Select Page

নায়কসর্বস্ব ‘মালিক’

নায়কসর্বস্ব ‘মালিক’

‘মালিক’ নায়কসর্বস্ব ছবি। নায়কের আধিপত্য ছাড়া এ ছবিতে আর উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। আমাদের কমার্শিয়াল ছবি মোটাদাগেই এখন নায়কসর্বস্ব হয়ে গেছে তার মধ্যেই ‘মালিক’ এ ধরনের ছবির নতুন সংযোজন হয়ে থাকল। ছবিতে যা কিছুই ঘটেছে সব নায়ককে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

আরিফিন শুভ-র ক্যারিয়ারে এখন এমন সময় চলছে যে তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাসঙ্গিক করে রাখার চেষ্টাটাই যেন বড় হয়ে গেছে। বলিউডে ‘জ্যাজ সিটি’-র মতো দারুণ প্রজেক্টের পর ‘মালিক’ ছবিতে শুভ কিভাবে কাজ করল এ কথা অনেকে বলছে। কিন্তু এটা নিয়ে বলতে গেলে কথা দাঁড়ায় শুভ তার কাজটা এ ছবিতে ঠিকঠাক করেছে বাদবাকি বিষয়টা পরিচালক, প্রযোজকের ওপর বর্তায়।

ছবিতে দেখার মতো সবচেয়ে ভালো দিক ছিল আরিফিন শুভর লুক ও ফিটনেস। ফিটনেসে শুভ বরাবরই দুর্দান্ত, লুকটা অ্যাকশন ছবির জন্য টোটালি পারফেক্ট, অনেকটাই স্টাইলিশ। অ্যাকশন সিকোয়েন্সে শুভর এক্সপ্রেশন যত দারুণ পরিচালকের প্রেজেন্টেশন যেন জমছিলো না। বিদ্যা সিনহা মীম শুভর বিপরীতে ক্লাইমেক্স বাদে বাকি সময় তত গুরুত্ব রাখেনি। শুভর পর মিশা সওদাগরই ছবিকে অনেকটা টেনে নিয়েছে, বড়দা মিঠুর স্লো ডায়লগ ডেলিভারি ভিলেনের মজা নষ্ট করে দেয়। বাকি চরিত্রগুলো প্রয়োজনমাফিক হলেও অভিনয়ের জায়গা স্ট্রং না।

ছবির পরিচালক সাইফ চন্দন যে কয়েকটি ছবি বানিয়েছেন তার সব ছবিতেই স্লো স্টোরি টেলিং আর সিনেমাটিক ভাইব কম থাকার সমস্যাই প্রধানভাবে দেখা গেছে। ‘মালিক’-এর প্রেজেন্টেশনের মধ্যেও এর প্রভাব আছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো এ ছবির গানগুলোর আয়োজন খুবই ভালো। প্রযোজকের দিক থেকে বাজেট সমস্যা ভালোভাবেই চোখে পড়ে আর পরিচালকের দিক থেকে গান ও অ্যাকশন সিকোয়েন্স বাদে বাকি সময়টা অত্যন্ত স্লো ছিল। বিজিএম অ্যাকশন সিকোয়েন্সে ভালো হলেও বাকি সময় মানহীন।

ছবিতে খুব সূক্ষ্মভাবেই মান্নার আইকনিক ‘আম্মাজান’ ছবির ইন্সপিরেশন নেয়া হয়েছে কিন্তু সেটার অ্যাডাপ্টেশন ঠিকমতো করতে পারেনি। ইন্সপিরেশন নেয়া ভালো বিষয় পাশাপাশি সেটাকে অ্যাপ্লাইও করা উচিত ঠিকমতো।

গানের মধ্যে ‘মায়া লাগাইছে’-র নতুন ভার্সন দারুণ ছিল। ‘দিলাম তোমায়’ রোমান্টিক ট্র্যাকে ভিন্নরকম সুরের ছিল আর ‘গুলগুলি পিঠা’ ভালোই এনার্জেটিক ছিল।

‘মালিক’ ছবির দ্বিতীয় কিস্তির হিন্টস দেয়া হয়েছে ছবির শেষে। তবে পরিচালকের প্রতি বার্তা থাকবে প্রেজেন্টেশন বেটার করতে পারলে যেন দ্বিতীয় কিস্তি বানায় নতুবা না বানানোই ভালো।

রেটিং – ৫.৫/১০


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply