Select Page

মূল থেকে পিছিয়ে কিন্তু উপভোগ্য ‘ক্যাপ্টেন খান’

মূল থেকে পিছিয়ে কিন্তু উপভোগ্য ‘ক্যাপ্টেন খান’

তামিল নায়ক সুরিয়া-র ছবি ‘আন্জান’-এর রিমেক ঈদের ছবি ‘ক্যাপ্টেন খান।’ শাকিব খানের নামের সাথে যোগসূত্র রেখে ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘ক্যাপ্টেন খান।’ পরিচালকের বুদ্ধি ঠিক আছে। পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন ডিজিটাল বাণিজ্যিক ছবিতে জায়গা করেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। ‘রক্ত’ ছবিটা তার ভালো কাজ ছিল। ‘ক্যাপ্টেন খান’-এ রিমেকের জায়গায় মূল তামিল থেকে পিছিয়ে তার নির্মাণ তবে ছবি যথেষ্ট এনজয়অ্যাবল।

ঈদের ছবি মানেই শাকিব খানের একটা আধিপত্য থাকে। মান্না পরবর্তী ডিজিটাল ঢালিউডে এটাই গত এক দশকের নিয়মিত ঘটনা। এবারের ঈদে ৩০০ সিনেমাহলের মধ্যে ইতোমধ্যে ‘ক্যাপ্টেন খান’ ১৬৭ হলে মুক্তি পেয়ে নতুন কিছু করেছে। এগুলো ছবির আনুষঙ্গিক বিষয়।

বাণিজ্যিক ছবির একজন লং টার্ম নায়কের সিনেমাহল রেসপন্সে দর্শক করতালি দেবে, শিস ফুঁকোবে এটা সাধারণ ঘটনা। শাকিব খানের জনপ্রিয়তায় এটা দুর্দান্তভাবেই ঘটে প্রমাণটা ‘ক্যাপ্টেন খান’-এ মিলেছে।

মূল তামিল থেকে ছবি টেকনিকের দিক থেকে পিছিয়ে। বলার সময় অনেকের মনে হতে পারে নেগেটিভিটি আগে কেন বলা হচ্ছে! যেহেতু রিমেক মূলের সাথে কমপেয়ারে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। তাই সীমাবদ্ধতা আগে চলে আসছে। ছবি দেখতে গিয়ে তামিলটাতে যেভাবে থ্রিলিং আমেজ পাওয়া যায় বাংলায় ততটা পাওয়া যায়নি। স্পেশালি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মিশ্রভাবে ব্যবহার হয়েছে। কোথাও পারফেক্ট তো কোথাও নাজুক। ফ্রেম-টু-ফ্রেম কপির পরেও কোথাও একটা কমতি রয়ে গেছে।

মূলে তামিল নায়ক সুরিয়ার ক্যারেক্টারে রিমেকে শাকিব খান অভিনয় করেছে। সুরিয়ার অভিনয়ক্ষমতা দুর্দান্ত তার সাথে আছে অসাধারণ বডি ফিটনেস। শাকিব খান অভিনয় অসাধারণ করলেও বডি ফিটনেসে পিছিয়ে ছিল। তার মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা বিশেষ করে ফাইটিং-এ অড দেখিয়েছে। সুরিয়ার মতো পারফর্ম শাকিব করেনি কিন্তু তার নিজের মতো অসাধারণ ছিল। শাকিবকে চশমা পরা ক্যাপ্টেন খানের সাসপেন্স মোমেন্টে ব্যক্তিত্ববান লেগেছে। প্রথমদিকের একটা সিকোয়েন্সে শাকিবের ডাবিং প্রব্লেম ছিল।

শাকিবের পাশাপাশি রিমেক অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে দুর্বল পারফরম্যান্স ছিল। যেমন – অমিত হাসান, ডন, শিবা সানু। অমিত ভিলেন অ্যাটিচিউডে কৃত্রিম দাড়ির লুকে মানায়নি আবার শিবা সানুকেও লাউড অ্যাকটিং করতে দেখা গেছে বেশি। ডন অ্যাজ ইউজুয়্যাল অভিনয় করেছে। তামিলে সহযোগী ভিলেনে তাদের ভূমিকায় যারা ছিল তারা এমনটি করেনি, তারা পরিমিত অভিনয় করে ছবিটিকে ওভারঅল মানসম্মত করেছে। গেটআপে পারফেক্ট ছিল না সাদেক বাচ্চুও। দাড়ির মেকাপ স্ট্রং ছিল না তবে তার অভিনয় চমৎকার এবং সেটা অবশ্যই সিনিয়র আর্টিস্টের কারণে।

ছবির অ্যাকশন পার্ট বেশি এবং এখানে শাকিব খান ও মিশা সওদাগর ছবির অভিনয়ের প্রতি সুবিচার করেছে তবে ফেস-টু-ফেস যখন ছিল। মিশা সওদাগরের লাউড অ্যাকটিং থাকলেও পরিস্থিতিমতে খারাপ লাগেনি। ফিনিশিং-এ শাকিব খান ও মিশার অভিনয় অনবদ্য ছিল। ছবির বেস্ট পার্ট ছিল ফিনিশিং-এ তাদের দুজনের পাল্লা দেয়া অভিনয়। ছবির ফাইটিং-এ এডিটিং দুর্বলতা চোখে পড়েছে। স্ট্যান্টের সময় ব্যবহৃত দড়ি বাদ দেয়ার এডিটিং পারফেক্ট ছিল না কিছুটা বোঝা গিয়েছে।

ছবির চমক ছিল সম্রাট। বিশেষ ভূমিকায় তাকে রাখা হয়েছে। বেশ স্মার্ট লেগেছে সম্রাটকে যদিও অভিনয়ে নিজের গন্ডির বাইরে যেতে পারেনি। শাকিব খানের সাথে অভিনয়ে সম্রাটকে বেগ পেতে হয়েছে। অবশ্য খারাপ হয়নি কারণ এ ধরনের সুযোগ আসলে নিজের অভিনয়ের গ্যাপটা পূরণ করতে পারবে সম্রাট।

নায়ক-নায়িকার রোমান্সের পার্ট কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তি আনবে। শাকিব খান-বুবলি জুটির পর্দা রসায়ন খারাপ না এ ছবিতে। বুবলির মেকাপ বেশি ছিল সব সিকোয়েন্সে। অভিনয়ে সম্রাটের মতোই নিজের গন্ডির বাইরে যেতে পারেনি। চটপটে সংলাপ বলার ক্ষেত্রে সে ভালো কিন্তু সিরিয়াস অভিনয়ে যথেষ্ট কাঁচা।

ছবির গান মনে রাখার মতো না। এনজয় করার মতো।

লোকাল ছবি হয়েও ছবিতে টলিউডি কাস্টিং ছিল। এদের মধ্যে আশীষ বিদ্যার্থী ও বাকি দুজন মিলে সবাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল।

‘ক্যাপ্টেন খান’ ঈদের সেরা ছবি কিনা অন্য ছবিগুলো না দেখে বলা যাচ্ছে না। ছবিটি নির্মাণে মূল তামিল থেকে পিছিয়ে আছে। সম্ভবত তাড়াহুড়ো করা হয়েছে স্যুটিং-এ মনোযোগী দর্শক বুঝতে পারবে। শাকিব খানের হিরোইজম ও ফ্যানবেজ দিয়ে ছবি হিট হয়ে যেতে পারে কিন্তু মূল তামিল থেকে পিছিয়ে থেকেই সেটা হবে।


মন্তব্য করুন