Select Page

শাওনের স্ট্যাটাসের জবাবে ফারুকী

শাওনের স্ট্যাটাসের জবাবে ফারুকী

’ঢাকা অ্যাটাক’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে খোঁচা দিয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন। ফেসবুকে এ অভিনেত্রী-নির্মাতা লেখেন, ‘ছবি কিন্তু অনেক পছন্দ হইছে। পরিচালক দর্শকের জন্য ছবিটা বানাইছেন। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নায়িকা নিয়ে ঘোরার জন্য বানান নাই। গাদা গাদা বিদেশি সিনে ম্যাগাজিনের রিভিউ বেচার চেষ্টা করেন নাই। কাহিনীকার সানী ছানোয়ার তামিল ছবি কিংবা কারো জীবন কপি করেন নাই। বাংলাদেশের মতো স্বল্প পরিসরের কারিগরি রসদ নিয়ে আন্তর্জাতিকমানের ছবি বানানোর চেষ্টা করেছেন।’ তার উত্তর দিয়েছেন ফারুকী। তিনি ফেসবুকে লেখেন–

“আপনি কার সঙ্গে মদ্যপান করছেন আর কার সঙ্গে ঝগড়া করছেন, এটা দিয়ে আপনার ক্লাস বোঝা যায়।

মদ্যপান বিষয়ে বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবির একটা মিথ মনে পড়ছে যেখানে তিনি তার সঙ্গে মদ্যপানরত তরুণ সংস্কৃতি কর্মীকে বলেছিলেন, “দেখো, তুমি যে আমার সঙ্গে মদ্যপান করেছো, এটা বাইরে গিয়ে কাউকে বলো না যেনো। ওতে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি হয়তো হবে। কিন্তু আমার যে মর্যাদাহানি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই”!
আমি মদ্যপানের সঙ্গে আরেকটা প্যারামিটার জুড়ে দিলাম, সেটা হচ্ছে ঝগড়া। কার সঙ্গে করবেন সেটা আপনাকে ঠিক করতে হবে।

যারা কালকে রাত থেকে আমাকে অনেক চিঠি লিখেছেন তাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। অনলাইনের এই যুগে “দাঁত ভাঙা জবাব” দেয়ার টেম্পটেশনটা আমি বুঝি। কারণ উত্তর বা পাত্তা না দেয়াকে কেউ কেউ ভাবতে পারেন অযোগ্যতা। কিন্তু মনে রাখবেন, উত্তর না দেয়ার মাধ্যমে কিন্তু আপনি অনেককেই খারিজ করে দিতে পারেন।

সবশেষে, আমার শুভানুধ্যায়ী এবং ভক্তদের উদ্দ্যেশ্যে বলতে চাই, সবে তো শুরু। সামনে আরো কত রকমের কথা বের হবে নানা ঝুড়ি থেকে। এগুলা থোড়াই কেয়ার করে সাতাশ অক্টোবরের জন্য তৈরি হই, ছবির ভালো লাগার জায়গা গুলাতে অবগাহন করি, চরিত্রগুলার অসহায়ত্ব নিজেদের বুকের ভেতর নেয়ার চেষ্টা করি। সেটাই আমাদের কাজ।

আর এই এতো বছরে, আপনাদের তো অভ্যস্থ হয়ে যাওয়ার কথা এইসব গালিগালাজ, অভিসম্পাত, আর ঈর্ষাবাণে। কিছু ব্যতিক্রম বাদে, কবে কখন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি বা সংস্কৃতিসেবী বা শিল্পী সম্প্রদায় বা স্বজাতির পরিচালক সম্প্রদায় আমাকে ভালোবেসেছে, সমর্থন করেছে? যদিও আমি সেটা পাওয়ার চেষ্টাও করি নাই।

আমি তো ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাতিলের খাতায়, ঈর্ষার পাতায়। শুধু আপনাদের ভালোবাসা আর সমর্থনই না আমি পেয়েছি। আর কাউকে মন্দ বলতে বা বাতিল করতে তো কোনো বিশেষ মেধার প্রয়োজন নাই, জাস্ট দু ঘা কলম মারা ছাড়া। এমন কি, ওং কার ওয়াই, আসগার ফারহাদি, কোরিয়েদাদের সাথে মনোনয়ন পেয়ে অ্যাপসা জেতার পরও তো আমাকে বাতিলই বলা হয়েছে। সো, এইসব ভ্যারাইটি, হলিউড রিপোর্টার, বা স্ক্রিণ রিভিউ দুই পয়সা দিয়া গুণার টাইম আছে? 🙂

ফলে এই বিষয়ে কেউ আক্রমণ করলে, হাসিমুখে শুনে পাতা উল্টে ছবির আলোচনায় চলে যান। আর বলেন, হ্যাঁ, আমাদের প্রচুর ফিল্মমেকার আছেন যারা চাইলেই এমন ছবি বানাতে পারেন যেগুলো একই সঙ্গে ভ্যারাইটি, স্ক্রিন, হলিউড রিপোর্টার, ফেস্টিভাল কাঁপাতে পারে আবার ঐ ফিল্মমেকারদেরও আমাদের দর্শকদের কাছে এমন জনপ্রিয় করতে পারে যে তারা রাস্তায় নামলে দুইশো সেলফি শিকারি এসে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।

আমরা চাইলেই করতে পারি। জাস্ট চাইনা বলেই করি না।
বলে সংঘাত এড়িয়ে যান।
আর ডুবে ডুব দিন।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
আমিন।
(আগামী কয়দিন আমাকে আর এই উত্তর উত্তর খেলায় পাবেন না। তবে হুমায়ুন আহমেদের সাথে তো মিল পাচ্ছি তবু কেনো বায়োপিক দাবী করছি না, এই বিষয়ে একটা বিস্তারিত উত্তর দিবো। তারপর ঐ আলোচনাতেও আর যাবো না।
তার আগে জঁ লুক গদারের বায়োপিক রিডাউটেবল নিয়ে একটা লেখা লিখবো। )”


অামাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

Shares