Select Page

মাত্র তিন সপ্তাহে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে ওয়াশ আউট ঈদের সিনেমা

মাত্র তিন সপ্তাহে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে ওয়াশ আউট ঈদের সিনেমা

স্টার সিনেপ্লেক্স পুরো দেশের সিনেমার অবস্থার প্রতিনিধিত্ব না করলেও ব্যবসা ও দর্শক চাহিদা বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে। এ কারণে বাংলা সিনেমা বিশেষ করে ঈদের সিনেমার সাফল্য বোঝার জন্য সেদিকে তাকিয়ে থাকেন বিশ্লেষকরা। সেই বিচারের এবারের ঈদুল ফিতরের সিনেমাগুলো এই মাল্টিপ্লেক্স চেইনে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে ওয়াশ আউট হয়েছে সিনেমাগুলো, যা একইসঙ্গে সারা দেশের ব্যবসারও প্রতিনিধিত্ব করে।

গত ১১ এপ্রিল ঈদুল ফিতরে সারা দেশে ১১টি সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে রেকর্ড ৮টি সিনেমা সিনেপ্লেক্সে স্থান পায়। এর মধ্যে গ্রিনকার্ডের মতো দু-একটা ছবি সপ্তাহ পার না করেই নেমে যায়। অন্যদিকে শুরুতে মিশুক মনির ‘দেয়ালের দেশ’ সবচেয়ে বেশি শো পেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা না করায় কয়েক দিনের মাথায় শো কমে যায়।

ধারণা করা হয়েছিল, হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘রাজকুমার’ ও ‘দেয়ালের দেশ’-এর মধ্যে তুমুল লড়াই হবে। কিন্তু দ্বিতীয় সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা না করায় লড়াই জমেনি। আবার সব বিচার বিশ্লেষণেও ‘রাজকুমার’-এর ব্যবসাও প্রত্যাশিত নয়। এর চেয়ে ‘ওমর’ বা ‘জ্বীন টু’ ভালো সাড়া পেয়েছে। তবে তৃতীয় সপ্তাহের পর আর শো না পাওয়া থেকে প্রতীয়মান হয় ঈদের ছবিগুলো ব্যবসায়িক যোগ্যতা দ্রুতই হারিয়েছে। অবশ্য ঈদের প্রথম সপ্তাহে সিনেপ্লেক্স সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য থেকে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

এ ঈদে সিনেপ্লেক্সে সবোর্চ্চ শো পেয়েছে ‘রাজকুমার’, সর্বমোট ২৭০টি শো। যা শাকিব খানের এর আগের সিনেমা ‘প্রিয়তমা’র চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম। সিনেমাটি কয়েক মাসে ৭১০টির মতো শো পেয়েছিল। এছাড়া গত বছর সিনেপ্লেক্সের সবচেয়ে আয়কারী বাংলা সিনেমা ছিল ‘সুড়ঙ্গ’, রায়হান রাফী পরিচালিত ও আফরান নিশো অভিনীত সিনেমাটি পেয়েছিল এক হাজারের বেশি শো! সব মিলিয়ে ‘সুড়ঙ্গ’-এর আয় তো দূরের কথা ‘প্রিয়তমা’কেও ছুঁতে পারেনি ‘রাজকুমার’।

ঈদের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে সিনেপ্লেক্সে উঠছে একাধিক হলিউড সিনেমা। যার মধ্যে ক্রিস্টোফার নোলানের দুটি সিনেমার রি-রিলিজ রয়েছে। বাংলা সিনেমার মধ্যে স্থান পেয়েছে মোহাম্মদ ইকবালের ‘ডেডবডি’ ও বদরুল আনাম সৌদের ‘শ্যামাকাব্য’।

মাল্টিপ্লেক্সের ওয়েবসাইটে সাধারণত একটি শোতে কী পরিমাণ দর্শকের সমাগম রয়েছে তা ট্র্যাক করা যায়, যদি প্রচারের কারণে প্রযোজকরা কৃত্রিমভাবে সিট বুক না করেন। একই সঙ্গে আয় ও প্রযোজকের হিস্যার তুলনামূলক চিত্রও দেখা যায়। সে হিসেবে ঈদের কোনো সিনেমা মাল্টিপ্লেক্সে সফল নয়। কারণ এ সিনেমাগুলো প্রযোজকদের বড় কোনো হিস্যা দিতে ব্যর্থ। তবে সনাতনী সিঙ্গেল স্ক্রিনে এককালীন রেন্টাল সিস্টেমের কারণে অনেক সময় সিনেমা হল মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রযোজকরা লাভবান হন। তবে তাতে একটি সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত হয় না।


মন্তব্য করুন