লুটতরাজের নেপথ্য গল্পদিতির গুরুত্ব কমিয়ে প্রধান নায়িকা হয়ে উঠেন মৌসুমী
মান্না অভিনীত ও প্রযোজিত এবং কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘লুটতরাজ’ সিনেমায় দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে ভাবা হয়েছিল অঞ্জু ঘোষকে। কিন্তু পরে মৌসুমী তার স্থলাভিষিক্ত হতে পাল্টে যায় চরিত্রটি, এমনকি প্রধান নায়িকা দিতি চরিত্রটির গুরুত্ব কমিয়ে দেয়া হয়।

১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লুটতরাজ’ ছিল মান্না-মৌসুমী জুটির প্রথম সিনেমা। হিট খেতাব পাওয়া সিনেমাটি নির্মিত কৃতাঞ্জলী চলচ্চিত্রের ব্যানারে। সিনেমাটির ‘অনন্ত প্রেম’ গানটির মাধ্যমে প্লেব্যাকে নিয়মিত হন ব্যান্ড আইকন আইয়ুব বাচ্চু।
অঞ্জু ঘোষকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া প্রসঙ্গে কাজী হায়াৎ সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সিনেমায় মান্নার বিপরীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে দিতিকে নেওয়া হয়, দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে অঞ্জু ঘোষকে নেওয়ার কথা প্রায় পাকা ছিল। অঞ্জুকে সাইনিং মানিও দেওয়া হয়েছিল। সে সময় মৌসুমীর কাছের একজন আমাকে এসে বলেন, অনুমতি পেলে মৌসুমীর সঙ্গে গল্পটি তিনি শেয়ার করতে চান। তখন আমি তাকে বলি, এই সিনেমায় ও মনে হয় না অভিনয় করতে রাজি হবে, তবু আলাপ করতে পারো। দুই দিন পর সে জানায়, মৌসুমী এ সিনেমাটা করতে চায়। তখন বিএফডিসির চার নম্বর ফ্লোরে মৌসুমী শুটিং করছিল। আমি সেখানে যাওয়ার পর দেখা হলে আমাকে ‘‘লুটতরাজ’’ সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছার কথা জানায়।’
সিনেমার গল্প নিয়ে কথা বলতে চাইলে কাজী হায়াৎকে থামিয়ে দেন মৌসুমী। এ নায়িকা বলেন, ‘গল্প আমার জানার দরকার নেই। আমি দ্বিতীয় নাকি তৃতীয় নায়িকা, তা–ও মুখ্য নয়। আমি কাজী হায়াতের সিনেমায় অভিনয় করছি, এটাই মুখ্য। আমি তৈরি আছি, কাল আমার বাবার কাছ থেকে শিডিউল নিয়ে আসবেন।’ এরপর মৌসুমীর বাবার কাছে সাইনিং মানি দিয়ে শিডিউল নিয়ে আসেন মান্না।

এমন এক সময় মৌসুমী সিনেমাটি করেন তখন তার ক্যারিয়ার নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিয়ে-মাতৃত্ব ও স্বামী ওমর সানীর সঙ্গে জুটির ভাঙনে অনেকটা টালমাতাল সময় পার করছিলেন তিনি। তখন রোমান্টিক নায়িকার ইমেজও ছিল পড়তির দিকে। কিন্তু তিনি কাজী হায়াতের সিনেমায় যেকোনো চরিত্র চাইলেও ঘটনা সেখানে থেমে যায়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, দিতিকে প্রধান নায়িকা করে সিনেমার শুটিং শুরু হলেও মাঝপথে ‘লুটতরাজ’–এর গল্পে পরিবর্তন আনেন কাজী হায়াৎ। দর্শক চাহিদার মাথায় রেখে মৌসুমীকে প্রধান নায়িকা চরিত্রে সুযোগ দেন তিনি। যাতে দিতি কিছুটা কষ্ট পেয়েছিলেন বলে মনে করেন এ নির্মাতা।
কাজী হায়াৎ বলেন, ‘তখন সিনেমার অর্ধেক অংশের শুটিং শেষ। একদিন দিতি আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘‘হায়াৎ ভাই, এই সিনেমারে নায়িকা কে? কে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে? একজন তো মারা যাবে, কোন নায়িকা বেঁচে থাকবে?” তখন আমি দিতিকে বললাম, আমার গল্প যাকে যেভাবে মারতে চায়, সেভাবেই হবে। আর ফিল্মের বর্তমান সিচুয়েশন অনুযায়ী, দর্শক কাকে প্রধান নায়িকা হিসেবে গ্রহণ করবে, তা দর্শকের বিষয়। তখন দিতি বলল, ‘‘কথা তো ছিল আমাকে জীবিত রাখবেন, আর মৌসুমী মারা যাবে।” আমি তখন বললাম না, আমার গল্পে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, তোমাকেই মরতে হবে। এই কথা শোনার পর দিতির মুখটা একটু মলিন হয়ে গিয়েছিল, এরপর ও বলল, “আচ্ছা ভাই ঠিক আছে”। এরপর আমি তাকে বললাম, তোমার কোনো আপত্তি আছে? ও বলল, “না ভাই, আমার কোনো আপত্তি নেই।”’

কাজী হায়াৎ ভেবেছিলেন দিতি হয়তো আর শুটিংয়ে আসবেন না। তাই কিছুটা চিন্তিত ছিলেন এ নির্মাতা। তাঁর কথায়, ‘আমি ভেবেছিলাম পরদিন শুটিংয়ে হয়তো দিতি আসবে না। কিন্তু কষ্ট পেলেও আমাকে ভুল প্রমাণ করে ও শুটিংয়ে এসেছিল।’






