Select Page

‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় এআই ব্যবহার নিয়ে যা বললেন নির্মাতারা!

‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় এআই ব্যবহার নিয়ে যা বললেন নির্মাতারা!

প্রায় পাঁচ বছরের প্রতীক্ষা, করোনা মহামারির ধাক্কা এবং নানামুখী জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে ঈদুল আজহায় বড় পর্দায় আসছে জনপ্রিয় গুপ্তচর চরিত্র ‘মাসুদ রানা’। জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের যৌথ প্রযোজনার সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন জল্পনা তৈরি হয়—‘মাসুদ রানা’য় কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়েছে?

টিজার বনাম ট্রেলার: দর্শক প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ছবিটির টিজার মুক্তির পর খোদ নায়ক রাসেল রানার চরিত্রের কিছু মুভমেন্ট ও এক্সপ্রেশন দেখে অনেক দর্শক ধারণা করেছিলেন, সিনেমাটিতে ব্যাপকভাবে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো দৃশ্যকে কিছুটা ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘ডিজিটাল জেনারেটেড’ বলেও মন্তব্য করেন নেটিজেনরা।

তবে সেই শঙ্কা ও জল্পনা অনেকটাই কেটে গেছে সিনেমাটির অফিশিয়াল ট্রেলার প্রকাশের পর। ট্রেলারটি রিলিজ হওয়ার পর দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে এটি মূলত পজিটিভ রিভিউ বা ইতিবাচক সাড়াই পাচ্ছে। কিছুটা আপগ্রেড অ্যাকশন ও থ্রিলারধর্মী আবহ ট্রেলারে ফুটিয়ে তোলায় প্রশংসিত হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের কাজ।

এআই বিতর্ক ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যা জানা গেল

টিজার প্রকাশের পর তৈরি হওয়া এআই বিতর্ক নিয়ে নির্মাতা সূত্র থেকে জানা গেছে, সিনেমাটিকে আন্তর্জাতিক মানের স্পাই থ্রিলারের রূপ দিতে কোনো এআই জেনারেটেড ক্যারেক্টার ব্যবহার করা হয়নি। বরং ছবির প্রধান চরিত্র রাসেল রানাকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর শারীরিক ফিটনেস, রিয়েল অ্যাকশন ট্রেনিং এবং চরিত্রের মানসিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

সম্প্রতি এক প্রেস মিটে সিনেমার প্রযুক্তিগত মান ও উপস্থাপনা নিয়ে পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, “‘মাসুদ রানা’ বাংলাদেশের জেমস বন্ড। বাংলাদেশের দর্শক যখন বড় পর্দায় আন্তর্জাতিক মানের স্পাই চরিত্র দেখতে চাইবেন, তখন প্রযুক্তিগতভাবে আমাদেরও প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই চেষ্টা আমরা করেছি।”

আন্তর্জাতিক মানের আবহ তৈরি করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, হাই-এন্ড ভিএফএক্স, আধুনিক অস্ত্র, গাড়ির ধাওয়া ও বিস্ফোরণের মতো দৃশ্যগুলো তৈরিতে বিশেষ প্রযুক্তিগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা টিজারে কিছুটা ভিন্ন মাত্রার মনে হলেও ট্রেলারে তার আসল চমক প্রকাশ পেয়েছে।

বাধা পেরিয়ে এবার মুক্তির পালা

২০২১ সালে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও কোভিড, লকডাউন এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় শুটিংয়ের অনুমতি পেতে জটিলতার কারণে ছবিটির কাজ বারবার পিছিয়ে যায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে এখন ছবিটি মুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকেও এটি প্রশংসাসহ ছাড়পত্র পেয়েছে।

এবারের ঈদ মাতাতে ‘মাসুদ রানা’ পুরোপুরি প্রস্তুত উল্লেখ করে আত্মবিশ্বাসী প্রযোজক আবদুল আজিজ বলেন, “এই গল্পের বাজেট এত বেশি যে একা সামলানো কঠিন ছিল। তাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। আমি বিশ্বাস করি, এবারের ঈদের সেরা সিনেমা হচ্ছে ‘মাসুদ রানা’।”

উল্লেখ্য, সৈকত নাসিরের পরিচালনায় এই স্পাই থ্রিলারে মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়েলিটি শো থেকে আসা রাসেল রানা এবং তার বিপরীতে ‘সোহানা’ চরিত্রে পর্দায় হাজির হবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি। আর  ‘নবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

যা বলছেন নতুন মাসুদ রানা

এর আগে বড় পর্দায় মাসুদ রানা হিসেবে হাজির হয়েছিলেন সোহেল রানা ও এবিএম সুমন। ছোট পর্দায় অভিনয় করেছিলেন নোবেল। এবার সে চরিত্রে অভিষেক হচ্ছে রাসেল রানার।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”


Leave a reply