। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর লিজেন্ডারি ইমেজ।

চলচ্চিত্রের বাইরে শাবনূর নিজেকে সেভাবে ভাবেনি। কিছু বিজ্ঞাপনে তাকে দেখা গেছে যার মধ্যে ‘তিব্বত বিউটি কেয়ার সোপ’ সবচেয়ে আলোচিত ছিল আইয়ুব বাচ্চুর জিঙ্গেলে। ওমর সানীর বিপরীতে ‘তুমি যে আমার কবিতা’ গানের মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে। নাটকে শাবনূরকে দেখা যায়নি যদিও নব্বই দশকে নাটকের সেরা সময় ছিল।

আজকের দিনে যারা ছবির নায়িকা এবং অভিনেত্রী হতে ইচ্ছুক বা স্বপ্ন দেখে শাবনূর তাদের জন্য স্টাডি করার আইকন। তারা নিয়ম করে শাবনূরের ছবিগুলো দেখলে অভিনয়শিল্পের প্রতি ডেডিকেশন বাড়বে এবং প্রকৃত অভিনেত্রী হবার পথে এগিয়ে যাবে নিজেদের অবস্থান থেকে। শাবনূর এভাবে হয়ে উঠুক চলচ্চিত্রে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের রোল মডেল।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply