বিনোদনে ভরপুর ‘আঁতকা’
চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’ একটি লাইট-হরর এন্টারটেইনমেন্ট, যা পরিবার নিয়ে বসে দেখার জন্য একদম উপযুক্ত …
রহমান বাড়ির বড় নাতি ফায়াজ বিদেশ থেকে দেশে ফেরে একটি সেলুন খোলার স্বপ্ন নিয়ে। এই যাত্রায় তার পাশে থাকে তার কাজিন আর পাশের বাসার মিষ্টি মেয়ে চুমকি। তবে সমস্যাটা শুরু হয় পরিবারের বাকি সদস্যদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফায়াজের দুশ্চিন্তা থেকে।

এমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে গল্পে হঠাৎ আবির্ভাব ঘটে একটি ভূতের। কে এই ভূত? রহমান পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী? আর শেষ পর্যন্ত ফায়াজ কি তার সেলুন খোলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে?—এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আরাফাত মোহসীন নিধি পরিচালিত সিরিজ ‘আঁতকা’-তে।
সিরিজটির সবচেয়ে বড় পজিটিভ দিক এর চিত্রনাট্য। রাবা খানের লেখা স্ক্রিপ্ট ভীষণ ফাস্ট-পেসড ও এন্টারটেইনিং। শুরু থেকেই গল্প দর্শককে নিজের সঙ্গে বেঁধে রাখে। কমেডি পাঞ্চলাইনগুলো পার্সোনালি আমার জন্য বেশ ভালোভাবেই ওয়ার্ক করেছে। পাশাপাশি হালকা হরর টাচ এবং পারিবারিক কনফ্লিক্ট মিলিয়ে পুরো কাজটাই হয়ে উঠেছে উপভোগ্য।
অভিনয়ের দিক থেকে আরশ খান ভালো কাজ করেছেন। এটি আমার দেখা তার প্রথম কাজ। সুনেরাহ’র সঙ্গে আরশের কেমিস্ট্রিও মন্দ লাগেনি, আর সুনেরাহ’র কমেডি টাইমিং বাড়তি প্লাস পয়েন্ট। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই সোহেল মণ্ডল ভালো ছাপ ফেলেছেন। পাশাপাশি আবুল হায়াত, মৌসুমি নাগ, রোজি সিদ্দিকী ও সাবেরী আলমের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীরা পারিবারিক চরিত্রগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।

এছাড়া কারিগরি দিকগুলোতে এই সিরিজের কাজ যুতসই। নিলয় আহমেদ এবং রাবা খানের কণ্ঠে “হায় মন” গানটিও ছিল শ্রুতিমধুর।
সব মিলিয়ে, চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’ একটি লাইট-হরর এন্টারটেইনমেন্ট, যা পরিবার নিয়ে বসে দেখার জন্য একদম উপযুক্ত। আর সবশেষে বলতেই হয়—পুরোদস্তুর মিউজিশিয়ান হয়েও পরিচালক হিসেবে আরাফাত মোহসীন নিধি যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য।






