Select Page

চক্কর ৩০২: গল্পই নায়ক

চক্কর ৩০২: গল্পই নায়ক

কিছু কিছু ছবি নির্মিত হয় যেখানে গল্পই নায়কে পরিণত হয়। তারকা সেখানে এক বা একাধিক থাকতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পই নায়ক হয়ে ওঠে। ‘চক্কর ৩০২’ তেমন ছবিই হয়ে উঠেছে।

শরাফ আহমেদ জীবন নামটি নাটকে ও অভিনয়ে পরিচিত নাম। তিনি প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে নাম লেখালেন। ছবির নাম ‘চক্কর ৩০২’। তিনি ছবির নামকরণের পেছনেও আইনি একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা ৩০২ ধারার সাথে সম্পৃক্ত। এদিক থেকে ক্রিয়েটিভিটির পরিচয়ই দিয়েছেন।

‘চক্কর ৩০২’ ছবিটি ওভারঅল একটি এনজয়অ্যাবল থ্রিলারে পরিণত হয়েছে। ছবিতে স্ট্রং একটা গল্প যেমন আছে এর পাশাপাশি ইমোশন, কমেডি, টুইস্ট, চরম পরিণতি সবকিছুই আছে। পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবন তুলনামূলকভাবে সবকিছুর মিশ্রণে একটি এনজয়অ্যাবল ছবি উপহার দিয়েছেন। কনটেন্টের জোর বলতে যা বোঝায় এ ছবিতে তা আছে।

ছবির গল্প আপাতদৃষ্টিতে সহজ। বন্ধুত্বের গল্প এবং সেখান থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। এর পেছনে কে দায়ী সেটি খুঁজতে ছবির শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করাতে পেরেছেন পরিচালক।

ছবিতে অনেক অভিনয়শিল্পীর সমাবেশ ঘটেছে যারা অভিনয়কে ধারণ করে। সবার জন্যই যথেষ্ট স্পেস আছে অভিনয়ে। পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবন চরিত্র বণ্টনেও সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।
মোশাররফ করিম এ ছবির কেন্দ্রীয় অভিনেতা। তার কমেডিযুক্ত সংলাপ, পরিস্থিতি বিবেচনায় সিরিয়াস হয়ে ওঠা, ফ্যামিলি সেন্টিমেন্ট মেইনটেইন করা সবকিছুতেই দারুণ একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে। মোশাররফের সহযোগী চরিত্রে শাশ্বত দত্ত প্রথমদিকে সিরিয়াস পরেরদিকে ইমোশনাল একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে। মৌসুমী নাগের চরিত্রটি সবচেয়ে ইমোশনাল এবং তার কান্নার অভিনয় হার্ট টাচিং। তারিন জাহানের চরিত্রটিও কঠিনকোমলের কম্বিনেশন দেখিয়েছে। রওনক হাসানের চরিত্রটি তার অভিনয় ও ব্যক্তিত্বকে ভালোভাবেই তুলে ধরেছে। কমেডি ভিলেনের চরিত্রে সুমন আনোয়ার বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। রিকিতা নন্দিনী শিমু বরাবরের মতোই ভালো অভিনয় উপহার দিয়েছে। অন্যান্য চরিত্রের কাছ থেকেও ন্যাচারাল অভিনয় আদায় করা হয়েছে।

কারিগরি দিকেও পরিচালক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ছবির বিজিএম ছিল দেখার মতো। থ্রিলারের জন্য যেমন বিজিএম দরকার আবার কমেডি, ইমোশনাল সিনে যেমন দরকার তেমনই ছিল। গানের মধ্যে ‘কাউয়া কমলা খাইতে জানে না’ এনজয়অ্যাবল। স্যাড ভার্সনের গানটি হার্ট টাচিং ছিল।

ছবির শেষ দৃশ্যে ‘চক্কর ৩০২’-এর সেকেন্ড পার্টের আভাস পরিষ্কার।

ঈদের বাজারে পুরোদস্তুর কমার্শিয়াল ছবি ছাড়া চলে না এমন মানসিকতা নিয়ে যারা আজও চলে তাদের জন্য ‘চক্কর ৩০২’ একটি পদক্ষেপ যেখানে কনটেন্টের জোরেই ছবি চলছে। পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবন দক্ষতার সাথে একটি পরিপূর্ণ মানসম্মত ছবি নির্মাণ করেছেন যে ছবিতে গল্পই নায়ক।

রেটিং – ৮/১০


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply