Select Page

নোলক : ৮৫ ভাগ শুটিং শেষ, বাদ পড়লেন পরিচালক!

নোলক : ৮৫ ভাগ শুটিং শেষ, বাদ পড়লেন পরিচালক!

শাকিব খান অভিনীত ‘নোলক’-এর মাত্র দুটি গান আর কিছু দৃশ্যের শুটিং মিলিয়ে ১৫ ভাগ দৃশ্যায়ন বাকি রয়েছে। এর মধ্যে জানা গেল, পরিচালকের কাছ থেকে নাকি ছবিটি ছিনতাই হয়ে গেছে! এই মুহূর্তে ভারতের কলকাতায় ইফতেখার চৌধুরীকে নিয়ে ছবিটির শুটিং করছেন প্রযোজক।

জাগো নিউজ ও প্রথম আলো জানায়, এ বিষয়ে শাকিব খান ও পরিচালক রাশেদ রাহা—কাউকেই জানানো হয়নি। ক্ষুব্ধ রাশেদ রোববার বিকেলে ছবির প্রযোজক সাকিব ইরতেজা চৌধুরী সনেটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে ও ইফতেখার চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে অভিযোগ দায়ের করেন।

রাশেদ রাহা বলেন, ‘এত আয়োজন করে একটি ছবি শুরু করলাম। সবাই অপেক্ষায় আছে ছবিটি মুক্তির। আর কিছু কাজ মাত্র বাকী। এমন সময় প্রযোজক ছবিটি থেকে আমাকে সরিয়ে অন্যজনকে দিয়ে দিলেন পরিচালনা করতে।’

তিনি বলেন, ‘মাস খানেক আগে ছবির প্রযোজক সাকিব ইরতেজা চৌধুরী আমাকে ফোন করে বলেন, এখন থেকে পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী “নোলক” ছবির বাকি অংশের শুটিং করবেন। আমি যেন তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে নিই। তা শোনার পর আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা! যে ছবির শুটিং বাকি আর মাত্র কয়েক দিনের, তা নাকি এখন অন্য কেউ শুটিং করবেন! এ দৃশ্য আমাকে দেখতে হবে! এরপরও প্রযোজকের কথামতো আমি ইফতেখার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তিনি আমার ফোন কিংবা এসএমএসের কোনো জবাব দেননি। এর মধ্যে একদিন দেখি, তিনি আমাকে ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন!’

এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি এবং বাংলাদেশ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে দেওয়া অভিযোগে রাশেদ রাহা লেখেন, ‘যথাবিহীত সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি রাশেদ রাহা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একজন সদস্য। আমি ২৩/১১/২০১৭ তারিখে ‘নোলক’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে নিবন্ধন করি। দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে বর্ণাঢ্য মহরতের মাধ্যমে আমার ওপর ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। শতভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে ইতোমধ্যে ছবির ৮৫ ভাগ শুটিং সম্পন্ন করেছি। গত ১ ডিসেম্বর থেকে টানা ২৮ দিন ছবির শুটিং হয়েছে ভারতের হায়দরাবাদ রামোজি ফিল্ম সিটিতে। অভিনয়শিল্পীরা ছিলেন-শাকিব খান, ববি, ওমর সানি, মৌসুমী, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, রেবেকা, কলকাতার রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, অমিতাভ ভট্টাচার্য প্রমুখ।’

আরো লেখেন, ‘ছবির বাকি অংশের শুটিং করার জন্য আমি অনেকদিন থেকেই প্রস্তুত। কিন্তু মাসখানেক আগে এ ছবির প্রযোজক সাকিব ইরতেজা চৌধুরী (সনেট)-এর পক্ষ থেকে বাকি অংশের শুটিংয়ের জন্য পরিচালক ইফতেখার চৌধুরীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বলা হয়। ছবির নির্মাণকৌশল ও গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে কারো সঙ্গে পরামর্শ করতে আগ্রহী ছিলাম না। বিভিন্ন সূত্রে হঠাৎ জানতে পারি, আমাকে ছাড়াই পরিচালক ইফতেখার চৌধুরীকে দিয়ে নোলক ছবির বাকি অংশের কাজ শেষ করার জন্য প্রযোজক ইতোমধ্যেই একটি দল নিয়ে গতকাল (২১ জুলাই) কলকাতায় পৌঁছেছেন। পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে আমার অজ্ঞাতে’।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়া যাবে জানতে চাইলে সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া যাবে। একটা ছবির মূল পরিচালক যদি ছবি করতে আগ্রহী না হয়, সেক্ষেত্রে প্রযোজক অন্য পরিচালক দিয়ে ছবি শেষ করতে পারেন। কিন্তু পরিচালকের অনুমতি ছাড়া অন্য পরিচালককে দিয়ে ছবির শেষ করার কোনো নিয়ম নেই। এমন অনিয়মের প্রমাণ পেলে ইফতেখার চৌধুরীর সদস্যপদ বাতিল হয়ে যেতে পারে। এটা আমাদের মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে প্রযোজক সাকিব ইরতেজা চৌধুরী বলেন, ‌’আমার সঙ্গে পরিচালক হিসেবে রাশেদ রাহার কোনো চুক্তি হয়নি।’

অথচ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নথিতে দেখা যায়, গত বছর ২৩ নভেম্বর ‘নোলক’ ছবির নামটি নিবন্ধন করা হয়। আর সেখানে পরিচালক হিসেবে রয়েছে রাশেদ রাহার নাম। এ ব্যাপারে সাকিব ইরতেজা চৌধুরী বলেন, ‘এই ছবির পরিচালক এখন আমি। শুরু থেকে শুটিংয়ের বিষয়টি আমিই তদারকি করেছি।’

তাহলে ছবির মহরতের সময় পরিচালক হিসেবে কেন রাশেদ রাহাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল? তখন ‘নোলক’ ছবির শুটিংয়ের সেটে তাকেই পরিচালনা করতে দেখা গেছে। সাকিব ইরতেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমি ঢাকায় এসে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব। ২৫ জুলাই পর্যন্ত আমাদের শুটিং চলবে।’

রাশেদ রাহার ব্যাপারে অভিযোগ করে সাকিব ইরতেজা চৌধুরী বলেন, ‘পরিচালক হিসেবেই তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ের সময় রাশেদ রাহা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সবকিছু আমাকেই করতে হয়েছে। এখন আমি ছবির প্রযোজকের পাশাপাশি পরিচালকও।’

‘নোলক’ ছবির পোস্টারে শাকিব খান ও ববি’নোলক’ ছবির পোস্টারে শাকিব খান ও ববিইফতেখার চৌধুরীর ব্যাপারে সাকিব ইরতেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাশেদ রাহাকে বলেছি, ইফতেখার চৌধুরী যেহেতু ভিএফএক্সের কাজ ভালো বোঝেন, তার সঙ্গে আলাপ করতে। কারণ, এই ছবিতে গ্রাফিকস আর অ্যানিমেশনের কাজ আছে। তিনি কিন্তু এই ছবির পরিচালক নন।’

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচালক রাশেদ রাহার কোনো চুক্তি হয়নি, সাকিব ইরতেজা চৌধুরীর এই দাবির ব্যাপারে রাশেদ রাহা বলেন, ‘পরিচালক হিসেবে আমার সঙ্গে তারা চুক্তি করা হয়নি। কিন্তু মহরতের সময় পরিচালক হিসেবে কেন আমাকে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে উপস্থিত অতিথি আর সাংবাদিকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিলেন? ভারতের হায়দরাবাদে কেন আমাকে দিয়ে ২৮ দিন শুটিং করালেন! ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেখানে কিন্তু পরিষ্কার লেখা আছে, ‘নোলক। একটি রাশেদ রাহা চলচ্চিত্র।’ এখন অন্য কথা তিনি কেন বলছেন?’

কলকাতায় এখন ‘নোলক’ ছবির শুটিং হচ্ছে, তা জানেন না ছবির নায়ক শাকিব খান। পরিচালককে বাদ দিয়ে সেখানে শুটিং হচ্ছে জেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

গত বছর ১ ডিসেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ ছবির শুটিং শুরু হয়। এর পাঁচ দিন পর ছবির নায়ক শাকিব খানের ‘ফার্স্ট লুক’ প্রকাশ করেন পরিচালক রাশেদ রাহা। শাকিব খান, ববি, মৌসুমী, ওমর সানি, তারিক আনাম খান ছাড়া এই ছবির অভিনয়শিল্পীরা হলেন নিমা রহমান, রেবেকা, ভারতের রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, অমিতাভ ভট্টাচার্য প্রমুখ।


মন্তব্য করুন