Select Page

চলচ্চিত্রে বৈশাখ

চলচ্চিত্রে বৈশাখ

পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব। মিলনমেলা। দেশীয় চলচ্চিত্রে এ উৎসব নিয়ে খুব কম কাজ হয়েছে অথচ এতবড় একটা উৎসব নিয়ে কাজ হওয়া উচিত অনেক। বাণিজ্যিক বা ভিন্নধারা দুই ধরনের চলচ্চিত্রেই এ উৎসব নিয়ে কাজের সুযোগ আছে।

আমাদের চলচ্চিত্রে পহেলা বৈশাখ উঠে এসেছে এমন কিছু ছবি নিয়ে এ আয়োজন..

মৌসুমী পরিচালিত ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ ছবিতে বৈশাখী গান আছে নায়করাজ রাজ্জাকের লিপে-

‘এই বৈশাখে লেখা প্রেমের চিঠি

নির্জনে পড়ে নিও

জ্যৈষ্ঠের কোনো গরম দুপুরে

তারই উত্তর দিও।’

গানের কথা ও সুর অসাধারণ। নায়করাজ রাজ্জাকের তানপুরা বাজানো আর অসাধারণ কিছু এক্সপ্রেশন আছে। গান শুনতে শুনতে হুমায়ুন ফরীদির মুগ্ধ চোখে তাকানোর সময়টা দারুণ। আর এর ফাঁকে মৌসুমী বৈশাখী সাজে সখীদের নিয়ে ব্যস্ত। কানামাছি খেলতে খেলতে গিয়ে পড়ে ফেরদৌসের কাছে। ফেরদৌস তখন মৌসুমীর ছবি তুলতে ব্যস্ত। মঙ্গল শোভাযাত্রা-র দৃশ্যও আছে গানে। গানটিতে দেখা যায় মৌসুমী মুড়ি, বাতাসাও খাচ্ছে। পহেলা বৈশাখের সাথে বাঙালি খাবারদাবারের যে নমুনা দেখা যায় সেটাও এ গানে ছিল। গানটিতে উৎসবের দারুণ একটা চিত্র মার্জিতভাবে ফুটে উঠেছে। গানের এ লাইনগুলোও দারুণ –

‘শ্রাবণ তোমার আকাশের মেঘ

ঝরো ঝরো হোক বৃষ্টি,

মেঘমল্লারে দুটি হৃদয়ের

ভালোবাসা হোক সৃষ্টি

আশ্বিনের কাশফুলের মতোই তুমি যে আমার প্রিয়।’

‘নারীর মন’ ছবিতে ‘জীবনে বসন্ত এসেছে’ গানটি বসন্তের কথা বললেও এ গানে অপ্রত্যাশিতভাবে বৈশাখের ছোঁয়া আছে। শাবনূরের গেটআপে বৈশাখী সাজ দেখা যায়। জীবনে নতুন বসন্ত এসেছে প্রেমের আনন্দে তার সাথে বাড়তি আবেশ ছিল বৈশাখী উৎসবের। রমনা বটমূলের গানের আয়োজনের দৃশ্যও দেখা যায়। বৈশাখে সাজে অনেকে দর্শক হয়ে গান শুনছে এমন দৃশ্যও আছে।

‘গহীনে শব্দ’ ছবিতে কুসুম শিকদার-কে দেখা যায় মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য চিত্রশিল্পের কাজে ব্যস্ত থাকতে। গান গায় আর কাজ করে তখন ইমন বলে-‘আপনার গানের গলা সুন্দর।’ কুসুম তখন মিষ্টি করে তাকায়। শোভাযাত্রায় ইমন, কুসুম শিকদারকে আনন্দ করতেও দেখা যায়। এ ছবিতেই শোভাযাত্রার পরিপূর্ণ দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

পহেলা বৈশাখের চিত্রশিল্পে মৃৎশিল্পের প্রভাব সবচেয়ে গভীরভাবে দেখানো হয়েছে ‘মৃত্তিকা মায়া’ ছবিতে।

বাঙালির সাংস্কৃতিক বন্ধনের সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ তাই চলচ্চিত্রে বৈশাখ নিয়ে আরো কাজ হওয়া উচিত।

সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা

শুভ নববর্ষ।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply