ভারত নির্ভরতার খেসারত দিচ্ছে প্রিন্স
শাকিব খানকে নিয়ে আবু হায়াত মাহমুদ নির্মাণ করছেন ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বড় বাজেট ও শাকিব খানের সিনেমা মানেই যেন ভারতনির্ভরতা। ভারতের শুটিংয়ের পাশাপাশি অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ কারিগরি টিমে থাকে দেশটির প্রাধান্য। আজকাল এমনও দাবি করা হয়, এসব সিনেমা নির্মাণে বাংলাদেশি কলাকুশলীর ভূমিকা খুবই সামান্য।

আগামী ঈদুল ফিতরকে লক্ষ্য করে শাকিব খানকে নিয়ে আবু হায়াত মাহমুদ নির্মাণ করছেন ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। এখন অতিরিক্ত ভারতনির্ভরতাকে কেন্দ্র করে জটিলতায় ভুগছে সিনেমাটি, পূর্ব নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি শুটিং।
গত ডিসেম্বরে ভারতে প্রিন্স সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নির্মাতারা। ভারতে গিয়ে বিভিন্ন শুটিং স্পট রেকি করেন তারা। এ সময় ভারতীয় চিত্রগ্রাহক এবং ভারতীয় তারকাদের সঙ্গে দেখাবার গল্পে মেতে ছিলেন নির্মাতারা। পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে একের পর এক প্রতিবেদন।
নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে প্রিন্সের শুটিং। তার আগে প্রকাশ করা হবে সিনেমার ফার্স্ট লুক। কিন্তু এখনো সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হয়নি।
শাকিব খানের বিপরীতে সিনেমাটিতে দুই নায়িকার থাকার কথা। একজন তাসনিয়া ফারিণ নিশ্চিত হলেও দ্বিতীয় নায়িকা নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা। তবে শেষমেষ কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর নাম শোনা গেলেও তিনি একে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এও শোনা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কলকাতার কোনো নায়িকার পরিবর্তে দেশীয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে এই প্রজেক্টে যুক্ত করা হতে পারে।
গত ১৫ ডিসেম্বর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস থেকে জানানো হয়, এই সিনেমায় থাকবেন অভিনেতা এজাজুল ইসলাম। এরপর আর কোনো অগ্রগতি জানায়নি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, সিনেমায় অভিনয় করবেন বাংলাদেশ ও ভারতের অভিনয়শিল্পীরা। শুটিং হওয়ার কথা দুই দেশের বিভিন্ন লোকেশনে। কিন্তু এখনো শিল্পী ও কলাকুশলীদের ভিসা পাওয়া যায়নি। তাই আটকে আছে শুটিং। এদিকে ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে।
এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত কলকাতা দুই তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী এরই মধ্যে নির্মাতাদের ‘প্রিন্স’ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, রোজার ঈদে মুক্তি পাবে না প্রিন্স। মূলত শিল্পীদের ভিসা জটিলতার খবরে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
প্রিন্স সিনেমার নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আজকের পত্রিকাকপ জানান, ভারতের ভিসা না পেলেও দেশের কিছু অংশের শুটিং করা হবে। কাজ এগিয়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। নির্মাতারা এখনো আশাবাদী কয়েক দিনের মধ্যেই কেটে যাবে ভিসা জটিলতা। অনুমতি পেলেই যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের শিল্পীদের নিয়ে নির্ধারিত লোকেশনে শুটিং হবে। তার আগেই প্রকাশ করা হবে ফার্স্ট লুক।
জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ভারতের ভিসা না পেলে তৃতীয় কোনো দেশে শুটিংয়ের ভাবনাও আছে নির্মাতাদের। তবে এত অল্প সময়ে নতুন জায়গায় শুটিং পরিকল্পনা করা, শুটিং শেষে সম্পাদনাসহ পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে কি না—সেই অনিশ্চয়তাও থেকে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস থেকে জানানো হয়, প্রিন্স সিনেমা নিয়ে চারপাশে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, যা আদতে গুজব ছাড়া কিছু নয়। প্রিন্স টিম শুরু থেকেই তাদের বিভিন্ন আপডেট জানিয়ে এসেছে। চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা উতরে প্রিন্স টিম এগিয়ে যাচ্ছে। ৬ জানুয়ারি থেকে প্রিন্স টিম শুটিংয়ে যাচ্ছে এবং সুবিধামতো সময়েই ফার্স্ট লুক, পোস্টার প্রকাশ করা হবে। শাকিবিয়ানসহ বাংলা সিনেমার সকল ভক্ত অনুরাগীদের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের ভারতপন্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিক্ষোভের মুখে দেশটিতে পালিয়ে যায় ২০২৪ সালের আগস্টে। সেই থেকে ভারতে চলাচলে ক্ষেত্রে সমস্যা পড়ছেন বাংলাদেশীরা। এমনকি বাংলাদেশী উল্লেখ করে সঙ্ঘবদ্ধ হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভারতে।
খবর ছড়িয়েছে, প্রিন্স মুক্তি দেওয়া সম্ভব না হলে রোজার ঈদে আসবে শাকিব অভিনীত ‘সোলজার’। এটি পরিচালনা করছেন সাকিব ফাহাদ। ইতিমধ্যে এই সিনেমার বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। কিন্তু সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান কমিউনিকেশনে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, রোজার ঈদে সোলজার মুক্তি দেওয়া হবে কি না—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো তারা নেয়নি।






