Select Page

রিয়াজের সঙ্গে সফল জুটি

রিয়াজের সঙ্গে সফল জুটি

চলচ্চিত্রে জুটি প্রথা স্বাভাবিক একটি বিষয়। অনেক জনপ্রিয় জুটি আছে আবার তুলনামূলক কম বা অজনপ্রিয় জুটিও আছে। জুটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে একটা রসায়ন তৈরি হয় নায়ক-নায়িকার আর সেটা দর্শকের পছন্দ হয়ে গেলে তার ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। রিয়াজের ক্যারিয়ারেও সফল জুটি গড়ে উঠেছিল। তার মধ্যে কয়েকটি নিয়ে বলা হলো।

রিয়াজ-শাবনূর :
নব্বই দশকে সালমান শাহ-শাবনূর জুটির অসাধারণ সাফল্যের পর সালমানের আকস্মিক মৃত্যুতে শূন্যতা তৈরি হয়। রিয়াজ-শাবনূর জুটির শুরু এরপর। ‘পৃথিবী তোমার আমার’ ছবির পর রিয়াজ-শাবনূর জুটি পপুলার হতে থাকে। তারা একসাথে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করে এবং দর্শকপ্রিয়তা পায়। এভাবে রিয়াজ-শাবনূর নামে আরো একটি সফল জুটি পায় ঢালিউড। ২০০০ পরবর্তী সময়ে অশ্লীলতার মধ্যেও রিয়াজ-শাবনূর জুটি ছিল মানসম্মত ছবির জুটি। এ জুটির ক্রেজ ছিল অনেক।

তাদের উল্লেখযোগ্য ছবি নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি, পৃথিবী তোমার আমার, নারীর মন, বিয়ের ফুল, ভালোবাসি তোমাকে, প্রেমের তাজমহল, সুন্দরী বধূ, হৃদয়ের বন্ধন, স্বপ্নের বাসর, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, মাটির ফুল, মন, মন মানে না, ভালোবাসা কারে কয়, মোল্লাবাড়ির বউ, বুক ভরা ভালোবাসা, বস্তির মেয়ে, কাজের মেয়ে, স্বপ্নের পুরুষ, মিলন হবে কত দিনে, এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে, আমি তোমারি, কারিশমা, এই মন চায় যে, আমি তোমারি, তোমার জন্য পাগল, ভালোবাসা ভালোবাসা, শিরি ফরহাদ।

রিয়াজ-পূর্ণিমা :
রিয়াজের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই জুটির মধ্যে রিয়াজ-শাবনূরের পরেই আছে রিয়াজ-পূর্ণিমা। আধুনিক জুটি। রিয়াজের ওয়ার্ড অফ মাউথ ছবিগুলোর মধ্যে পূর্ণিমার সাথে বেশ কয়েকটি ছবি আছে। তাদের পর্দা রসায়ন ছিল অনবদ্য।

তাদের উল্লেখযোগ্য ছবি হৃদয়ের কথা, আকাশছোঁয়া ভালোবাসা, মনের মাঝে তুমি, নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি, শাস্তি, মেঘের পরে মেঘ, এ জীবন তোমার আমার, বাধা, জামাই শ্বশুর, সাথী তুমি কার, লাল দরিয়া, খবরদার, মায়ের সম্মান, মনে রেখো আমায়, ধনী গরিবের প্রেম, তোমাকেই খুঁজছি, চিরদিন তুমি আমার, টাকা, ছোট্ট একটু ভালোবাসা, জীবনের চেয়ে দামি, কে আমি, ইবলিশ, বন্ধু তুমি আমার।

রিয়াজ-রাভিনা :
রিয়াজ-রাভিনা জুটি হাতেগোনা তিনটি ছবি করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। একটা ক্রেজ তৈরি হয়েছিল কম সময়ের মধ্যেই। রিয়াজ-শাবনূর জুটির ক্রেজের মাঝেও রিয়াজ-রাভিনা জুটি দর্শকের মনে ধরেছিল। ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়, সাবধান, দলপতি’ তিনটি ছবিই সফল এ জুটির। ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ ব্লকবাস্টার আর পরের দুটি সুপারহিট। দর্শক পছন্দের এ জুটি এরপর আর কোনো ছবি না করায় হতাশই হয়েছিল দর্শকরা।

রিয়াজ-আয়না :
রিয়াজের ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে আয়নার বিপরীতে কম সময়ে ভালো জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল। এটা হয়েছিল মূলত গানের কারণে। ‘হৃদয়ের আয়না, অন্তরে ঝড়’ ছবিগুলোর গান এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। ‘তুমি চাঁদের জোছনা নও, কেন আঁখি ছলছল, যত দেখি তত ভালো লাগে, ও বন্ধু রে কথা দাও যাবে না ছেড়ে’ এ গানগুলো ‘হৃদয়ের কথা’-র চার্টবাস্টার অ্যালবামে পরিণত হয়েছিল। এছাড়া ‘অন্তরে ঝড়’ ছবির ‘সবারই মনে আছে একটি আশা’ গানটিও ছিল অনবদ্য।

রিয়াজ-পপি :
রিয়াজ ও পপি ‘বিদ্রোহ চারিদিকে, বিদ্রোহী পদ্মা, কি জাদু করিলা, মেঘের কোলে রোদ, ক্ষ্যাপা বাসু, ওদের ধর’ ছবিগুলোতে ছিল। এর মধ্যে ফুললি কমার্শিয়ালের পাশাপাশি সিরিয়াস মেসেজের ছবিও ছিল।

রিয়াজ-মৌসুমী :
রিয়াজ ও মৌসুমীকে দেখা গিয়েছিল সাতটি ছবিতে – ভালবাসার শত্রু, একজন সঙ্গে ছিলো, মোল্লাবাড়ির বউ, দুই পুরুষ, লাল দরিয়া, কুসুম কুসুম প্রেম এবং হৃদয়ের কথা। তবে জুটির কথা বললে ‘মোল্লাবাড়ির বউ, একজন সঙ্গে ছিল, কুসুম কুসুম প্রেম’ এ ছবিগুলোর কথা আসবে। তাদের জুটি অপেক্ষাকৃত অভিনয়দক্ষতার ক্ষেত্রে ছিল।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply