হেডলাইনহতাশাজনক! বিরক্তিকর! অতিকথনে ভরপুর!
সময়ের অন্যতম আলোচিত রাইটার আয়মান আসিব স্বাধীন আর ‘তাকদীর’, ‘কারাগার’ ডিরেক্টর শাওকী ছিলেন এই সিরিজের রাইটার। শাওকী বা তানিম নূরের মেকিংয়ে বেশিরভাগ এডিটিংয়ের কাজ করা সালেহ সোবহান অনীম ছিলেন নিজের প্রথম সিরিজের ডিরেকশনে। ব্যক্তিগতভাবে তাদের ফিল্ম নয়ারের কাজ আমার প্রায়োরিটি লিস্টে প্রথমে থাকে। কিন্তু ‘হেডলাইন’ সেই জায়গায় আমাকে মারাত্মকভাবে হতাশ করেছে। একে ‘অধিক কথনে কনটেন্ট নষ্ট’ নাকি ‘The more metaphors, the far you go from reality’ বলবো জানি না।

গল্পটা রাইটার হতে না পারা, নামকরা জার্নালিস্ট হতে চাওয়া সামিউল আর পোড় খাওয়া ঝানু জার্নালিস্ট জহিরের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বলা। অনেকবছর আগে দেশছাড়া মাফিয়া দানিয়াল ক্বাফি আর তার ‘বামহাত’ ক্লিনটনের ফেরা নিয়ে যে রহস্য তা ভেদ করা ও সেই খবর পত্রিকায় প্রকাশের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাকি গল্প। এখানে জহির স্ত্রীর সাথে টানাটানি সম্পর্ক নিয়ে থাকে মেয়েকে নিয়ে আর অন্যদিকে সামিউলের পরিবার বলতে ওর বড়বোন আর ভাগ্নে!
ভাললাগার দুইটা জিনিস আগে বলি।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের মাফিয়া ডিগিং নিয়ে প্লটটা খুব ইন্টারেস্টিং ছিল। এই জোনে কাজ খুব কম হয়েছে, পলিটিক্যাল আস্পেক্টও খুব ভালভাবে হ্যান্ডল করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিক হলো, মেকিং স্টাইল। তানিম নূর, শাওকীদের থেকে অনীমের মেকিংয়ে আলাদা কিছু ফ্রেম, ট্রানজিশন, ফোকাস ও প্রডাকশন ডিজাইনে নতুনত্ব পেয়েছি। এর বাইরে সিরিজটিতে তেমন কিছুই ওয়ার্ক করে নাই।

রাইটার হিসেবে আমি ‘উৎসব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দারুন হিট হবার পরেও বলেছিলাম, স্বাধীন নিজের বক্সে নিজেই আটকে যাচ্ছেন, যেটা লং রানে বিরক্তির সৃষ্টি করবে। আমার মনে হয়, এখন তাই হচ্ছে। ডায়লগে মেটাফোর, কম্পারিজন, হিউমার, রিলেটেবল রেফারেন্স কিংবা পাঞ্চ কার না ভাল লাগে! সবগুলাই কিন্তু অলংকার। সমস্যা হলো, সৌন্দর্যের জন্য আমরা অর্নামেন্টস পরি নাকি অর্নামেন্টস দিয়ে ভরে রাখলেই সৌন্দর্য বাড়ে! অতিকথন, মাত্রাতিরিক্ত কম্পারিজন আর কাউন্টার রেফারেন্স সিরিজটাকে বিরক্তিকর বানিয়ে ছেড়েছে। মূল দুই চরিত্র জহির আর সামিউলের ডায়লগ হোক, কিংবা পাকনামিতে ভরা সামিউলের ভাগ্নের সিকুয়েন্স হোক কিংবা একজন ইমিগ্রেশন পুলিশ, জার্নালিস্ট বা মাফিয়াদের ল্যাস্পেন্সার হোক সবাই একই টোনে কথা বলছে, রেফারেন্স দিচ্ছে, হিউমার ক্রিয়েট করছে, মেটাফোর দিচ্ছে। ইনসেইন ডিস্টার্বিং!
গল্পের ওয়ান লাইনার খুব সিম্পল। সিরিজ বানাতে ফ্যামিলি ক্রাইসিস আর জার্নালিজম ডিফিকাল্টির বাইরে তেমন কিছু এক্সপ্লোর করা হয় নাই। মূল দুই চরিত্রের বকবকানি বাদে সাইড এক্টরগুলোর বিল্ড আপও রাখে নাই তেমন। তাছাড়া গল্পের ফিনিশিং খুব আহামরি না, ভেরি অর্ডিনারি! খুব সম্ভব ‘হেডলাইন’ ফিল্ম নয়ারের সবচেয়ে দূর্বল কাজ।
ইয়াশ, অপূর্ব এভারেজ। বিন্দুর ক্যারেক্টারটা চ্যালেঞ্জিং তবে বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। সারিকার কনফ্লিক্টিং স্ত্রীর ক্যারেক্টার সিরিজেও কনফিউজিং। ভাল ছিল ফারহানা হামিদের ক্যারেক্টরটা, যদিও প্রেগন্যান্ট হিসেবে প্রায়ই পেটের দিকে খেয়াল রাখতে ভুলে গেছেন। অতিথি চরিত্রে সারপ্রাইজিং কাস্ট ভাল ছিল।
রেটিং: ৩/১০





