Select Page

টোটাল শাকিব খান

টোটাল শাকিব খান

শাকিব খান আর ইরিন জামান রেডি। কিন্তু বারবার শট দেবার পরেও ওকে হচ্ছিল না। তখন মৌসুমী শুটিং স্পটে গিয়ে দুজনকে মুখোমুখি দাঁড় করালো। শাকিবকে বলল, ‘এই ছেলে আমার দিকে তাকাও আর সংলাপ বলো।’ শাকিব ভয়ে ভয়ে সংলাপ বলল। একবারের পর দুইবারে কাজ হলো। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানকে মৌসুমী বলল, ‘এই ছেলে পারবে।’ তারপর ইরিনকে সামনে দাঁড় করিয়ে শট নেয়া হলো। অনেকক্ষণ ধরে এনজি হওয়া শট ওকে হয়ে গেল। শুটিং স্পট ‘অনন্ত ভালোবাসা।’

শাকিব খান প্রথম পরিচিতি পেয়েছিল ‘অনন্ত ভালোবাসা’ থেকেই।

‘তোমার ঐ মিষ্টি হাসি
বড় যে বাংলিদেশি
তাই তো এত বেশি তোমাকে ভালোবাসি
এ ভালোবাসা চলবে
সূর্য যতদিন জ্বলবে।’

শাকিব-ইরিন জুটির গানটা তখন জনপ্রিয় হয়ে গেল। ১৯৯৯ সালে আমরা ইন্ডাস্ট্রিতে এ নতুন নায়ককে পেয়ে খুশি হয়েছিলাম।তখন খুব কিউট ছিল আর বেশ ছোটমোটো গড়নের ছেলেটাকে সবাই বলত ‘পিচ্চি শাকিব’।

বিজ্ঞাপনে কম কাজ করেছে শাকিব। প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল ‘সাজ’ সাবানের। ‘হেনোলাক্স ট্যালকম পাউডার’-এর বিজ্ঞাপন পূর্ণিমার সাথে। ‘এশিয়ান ডুপলেক্স টাউন’-এর বিজ্ঞাপন তানিয়া বৃষ্টির সাথে। সিনেমাটিক বিজ্ঞাপন ‘পাওয়ার ড্রিংকস’-এর বিপরীতে ছিল ববি। এ বছরে নুসরাত ফারিয়ার বিপরীতে ‘বাংলালিংক’-এর বিজ্ঞাপন।

শাকিবের ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’। খুব নামকরা পরিচালক আফতাব খান টুলু-র ছবি। এ পরিচালকের নামকরা ছবি ছিল ‘দায়ী কে।’ শুরুটা ভালো নির্মাতার হাতেই হয়েছে শাকিবের। টুলু সাহেবের হাতে পড়ার আগে শাকিব এফডিসি এসেছিল ঘুরতে। নায়ক দরকার ছিল নতুন ছবির জন্য। কোরিওগ্রাফার আজিজ রেজা শাকিবকে পয়লা দর্শনে মনে মনে নির্বাচন করেন।

হঠাৎ হারিয়ে ফেললে ভিড়ের মধ্য থেকে বের করে পেছন থেকে যখন শাকিবকে বলেলেন- ‘এই ছেলে কোথায় ছিলে? তোমাকেই তো খুঁজছি!’ শাকিব কিছুটা থমকে গিয়ে বলেছিল-’আমি কি করলাম ভাই?’ তখন সে জানে না তার জন্য কি অপেক্ষা করছে। আফতাব খান টুলু, সোহানুর রহমান সোহান, আজিজ রেজা কিছু একটা যে তারা ছেলেটির মধ্যে দেখেছিলেন সেটা নিশ্চিত। ঐ দেখার চোখ থেকেই আজকের ঢালিউড শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের উত্তরণ।

শাকিব লং টার্ম কাজ করা তারকা।ঢালিউডে লং টার্ম কাজ করা অন্যান্য তারকা যেমন রাজ্জাক, জসিম, আলমগীর, ইলিয়া কাঞ্চন, মান্না তাদের পাশাপাশি শাকিব খানের নামটা যোগ হয়েছে। শাকিব তার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছে। ছবির দিক থেকে কোয়ালিটি আর কোয়ান্টিটির বড় তফাতটা রয়ে গেছে তার ক্যারিয়ারে। কমার্শিয়াল ও অফট্র্যাক দুই ধরনের ছবিতেই কাজ করে নিজের যোগ্যতাকে তুলে ধরেছে।

শাকিবের ক্যারিয়ার ঘটনাবহুল। প্রথম যখন শুরু করেছিল তখনকার থেকে আজকের শাকিব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার পরিবর্তন হয়েছে যেগুলো আগে ছিল না এবং দেরিতে হয়েছে। বাস্তবতা তার সাথে যতটুকু আচরণ করেছে তার পেছনে তার ছবি সিলেকশনের সমস্যা ছিল নয়তো আজকের শাকিব খানকে আরো অনেক আগে পাওয়া যেত। শাকিব ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ২০০০ সাল পরবর্তী কিছু সময়ে যে পরিচালকদের পেয়েছিল তাদের সাথে অনেক ভালো ভালো কমার্শিয়াল ছবি আছে। সেগুলো তাকে শক্ত করেছে অভিনয়ে এবং তার সমসাময়িক তারকা মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খান তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজের ক্যারিয়ারকে দাঁড় করিয়েছে। এই স্ট্রাগল পিরিয়ডের জন্যই পাক্ষিক আনন্দ আলো-র একটি সংখ্যায় শাকিবকে ‘ঢালিউডের রাজপুত্র’ শিরোনামে কভার স্টোরি করা হয়েছিল। সিনিয়র আর্টিস্টদের সাথে কাজ করার সুযোগ তার প্রজন্মের শুধু তারই হয়েছে যে এখনো অভিনয় করে যাচ্ছে এবং সেজন্যই বর্তমানের ডিজিটাল ছবির নায়কদের থেকেও তার অভিনয়ের জায়গাটা স্ট্রং। শাকিব যে সুযোগটা ৩৫ মিলিমিটারে পেয়েছিল সেটা আজকের তারকারা পাচ্ছে না কারণ সেই সময়কার অনেক নির্মাতারা আজ আর ছবি নির্মাণ করেন না যারা বাণিজ্যিক ছবির ভাষাটা জানতেন। সেদিক থেকে শাকিব ভাগ্যবান আর্টিস্ট। সেসব কাজের জন্যই এখন তার অভিনয় দক্ষতা পরিণত।

শাকিব ঢালিউডের অন্যতম প্রধান নায়ক যার নায়িকা অনেক। ইরিন জামান, পলি, ময়ূরী, মুনমুন, নদী, কেয়া, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমা, রত্না, সাহারা, অপু বিশ্বাস, রোমানা, তমা মির্জা, মীম, তিন্নি, মাহী, আঁচল, ববি, পরী মনি, শবনম বুবলি, নুসরাত ফারিয়া, রোদেলা জান্নাত (সর্বশেষ) সহ আরো অনেকে। যৌথ প্রযোজনায় কাজের সুবাদে টলিউডের স্বস্তিকা (সবার উপরে তুমি), শ্রাবন্তী (শিকারি), শুভশ্রী, পায়েল, সায়ন্তিকা, নুসরাত তারাও আছে। এর আগে রচনা ব্যানার্জীর সাথে ছিল ‘ওরা দালাল’ ছবিতে।

নায়িকাদের মধ্যে শাকিবের ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো নায়িকা ছিল শাবনূর। মূলত শাবনূরের সাথেই শাকিবের ক্যারিয়ার একটা বাঁক পায় এবং সেই ছবিটি ছিল ‘আমার স্বপ্ন তুমি।’ দ্বিতীয় প্রধান প্রভাব ছিল পপি-পূর্ণিমার। পূর্ণিমার বিপরীতে ‘সুভা’ তাকে সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত করেছিল। এরপর সাহারা-অপু বিশ্বাস। সাহারার সাথে ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ শাকিবের দেশীয় ছবিগুলোর মধ্যে দেশের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল ছবি। অপু বিশ্বাস তার ক্যারিয়ারে সমালোচনার জায়গা ছবির বৈচিত্র্যের সমস্যার কারণে। তবে তাদের জুটির ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’ ছবি দুটি ভালো গল্প ও অভিনয়সমৃদ্ধ। ইন্ডাস্ট্রি সারভাইভ করতে কোয়ান্টিটি প্রাধান্য পাওয়াতে ছবির বৈচিত্র্য হারিয়েছিল এ জুটি।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে জুটিপ্রথায় লংটার্ম সাকসেসফুল জুটি শাকিব খান-অপু বিশ্বাস। তারা জুটি হয়ে সত্তরের বেশি ছবিতে অভিনয় করেছে। পর্দা রসায়ন দুর্দান্ত কিন্তু তাদের ছবির গল্প ও উপস্থাপনা প্রায় একইরকম হওয়ায় বৈচিত্র্যহীন। তারপরেও জুটির কথা উঠলে এ জুটির নাম আসবে কোনো না কোনোভাবে। অপুর সাথে তার প্রেম, বিয়ে, ছেলে আব্রাম খান জয় এবং বিবাহ বিচ্ছেদ সব মিলিয়ে দুজনের মধ্যে ভিন্ন আরেকটা গল্প ছিল।

গানের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতিটি জুটির সাথে শাকিবের জনপ্রিয় গান আছে। গানে জনপ্রিয়তার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে শাবনূর-শাকিব জুটি এরপর পপি, পূর্ণিমা, সাহারা, অপু বিশ্বাস রয়েছে। ডিজিটাল সময়ে বুবলীর সাথে জনপ্রিয় গান আছে। এছাড়া অন্যান্য নায়িকা যেমন; মীম, মাহি, ববি তাদের সাথেও জনপ্রিয় গান আছে।

শাকিবের ছবি অনেক। সমালোচিত-প্রশংসিত দুই ধরনের ছবিই আছে। যে ছবিগুলো তাকে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে তেমন কিছু ছবির নাম বলা যায় – সুভা, আমার স্বপ্ন তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, স্বপ্নের বাসর, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, মা আমার স্বর্গ, খোদার পরে মা, ডাক্তারবাড়ি, সমাধি, ফুল নেব না অশ্রু নেব, দাদীমা, কোটি টাকার কাবিন, ঢাকাইয়া পোলা বরিশাইল্যা মাইয়া, বাধা, মায়ের মর্যাদা, প্রিয়া আমার প্রিয়া, তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা, মাটির ঠিকানা, নাচনেওয়ালী, খুনি শিকদার, প্রেম সংঘাত, কপাল, দুশমন দরদী, সবার উপরে প্রেম, প্রাণের মানুষ, সিটি টেরর, শিকারী। আরো আছে বেশকিছু। দুর্বল ও সমালোচিত ছবিও অনেক আছে। সেগুলোর পেছনে শাকিব ইন্ডাস্ট্রি সারভাইভ করার যুক্তি দেয়। যুক্তিটা ক্ষেত্রবিশেষে খাটে কারণ মান্না-র অকস্মাৎ মৃত্যু এবং রিয়াজ, ফেরদৌস-দের অনিয়মিত ছবি করার ফলে অনেক বড় একটা সময় তাকে অনেক ছবি করতে হয়েছে। সময় যত যাবে সেগুলোর বিশ্লেষণ আরো আসবে।

শাকিব খান এখন যে ট্র্যাকে চলছে তাতে সচেতন থেকে নিজের ছবি সিলেকশন ভালোভাবে করলে ক্যারিয়ারের বাকিটা সময় দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।তার সচেতনতাই তার জন্য ভালো হতে পারে আর তার অসচেতনতাই হতে পারে মন্দ। কারণ অতীত-বর্তমানের কথা বললে শাকিব একই সময়ে মানসম্মত ও মানহীন ছবি করেছে যেজন্য প্রশংসা আমরা প্রথমটা চাই। বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির মোস্ট সিনিয়র নায়ক হিশাবে তার এমন কাজ করা উচিত যাতে পরবর্তী নায়করা তাকে দেখে শেখে।


অামাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

স্পটলাইট

Saltamami 2018 20 upcomming films of 2019
Coming Soon
বাংলা সিনেমা ২০১৯ সালে কেমন যাবে?
বাংলা সিনেমা ২০১৯ সালে কেমন যাবে?
বাংলা সিনেমা ২০১৯ সালে কেমন যাবে?

[wordpress_social_login]

Shares