Select Page

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত হয় ‘মুজিব ভাই’ ও ‘খোকা’

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত হয় ‘মুজিব ভাই’ ও ‘খোকা’

মুজিব ভাই’ নামের একটি এনিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ‘খোকা’ নামের সিরিজ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা

ডিজিটাল রূপান্তরের নামে সরাসরি আওয়ামী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে মর্মে শ্বেতপত্রে তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ফরমেটের চলচ্চিত্রও।

শ্বেতপত্র অনুসারে, ‘মুজিব ভাই’ নামের একটি এনিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ‘খোকা’ নামের সিরিজ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ‘মুজিব আমার পিতা’ প্রজেক্টে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। উন্নয়ন ৫০ বছর নামের আরেকটি প্রজেক্টের ব্যয় ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ৪৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্রের ১৩টি অধ্যায়ে আইসিটি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, এটুআইসহ রাষ্ট্রীয় একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, সিন্ডিকেশন ও আর্থিক লুটপাটের দলিলভিত্তিক তথ্য উঠে আসে।

শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনের ৪৩ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘তথ্য ১২’-তে বলা হয়েছে, ‘আইসিটি বিভাগ (আইসিটিডি) করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে অনুৎপাদনশীল দলীয় কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেছে। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ আইসিটি বিভাগের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হয়, যেমন অ্যানিমেশন সিরিজ “খোকা” এবং অ্যানিমেশন সিনেমা “মুজিব ভাই” নির্মাণ।’

শ্বেতপত্রে বলা হয়, ‘আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সঙ্গে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইসিটি তহবিল ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে সম্মিলিতভাবে মোট ৪,২১১.২২ লাখ (৪২ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার) টাকা ব্যয় করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য এ প্রচারণায় আরো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ক একটি প্রজেক্ট। এ বাবদ খরচ হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে শেখ রাসেল দিবসের প্রচারণায় সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটিতে ছিলেন-পিজিসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজওয়ান খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চৌধুরী মফিজুর রহমান, পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন, বুয়েট অধ্যাপক রিফাত শাহরিয়ার, ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ আলী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত ও সাংবাদিক মো. শরিয়ত উল্লাহ।


Leave a reply